বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

দুই যুগে চিরকুট

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম | 59 বার পড়া হয়েছে
দুই যুগে চিরকুট

দুই যুগ পুরো করল চিরকুট। এই দুই যুগে ব্যান্ডটি বাংলা গানের ভান্ডারে যোগ করেছে ‘আহা রে জীবন’, ‘কানামাছি’, ‘মরে যাব’, ‘বন্ধু গো’, ‘কাটাকুটি’, ‘উধাও’, ‘একটা ছেঁড়া দিন’, ‘জাদুর শহর’, ‘দুনিয়া’, ‘এই শহরের কাকটাও জেনে গেছে’, ‘খাজনা’র মতো বেশ কয়েকটি আলোচিত গান। পেয়েছে দেশি-বিদেশি পুরস্কার ও সম্মাননা।
নতুন বছরও স্বীকৃতি দিয়ে শুরু হয়েছে। ৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের ২৫তম আসরে তৃতীয়বারের মতো সেরা ব্যান্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে চিরকুট। গত বছর প্রকাশিত ব্যান্ডের ভালোবাসা সমগ্র অ্যালবামের ‘দামি’ গানের জন্য এই পুরস্কার পায় তারা। এর আগে ৩ জানুয়ারি সিলেটে কনসার্ট দিয়ে নতুন বছর শুরু করে চিরকুট।
২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা সুমী, রাশিদ শরীফ শোয়েব ও পারভেজ সাজ্জাদ—এই তিনজন মিলে শুরু করেন চিরকুট। এরপর দুই যুগের পথচলায় অনেকে চলে গেছেন, অনেকে যুক্ত হয়েছেন। এই আসা-যাওয়ার মধ্যে একজনই এখনো দলটাকে আগলে রেখেছেন—তিনি সুমী।
কেন এই যাওয়া-আসা, জানতে চাইলে সুমী বলেন, ‘আসলে একটা ব্যান্ডে সবার মতাদর্শ সমান হয় না। অনেকে আসছেন, অনেকে চলে গেছেন। আগামীতেও অনেকে আসবেন। যত দিনই থেকেছেন, সবাই পরিবারের মতো থেকেছেন। শুরু থেকেই চিরকুট মিউজিশিয়ানের জন্য একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। শুধু মিউজিকই নয়, জীবনাচরণ, আইডিয়া, মূল্যবোধের সমন্বয়ে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, এখানে তার চর্চা করা হয়।’
সব সময় নতুন গান, নতুন কথা ও সুর খুঁজেছে চিরকুট, জানালেন সুমী। একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বছরের পর বছর সদস‍্যদের পাশে থেকে তাঁদের এগিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। সুমী বললেন, ‘চিরকুট বরাবরই মিউজিকে নতুন কিছু যুক্ত করার নিরীক্ষা করেছে। এর ফলেই অনেক মিউজিশিয়ানের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে চিরকুট।’
নতুন বছরে নিজেদের পঞ্চম অ্যালবাম তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে চিরকুট। নতুন ১২টি গানের কাজ চলছে। বছরজুড়ে দেশে ও বিদেশে নিয়মিত কনসার্টেও যুক্ত থাকবে তারা। আগামী বছর বর্ণাঢ্য আয়োজনে চিরকুটের ২৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সুমী বললেন, ‘অ্যালবামের কাজের বাইরে কয়েকটি একক গানও শ্রোতারা পাবেন।

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে

নড়াইলের লোহাগড়ায় হিন্দু বাড়িতে গরু চুরি: পুলিশের খাঁচায় যুবক

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম
নড়াইলের লোহাগড়ায় হিন্দু বাড়িতে গরু চুরি: পুলিশের খাঁচায় যুবক

নড়াইলের লোহাগড়ায় হিন্দু বাড়িতে গরু চুরির সময় চিৎকার করলে গুলি করার হুমকি, পুলিশের খাঁচায় যুবক।

গরু চুরির অভিযোগে গ্রেফতার মো. রফিকুল ইসলাম (৩৭)। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে মো. রফিকুল ইসলাম (৩৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তবে তার রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবি নেই বলে জানা গেছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে সারুলিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। সে ওই গ্রামের হামিদ বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ১১টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বসুপটি গ্রামের মৃত গুরুদাস দত্তের ছেলে গোপাল দত্তর বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির সময় বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করে। এসময় চিৎকারের শব্দে গ্রামের একজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী চোরচক্রকে ধাওয়া দেয়। এ সময় চোরের দল পালিয়ে গেলেও গ্রামবাসী একটি গরু উদ্ধার করে। পরে গোয়াল ঘরে চুরির সময়ের সিসি ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয় যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে গোয়ালঘর থেকে গরু নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তে বাড়ির লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি করলে তাদেরকে গুলি করে দেবে বলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে চোরচক্রের সদস্যরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদ পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের সারুলিয়া গ্রাম থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত রফিকুল ইসলামকে আটক করেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলাম নামে
একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নামে চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামুনুর রশীদ মামুন, ময়মনসিংহ

ঈদযাত্রায় ময়মনসিংহে স্বস্তি: সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণে যানজট

মামুনুর রশীদ মামুন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম
ঈদযাত্রায় ময়মনসিংহে স্বস্তি: সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণে যানজট

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রায় ময়মনসিংহে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে স্বস্তির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে থাকা যানজট পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে,ফলে নগরবাসী ও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ব্রিজ মোড়,দিঘারকান্দা বাইপাস মোড়সহ বিভিন্ন প্রবেশ ও প্রস্থান সড়ক ঘুরে দেখা গেছে—যানবাহনের চাপ থাকলেও তা স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী বা অসহনীয় যানজটের দৃশ্য চোখে পড়েনি। এতে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই এ ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সরেজমিন তদারকি,দিকনির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ছিল অধিক সতর্ক ও কার্যকর। বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ,যানবাহনের সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন—এসব উদ্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফেরাতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন, আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।” এছাড়া ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। তারা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পথচারীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করেছে। সাধারণ যাত্রীদের অনেকে জানান,আগে ঈদে বাড়ি ফেরার কথা ভাবলেই দুশ্চিন্তা হতো,তবে এবার অনেকটাই স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও ময়মনসিংহে ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে এবং এই সমন্বিত উদ্যোগ অন্যান্য জেলার জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।

ঈদের ছুটিতেও থেমে নেই মানবসেবা

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরলস দায়িত্ব পালন

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরলস দায়িত্ব পালন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজ যখন সর্বত্র বিরাজমান, তখনও মানবসেবার মহান ব্রতে অটল থেকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

ছুটির দিনেও হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সচল রাখতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন মেডিসিন ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তানভীর মাহমুদ।
আজ তিনি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড এবং এইচডিইউ (High Dependency Unit)-এ নিয়মিত রাউন্ড প্রদান করেন। রাউন্ড চলাকালে তিনি ভর্তি রোগীদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। রোগীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও পেশাগত নিষ্ঠা উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
এসময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্সবৃন্দ এবং ইন্টার্ন ডিএমএফ সদস্যরা। পুরো টিমটি সমন্বিতভাবে রোগীদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে, যা একটি সুসংগঠিত স্বাস্থ্যসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
হাসপাতালের এই সেবামূলক কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, চিকিৎসা পেশা কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং এটি মানবতার সেবায় নিবেদিত এক মহান অঙ্গীকার। ঈদের ছুটির মতো বিশেষ সময়েও রোগীদের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এই ত্যাগ ও নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসনীয়।
রোগীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সংশ্লিষ্ট সবাই আশা প্রকাশ করেছেন যে, এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!