সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

খাদিজা (রাঃ)-এর বিদায়

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩১ এএম | 151 বার পড়া হয়েছে
খাদিজা (রাঃ)-এর বিদায়

🕊️ মক্কার সেই কঠিন সময়, যখন চারদিকে শুধু হাহাকার। ইসলামের প্রথম ছায়াদানকারী হযরত খাদিজা (রাঃ) মৃত্যুশয্যায়। তাঁর শিহরে বসে আছেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব, তাঁর প্রিয় স্বামী মুহাম্মদ ﷺ।
১. খাদিজার অন্তিম আরজি
খাদিজা (রাঃ) অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে রাসূল ﷺ-এর দু’টি হাত ধরে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আমার শেষ দু’টি কথা রাখুন। আমার কাফনটি যেন আপনার গায়ের জুব্বা দিয়ে হয়। আর যখন আমাকে অন্ধকার কবরে রাখা হবে, দয়া করে আমার সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে একা ফেলে যাবেন না।”
প্রিয়তমা স্ত্রীর এমন আকুতি শুনে রাসূল ﷺ-এর চোখ অশ্রুশিক্ত হয়ে উঠল। তিনি কথা দিলেন। কিছুক্ষণ পর ইসলামের ইতিহাসের সেই মহান মহীয়সী নারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
২. কবরের নির্জনতায় ও জিবরাঈল (আঃ)-এর আগমন
গোসল ও জানাজা শেষে রাসূল ﷺ নিজের জুব্বা দিয়ে খাদিজা (রাঃ)-কে কাফন পরালেন। নিজ হাতে তাঁকে কবরে নামিয়ে দিলেন। মাটি দেওয়া শেষ হলো, সবাই চলে গেল, কিন্তু রাসূল ﷺ স্থির হয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল।
হাবিবের এমন বিমর্ষ অবস্থা দেখে মহান আল্লাহ জিবরাঈল (আঃ)-কে পাঠালেন। জিবরাঈল (আঃ) এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! কেন আপনি এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন?” রাসূল ﷺ উত্তর দিলেন, “হে জিবরাঈল! আমি খাদিজাকে কথা দিয়েছি তাঁর সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না।”
তখন জিবরাঈল (আঃ) এক মহাবিস্ময়কর সুসংবাদ দিলেন:
“হে আল্লাহর রাসূল! আপনি নিশ্চিন্ত হোন। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—খাদিজার কবরে মুনকার-নাকির যে প্রশ্ন করবে, তার জবাব স্বয়ং আল্লাহ আরশে আজিম থেকে দিয়ে দেবেন।” (সুবহানাল্লাহ)
যাঁকে স্বয়ং আল্লাহ সালাম পাঠাতেন, সেই খাদিজা (রাঃ) যদি কবরের আজাবকে ভয় পান, তবে আমাদের অবস্থান কোথায়?
৩. আয়িশা (রাঃ)-এর চোখে নবীর কান্না
খাদিজা (রাঃ)-এর ইন্তেকালের অনেক বছর পরও রাসূল ﷺ তাঁকে ভুলতে পারেননি। মা আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, প্রায় রাতেই তাঁর ঘুম ভেঙে যেত। তিনি দেখতেন রাসূল ﷺ জায়নামাজে বসে অঝোরে কাঁদছেন আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন:
“হে আল্লাহ! কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে, যখন বাবা ছেলেকে চিনবে না, স্বামী স্ত্রীকে চিনবে না, সেই ভিড়ের মাঝেও আমি যেন আমার খাদিজাকে চিনতে পারি। আমাকে তাঁর কথা ভুলিয়ে দেবেন না।”
গল্পের শিক্ষা:
নিষ্কাম ভালোবাসা: প্রকৃত ভালোবাসা কেবল পার্থিব নয়, তা কবরের অন্ধকার এবং কেয়ামতের ময়দান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
খাদিজা (রাঃ)-এর মর্যাদা: দ্বীনের জন্য খাদিজা (রাঃ)-এর ত্যাগ এত বেশি ছিল যে, আল্লাহ স্বয়ং তাঁর কবরের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।
মৃত্যু চিন্তা: একজন জান্নাতী নারী হয়েও খাদিজা (রাঃ) কবর নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, যা আমাদের পরকাল সম্পর্কে সচেতন হওয়ার শিক্ষা দেয়।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!