তিতাসের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা
গ্যাস লাইনের অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে বাধা
ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি: রাজধানীর শনির আখড়া এলাকার পলাশপুরে উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ গ্যাস লাইন উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি সূত্র জানায়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োজিত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫ নম্বর রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, দনিয়া টিবিএস থেকে ঢাকা শহরের সিটি সেন্ট্রাল ডিআরএসগামী ১৬ ইঞ্চি x ১৫০ পিএসআইজি উচ্চচাপ মেইন লাইনের সঙ্গে অবৈধভাবে ২ ইঞ্চি লাইনের সংযোগ নিয়ে আবাসিক স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, উচ্চচাপ বিতরণ লাইন থেকে এভাবে অবৈধ সংযোগ নেওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ বিস্ফোরণসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি বিবেচনায় অবৈধ লাইন উচ্ছেদে উদ্যোগ নেওয়া হলে অভিযানে অংশ নেওয়া এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র্যাব ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধার মুখে পড়তে হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযানের সময় কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি জড়ো হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং অবৈধ লাইন উচ্ছেদ কার্যক্রমে সরাসরি বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা তিতাস গ্যাসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এছাড়া তিতাস গ্যাস কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় অবৈধ লাইন সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ না করেই অভিযান দলকে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়।
এমতাবস্থায়, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকার বাসিন্দাদের উচ্চচাপ বিশিষ্ট ১৬ ইঞ্চি x ১৫০ পিএসআইজি বিতরণ লাইন থেকে সংযুক্ত অবৈধ ২ ইঞ্চি লাইন থেকে গ্যাস ব্যবহার না করার জন্য কঠোরভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরনের অবৈধ সংযোগ থেকে কোনো দুর্ঘটনা বা জানমালের ক্ষতি হলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
একই সঙ্গে উচ্চচাপসহ সব ধরনের অবৈধ গ্যাস বিতরণ লাইন উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনগণ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।











