সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ব্যঙ্গ থেকে বরণ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম | 59 বার পড়া হয়েছে
ব্যঙ্গ থেকে বরণ

হুনায়নের যুদ্ধ শেষ করে নবী করীম ﷺ সাহাবীদের নিয়ে মদিনার পথে ফিরছেন। পথিমধ্যে নামাজের সময় হলে হযরত বেলাল (রা.) তাঁর সেই দরাজ কণ্ঠে আজান দিতে শুরু করলেন। সেই মরুপ্রান্তরের পাশেই ছিল কুরাইশ ও মুশরিকদের একটি বসতি। সেখানে ১০-১২ জন কিশোর ও যুবক জড়ো হয়েছিল।
বেলাল (রা.)-এর আজান শুনে তারা হাসি-ঠাট্টা শুরু করল। তাদের মধ্যে আবু মাহজুরা নামের এক কিশোর, যার কণ্ঠ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুমধুর, সে আজানকে ব্যঙ্গ করে হুবহু নকল করতে লাগল। বিষয়টি অত্যন্ত অপমানজনক হলেও দয়ার নবী ﷺ সেই ব্যঙ্গাত্মক সুরের মাঝে এক অসাধারণ প্রতিভা খুঁজে পেলেন।
প্রতিভার সন্ধানে দয়ার নবী ﷺ
নবীজি ﷺ সাহাবীদের বললেন, “এই যুবকদের আমার সামনে নিয়ে এসো।” সাহাবীরা তাদের ধরে নিয়ে এলেন। তারা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নবীজির সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। নবীজি ﷺ অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের মধ্যে কার কণ্ঠ এত সুন্দর? কে এখনই আজান দিচ্ছিল?”
আবু মাহজুরার বন্ধুরা ভয়ে সব তার ওপর চাপিয়ে দিল। আবু মাহজুরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। সে ভেবেছিল আজ হয়তো তার গর্দান যাবে। কিন্তু নবীজি ﷺ তাকে ধমক না দিয়ে বরং পরম মমতায় তার কাছে ডাকলেন।
শত্রু থেকে পরম বন্ধু
নবীজি ﷺ আবু মাহজুরার মাথায় হাত রাখলেন। তাঁর বরকতময় হাতের ছোঁয়ায় আবু মাহজুরার ভেতরের সব ঘৃণা আর ভয় কর্পূরের মতো উড়ে গেল। নবীজি বললেন, “দাঁড়াও, আমি তোমাকে আজান শিখিয়ে দিই।”
নবীজি ﷺ একটি করে বাক্য পড়তে লাগলেন, আর আবু মাহজুরা তা পুনরাবৃত্তি করতে লাগল। আবু মাহজুরা বলেন:
“নবীজি যখন আমাকে আজান শেখাচ্ছিলেন, তখন প্রতিটি বাক্যের সাথে আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। আমার মনে হলো, এই পৃথিবীতে তাঁর চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই।”
আজান শেষ করেই আবু মাহজুরা নবীজি ﷺ-এর হাতে হাত রেখে কালেমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
মক্কার শ্রেষ্ঠ উপহার
নবীজি ﷺ তখন আবু মাহজুরার হাতে কিছু রূপা উপহার দিলেন এবং একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন। তিনি বললেন:
“আবু মাহজুরা! আজ থেকে আমি তোমাকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মসজিদ, মক্কার ‘মসজিদুল হারাম’-এর মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দিলাম। তুমি সেখানে আজান দেবে।”
যেই কিশোর কিছুক্ষণ আগে আযানকে ব্যঙ্গ করছিল, নবীজির সামান্য মহানুভবতা আর দূরদর্শিতায় সে হয়ে গেল কাবার প্রধান মুয়াজ্জিন। আবু মাহজুরা (রা.) সারাজীবন সেই বরকতময় স্মৃতি বয়ে বেড়িয়েছেন।
গল্পের শিক্ষা:
১. নবীজির মহানুভবতা: অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে সংশোধন করাই ছিল নবীজির আদর্শ। ২. প্রতিভার কদর: নবীজি ﷺ মানুষের ভেতরের গুণকে চিনতে পারতেন এবং তাকে ইসলামের সঠিক পথে কাজে লাগাতেন। ৩. বিদ্বেষ থেকে মুক্তি: ঘৃণা দিয়ে নয়, বরং উত্তম আচরণ দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করাই ইসলামের শিক্ষা।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!