সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

সাভারে এক ভয়ঙ্কর ‘সিরিয়াল কিলার’ গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম | 81 বার পড়া হয়েছে
সাভারে এক ভয়ঙ্কর ‘সিরিয়াল কিলার’ গ্রেফতার

সাভারে এক ভয়ঙ্কর ‘সিরিয়াল কিলার’ গ্রেফতার হয়েছে। নাম সাইকো সম্রাট। ইতিমধ্যে সে গত ৭ মাসে ৬টি খুনের দায় স্বীকার করেছে।

রীতিমতো গাঁ শিউরে উঠা এক ক্যারেক্টার। আমার মনে হয় সং্খ্যাটা আরও বেশী হতে পারে। ওর অতীত জীবন ঘাটলে বুঝা যাবে।

একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার ভবনেই নিজের ছোট্ট সংসারে ঘরে তুলেছিলো। আর এই সেন্টারে এতগুলো লাশের সন্ধান পাওয়া গেলো। অথচ ঐ কেউ এই লোকটিকে সন্দেহ করলো না। কারণ সে ভবঘুরে পাগল।

গ্রেফতারের দুদিন আগেও রাতে সম্ভবত কোন এক ভ্লগার/পুলিশ ঐ পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকে ভিডিও করতে থাকে। সেন্টারের একটি রুমে কিশোরী এক পাগল মেয়েকে ভাঙ্গা সোফায় ঘুমাতে দেখা যায়। মেয়েটি নিজেকে সাইকো সম্রাটের বোন বলে পরিচয় দেয়।

এমন সময় সাইকো সম্রাট আসে। কথাবার্তা এত সাবলীল, ভদ্র, মার্জিত। আইমিন, ঐ ভ্লগার যদি বুঝতে পারতো এই লোক একজন সিরিয়াল কিলার। তারা এই লোকের সাথে ঠাট্টা তামাশা করার সাহস করতো বলে মনে হয় না।

লোকটি কিলারকে চার্জ করে কিলার বললো, এই মেয়ে নাকি তোমার বউ? সে উত্তরে বললো, নাহ! এই মেয়েকে আমি চিনিনা। কোথা থেকে এসেছে জানিনা। তিনদিন ধরে এখানে থাকে। এখন আমি ওরে টর্চারও করতে পারি না, মারতেও পারি না। চলে যেতে বললেও যায় না। আমি আর কী করার। বাইরে থাকি, ওরে ভেতরে থাকতে দিয়ে। তবে এই মেয়েটা অসহায়। ওর বাবা মাকে খুঁজে দেওয়া দরকার।

ভিডিও ক্লিপ দেখে মনে হবে – কতটা ভদ্র এক ভবঘুরে পাগল এই সম্রাট। যে নারীদেরকে সম্মান করে। অসহায়দের প্রতি সহানুভূতি তার মধ্যে।

নিউজ পড়ে আমি এখনও সিওর না যে, বোন দাবী করা পাগল কিশোরীকে পরবর্তীতে হত্যা করেছে কীনা। খুব সম্ভবত মেরেই ফেলেছিলো।

কারণ সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো ঐ ভবনে কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায়।

সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে একটি লাশকে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে এক ব্যক্তি। পরিত্যক্ত সেই কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে। নিথর সেই লাশের দুটো হাত এদিক সেদিক দুলছে। হয়তো পুড়িয়ে ফেলার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। গাঁ হিম করা সেই দৃশ্য।

পুলিশ ততক্ষণে চিনে ফেলেছে। এই খুনি আর কেউ নয়। ভবঘুরে সাইকো সম্রাট। যাকে এলাকার সবাই চিনে।

ভবনের একদিকে আর্মি ক্যাম্প, অন্যদিকে পুলিশ স্টেশন। অথচ একই স্থানে ৭ মাসে ৬টি খুন হওয়ার পর প্রশাসনের হাতে যখন কেউ গ্রেফতার হয়। তখন সত্যিই এটি মেনে নেওয়া যায় না।

হয়তো খুন হওয়া ব্যক্তিরা ভবঘুরে, ভিক্ষুক শ্রেণীর ছিলো। যার কারণে তাদের হত্যার বিচারের দাবীতে তেমন কেউই এগিয়ে আসেনি। সেভাবে আমলেও নেয়নি।

তবে এটাও সত্যি যে –

আপনি সেসকল খুনিদেরকে সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন। যাদের খুনের জন্য একটি বিশেষ কারণ থাকে। যেমন রাজনৈতিক কারণ, প্রেম- ভালোবাসা, পরকীয়া, কিডন্যাপ ইত্যাদি।

কিন্তু একজন সিরিয়াল কিলার যার খুনের কোন বিশেষ মোটিভ নেই। মানুষকে মারতে ভালো লাগে বলেই খুন খারাবি করে বেড়ায়। এরা আপনার আশেপাশেই ঘুরে বেড়াবে অথচ এদেরকে আপনি চিহ্নিত হিমশিম খাবেন।

ইতিহাসে এমনও সিরিয়াল কিলার আছে। যারা কয়েক ডজন মানুষ মেরেছে অথচ ধরা খায়নি। আবার এমনও মানুষ আছে যারা প্রায় শত মানুষ মেরেছে। ৩০-৪০ বছর স্বাভাবিক জীবন যাপন করার পর আধুনিক প্রযুক্তির কারণে গ্রেফতার হয়েছে।

এবার একটা গুরুত্বপূর্ণ কথায় আসি। আমাদের সমাজে রাস্তাঘাটে বহু ভবঘুরে, পাগল, সন্ন্যাসী টাইপের মানুষ আছে। এদেরকে পীর, মুর্শিদ বানিয়ে পূজো করে ফেলি। এদেরকে সন্দেহের চোখে দেখলেও কেউ বলে বসে, ‘এদেরকে কিছু বলতে নেই। এরা নাকি আধ্যাত্মিক শক্তির লোক। কেউ কেউ বলে, ফেরেশতা নাকি এদের বেশ ধরে চলাচল করে।’

যারা এসব বলে, ফাক ইউ ম্যান! এদের একেকটার অতীত ঘাটলে দেখা যাবে বড় বড় ক্রাইম ঘটিয়েছে, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এই ভং ধরে বেড়ায়।

রসু খাঁর কথা আপনাদের মনে আছে? বাংলাদেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার। ১১জন নারীকে নিষ্ঠুরভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলো। হত্যার আগে করতো ধর্ষণ। এরপর খালে ভাসিয়ে দিতো। ওর ভিক্টিমদের প্রায় অধিকাংশই ছিলো গার্মেন্টস কর্মী। ইচ্ছে ছিলো ১০১টি খুন করার।

১০১টি পূর্ণ হলে মাজারের সন্ন্যাস জীবন যাপনের স্বপ্ন ছিলো। তাহলে আর কেউ তাকে ধরতে পারবে না। কিন্তু তার ১০১টি খুনের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

২০০৯ সালে অত্যন্ত ঢাক ঢোল পিটিয়েই গ্রেফতার করা হয়েছিলো রসু খাঁকে। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডও দিয়েছে। কিন্তু দেখুন আমাদের বিচার বিভাগের রসিকতা – আজ পর্যন্ত রসু খাঁকে ফাঁসিতে ঝুলায়নি। তাকে ১৭ বছর ধরে সরকারী টাকায় তিনবেলা খাওয়াচ্ছে।

২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া ঐ শিশুটি আগামী বছর ভোটার হবে। কিন্তু রসু খাঁর ফাঁসি হবে না। কারণ আমাদের দেশে অপরাধীর বড়জোর মৃত্যুদণ্ড রায়ই দেওয়া হয়। ফাঁসি আর কার্যকর হয় না।

বহুবার লিখেছিলাম, এই সংখ্যাটা। হয়তো আপনারা বিরক্তও হোন কিন্তু সত্যিটা এটাই। ৫০ বছরে ফাঁসি হয়েছে মাত্র প্রায় ৫০০টি। গড়ে বছরে ৫টি। মাসে খুন হয় যেখানে ৩০০টি।

আর এভাবেই অপরাধীদেরকে রাষ্ট্র পুষে লালন পালন করে যুবক থেকে বৃদ্ধ করে। অতঃপর হয়তো ছেড়ে দেয় কিংবা জেলেই স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে।

সিরিয়াল কিলার সাইকো সম্রাটের বয়স হয়তো ৩৫-৪০ এর মতো। হয়তো মৃত্যুদণ্ড রায়ও হবে। তবে রাষ্ট্র তাকে পুষবে। কিন্তু ফাঁসি পর্যন্ত আর গড়াবে না বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

শহরে এমন বহু পরিত্যক্ত ভবন, ফ্লাইওভারের চিপা চাপায় থাকা সুড়ঙ্গে অপরাধীরা আস্তানা বানিয়ে থাকে। রাত হলে বেরিয়ে পড়ে অপরাধ করতে। এসব প্রশাসন দেখেও দেখে না। সংস্কার করে না। নিরাপদ করে না।

যার কারণে প্রাণ হারাতে হয়। আর অপরাধীও থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

এনামুল হক রাশেদীঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম
কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে।

কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ

দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে।
তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ।
মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল
বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

নোয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী: প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম
নোয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মো. খোকন (৩২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি আগুনে পোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গতকাল রোববার ৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রী পোল সংলগ্ন ঝোঁপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত খোকন ওই এলাকার হোসেন আলী পাটোয়ারী বাড়ির মো. ফারুক হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খোকন পেশায় একজন দিনমজুর ছিল। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে খোকন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯০) করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দুর্বৃত্তরা অন্যত্র তাকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে লাশ চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রী পোল সংলগ্ন ঝোঁপের মধ্যে ফেলে যায়। পরে রোববার রাতে স্থানীয়রা ঝোঁপের মধ্যে অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ওসি আব্দুল মোন্নাফ আরও বলেন, লাশটি পোড়ানো মনে হচ্ছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পেলে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে এটি প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ড বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

মোঃ ফজলুল কবির গামা প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

মহেশপুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি কার্যালয় চত্বরে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পাট, তিল, মুগ ও আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, প্রেসক্লাব মহেশপুরের সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সমর কুমার মিত্রসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

বিতরণকৃত উপকরণের বিবরণ: উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে নিম্নোক্ত হারে বীজ বিতরণ করা হয়েছে:
* আউশ ধান: ১২ হাজার কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে।
* মুগ ডাল: ৭০০ জন কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে।
* পাট: ৬০০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে।
* তিল: ২০০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে।

বীজের পাশাপাশি প্রতিটি কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে ১০ কেজি ডিএপি (DAP) এবং ৫ কেজি এমওপি (MOP) সার প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বর্তমান সরকারের কৃষি বান্ধব নীতির ফলে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছেন। এই প্রণোদনা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সহায়ক হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, সঠিক সময়ে উন্নত মানের বীজ ও সার ব্যবহারের মাধ্যমে উপজেলায় দানা জাতীয় শস্য ও অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষকরা যাতে এসব উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন, সে লক্ষে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে।

error: Content is protected !!