খাদিজা (রাঃ)-এর বিদায়
🕊️ মক্কার সেই কঠিন সময়, যখন চারদিকে শুধু হাহাকার। ইসলামের প্রথম ছায়াদানকারী হযরত খাদিজা (রাঃ) মৃত্যুশয্যায়। তাঁর শিহরে বসে আছেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব, তাঁর প্রিয় স্বামী মুহাম্মদ ﷺ।
১. খাদিজার অন্তিম আরজি
খাদিজা (রাঃ) অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে রাসূল ﷺ-এর দু’টি হাত ধরে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আমার শেষ দু’টি কথা রাখুন। আমার কাফনটি যেন আপনার গায়ের জুব্বা দিয়ে হয়। আর যখন আমাকে অন্ধকার কবরে রাখা হবে, দয়া করে আমার সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে একা ফেলে যাবেন না।”
প্রিয়তমা স্ত্রীর এমন আকুতি শুনে রাসূল ﷺ-এর চোখ অশ্রুশিক্ত হয়ে উঠল। তিনি কথা দিলেন। কিছুক্ষণ পর ইসলামের ইতিহাসের সেই মহান মহীয়সী নারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
২. কবরের নির্জনতায় ও জিবরাঈল (আঃ)-এর আগমন
গোসল ও জানাজা শেষে রাসূল ﷺ নিজের জুব্বা দিয়ে খাদিজা (রাঃ)-কে কাফন পরালেন। নিজ হাতে তাঁকে কবরে নামিয়ে দিলেন। মাটি দেওয়া শেষ হলো, সবাই চলে গেল, কিন্তু রাসূল ﷺ স্থির হয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল।
হাবিবের এমন বিমর্ষ অবস্থা দেখে মহান আল্লাহ জিবরাঈল (আঃ)-কে পাঠালেন। জিবরাঈল (আঃ) এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! কেন আপনি এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন?” রাসূল ﷺ উত্তর দিলেন, “হে জিবরাঈল! আমি খাদিজাকে কথা দিয়েছি তাঁর সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না।”
তখন জিবরাঈল (আঃ) এক মহাবিস্ময়কর সুসংবাদ দিলেন:
“হে আল্লাহর রাসূল! আপনি নিশ্চিন্ত হোন। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—খাদিজার কবরে মুনকার-নাকির যে প্রশ্ন করবে, তার জবাব স্বয়ং আল্লাহ আরশে আজিম থেকে দিয়ে দেবেন।” (সুবহানাল্লাহ)
যাঁকে স্বয়ং আল্লাহ সালাম পাঠাতেন, সেই খাদিজা (রাঃ) যদি কবরের আজাবকে ভয় পান, তবে আমাদের অবস্থান কোথায়?
৩. আয়িশা (রাঃ)-এর চোখে নবীর কান্না
খাদিজা (রাঃ)-এর ইন্তেকালের অনেক বছর পরও রাসূল ﷺ তাঁকে ভুলতে পারেননি। মা আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, প্রায় রাতেই তাঁর ঘুম ভেঙে যেত। তিনি দেখতেন রাসূল ﷺ জায়নামাজে বসে অঝোরে কাঁদছেন আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন:
“হে আল্লাহ! কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে, যখন বাবা ছেলেকে চিনবে না, স্বামী স্ত্রীকে চিনবে না, সেই ভিড়ের মাঝেও আমি যেন আমার খাদিজাকে চিনতে পারি। আমাকে তাঁর কথা ভুলিয়ে দেবেন না।”
গল্পের শিক্ষা:
নিষ্কাম ভালোবাসা: প্রকৃত ভালোবাসা কেবল পার্থিব নয়, তা কবরের অন্ধকার এবং কেয়ামতের ময়দান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
খাদিজা (রাঃ)-এর মর্যাদা: দ্বীনের জন্য খাদিজা (রাঃ)-এর ত্যাগ এত বেশি ছিল যে, আল্লাহ স্বয়ং তাঁর কবরের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।
মৃত্যু চিন্তা: একজন জান্নাতী নারী হয়েও খাদিজা (রাঃ) কবর নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, যা আমাদের পরকাল সম্পর্কে সচেতন হওয়ার শিক্ষা দেয়।














