রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

মুক্তাগাছায় গীর্জা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশপ পনেন পল কুবি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:০৩ পিএম | 83 বার পড়া হয়েছে
মুক্তাগাছায় গীর্জা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশপ পনেন পল কুবি

দিনটি ছিল ২৯ নভেম্বর ২০২৫। নালিখালী উপকেন্দ্রের খ্রীস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি ছিল পরম পূজনীয় ও বিশেষ আনন্দের দিন। তবে আধুনিক সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধার ঘাটতি এখনো স্পষ্ট ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের এই প্রত্যন্ত এলাকা নালিখালীতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন—সবকিছুই যেন এখনো নাগালের বাইরে। একসময় পাকা বা ইটসলিং করা রাস্তাগুলোর অবস্থাও বর্তমানে বেহাল। কৃষি অর্থনীতির জোন হিসেবে পরিচিত নালিখালী সেদিন ছিল নতুন সাজে সজ্জিত।

বেরসিক শীত উপেক্ষা করে সূর্যোদয়ের পরপরই নালিখালী আর্চ উপকেন্দ্রের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা জেগে ওঠেন। উপলক্ষ—১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সাধু ভিনসেণ্ট ডি’পল গীর্জার নবনির্মিত ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। উদ্বোধন করতে আসেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের পরম শ্রদ্ধাভাজন খ্রীস্টীয় ধর্মযাজক বিশপ পনেন পল কুবি সিএসসি। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে পরম পূজনীয় এই ধর্মগুরুর সফরে সঙ্গী ছিলেন শীর্ষস্থানীয় পুরোহিত, সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনেরা।

গীর্জা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেন কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে—সে জন্য স্থানীয় আয়োজকদের ছিল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি। নবনির্মিত গীর্জা ও পাশের প্যান্ডেল, সারি সারি চেয়ার, অতিথি অভ্যর্থনায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সুসজ্জিত তোরণ, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিশেষ পোশাকে অপেক্ষমাণ নারী-পুরুষের উৎকণ্ঠা, ঢাক-ঢোল-বাঁশির সুর—সবকিছু মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকাল ১০টার কুয়াশামুক্ত মিষ্টি রোদ পুরো আয়োজনে যোগ করে ভিন্ন এক আবহ।

অপেক্ষার অবসান ঘটে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে। একে একে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন ক্যাথলিক চার্চের ধর্মযাজকদের বহনকারী গাড়ি অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছায়। এরপর উপস্থিত হন কাঙ্ক্ষিত ধর্মগুরু বিশপ পনেন পল কুবি সিএসসি। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পা ধৌতকরণ, কটি ও মাইটার (Mitre) পরানো, লাঠি উপহার, বিশেষ খাবার পরিবেশন এবং ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে তাঁকে বরণ করে নেন স্থানীয় ভক্তবৃন্দ। এ সময় ড্রোনের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ফিতা কেটে স্মৃতি গ্যালারির উদ্বোধন, পুষ্পবৃক্ষ রোপণ, নবনির্মিত গীর্জার চাবি হস্তান্তর ও শপথ পাঠ, লাল ফিতা কেটে গীর্জায় প্রবেশ এবং বিশেষ ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধিকরণ সম্পন্ন হয়। পরে ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে পবিত্র বাইবেল পাঠের মাধ্যমে উদ্বোধনী মূল পর্বের সমাপ্তি ঘটে।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পীরগাছা ধর্মপল্লীর শ্রদ্ধেয় ফাদার এ্যাপোলো রোজারিও সিএসসি সভাপতিত্ব করেন। সফরসঙ্গী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল শ্রদ্ধেয় মন্সিনিয়র ফাদার শিমন হাচ্ছা, চ্যান্সেলর শ্রদ্ধেয় ফাদার বাইওলেন চাম্বুগং, শিক্ষা কর্মকর্তা শ্রদ্ধেয় ফাদার অশেষ দিও, নটর ডেম কলেজ ময়মনসিংহের অধ্যক্ষ ড. ফাদার থাদেউস হেম্ব্রম সিএসসি, ছাত্র পরিচালক ফাদার মৃনাল ম্রং সিএসসি, পীরগাছা ধর্মপল্লীর সহকারী পাল পুরোহিত ফাদার রুবেল বিশ্বাস সিএসসি, ডাকুয়া ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত সুনির্মল মৃ, জলজত্র ধর্মপল্লীর ফাদার সুভাস কস্তা সিএসসি, ফাদার ড. বিজন কুবি, ফাদার টিটুস মৃ, ফাদার বিপিন নকরেক, ফাদার সামুয়েল পাথাং, ফাদার তপন ম্রং, ফাদার খোকন নকরেক সিএসসি, ফাদার আনন্দ মন্ডল সিএসসি, ফাদার ডেনিশ দারু, সিস্টার জসিন্তা মেরী ম্রং (প্রভিন্সিয়াল, সালেসিয়ান সম্প্রদায়)সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সিস্টারবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের যুগ্ম সচিব সেবাস্টিন রেমা, পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হেমন্ত হেনরী কুবি, পীরগাছা ধর্মপল্লীর প্যারিশ কাউন্সিলের সহসভাপতি প্রনাথ মৃ, পীরগাছা থাংয়ানি ক্রেডিট চেয়ারম্যান মিহির মৃ, সমাজসেবক ও আদিবাসী নেতা অজয় মৃ, কারিতাস ডাইরেক্টরস (CDI) পরিচালক টিওফিল নকরেক, কারিতাস প্রোগ্রামস পরিচালক অপূর্ব ম্রং, মিশনারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন গ্রাম কাউন্সিলের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় খ্রীস্টভক্ত।

অনুষ্ঠান শেষে সাধু ভিনসেণ্ট ডি’পল নালিখালী উপকেন্দ্রের সম্পাদক হিউবার্ট মৃ বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি গীর্জা নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। উল্লেখ্য, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গীর্জার মাধ্যমে খ্রীস্টীয় ধর্মাবলম্বীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের আরাধনার মাধ্যমে প্রভু যীশুর সান্নিধ্য লাভ করে আসছেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাধু ভিনসেণ্ট ডি’পল গীর্জার ৭ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি মনোনীত হন জনেন্দ্র স্নাল এবং সম্পাদক হিউবার্ট মৃ। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—কোষাধ্যক্ষ রুবেন ম্রং, সদস্য বলরাম ম্রং, সদস্যা সুফলা দারু, সদস্য মুক্তা রুগা এবং সদস্যা চম্পা রেমা।

ইউএনও ছাতক ডিপ্লোম্যাসি চাকমা

কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে সাম্প্রতিক গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির সাথে জড়িতদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এ সময় ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। একজন জেল হাজতে। তবে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি মনোযোগ সহকারে গ্রামবাসীর বক্তব্য শোনেন এবং গত ২৫ মার্চ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন,অপরাধী যে-ই হোক, আইনের মাধ্যমেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন ইউএনও।এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবারের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ি সেবুল রেজা বলেন, এ পরিস্থিতি উত্তরণে গ্রামের ছাত্র-যুবক ও প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি “চোর নির্মূল কমিটি” গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুরির উপদ্রপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এলাকার চোরদের সম্প্রতি ডেকে এনে শাসানো হয়। কিন্তু এরপরও চুরি বন্ধ হয়নি। তার দাবি, ২৫ মার্চের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না; বরং তা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনায় ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ বাজারে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে আসায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।স্থানীয়রা বলেন, তারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং মাদক, চুরি ও সকল ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। সার্বিকভাবে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত পরিবার-সবার অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় এলাকার সর্বস্হরের শতশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও সংকট মোকাবিলায় ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নির্দেশনাটি বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ডিলাররা বেলা ১১টা থেকে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারতেন। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে দৈনিক তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশনাটি দাপ্তরিক ওয়েবসাইট কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তবে আজ শনিবার আজকের পত্রিকা থেকে যোগাযোগ করা হলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য নয়। এটি সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা।

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

জয়ের পথে ইরান

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
জয়ের পথে ইরান

গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশে অনবরত বোমাবর্ষণ করে চলেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ইসলামিক রিপাবলিককে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এত কিছুর পরও আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্য যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সামনে এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী’ হওয়ার একটি স্পষ্ট পথরেখা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারিতা এবং রণকৌশলের ভুলগুলোই মূলত ইরানের এই জয়ের পথকে প্রশস্ত করেছে, যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে টিকে থাকাই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আসল বিজয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানিদের ‘মুক্তির সময় এসেছে’ বলে অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ কমান্ডার ও মন্ত্রী নিহত হয়েছেন। কিন্তু শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন কার্যত দেশটির ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ না লাখো মার্কিন সেনা ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণবিপ্লব ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প এখন ইসলামিক রিপাবলিকের পতনের চেয়ে পর্দার আড়ালে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তির পথ খুঁজছেন। কেননা ইরান টিকে গেলে সেটি হবে তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয়।

দ্বিতীয়ত, ইরানের দ্বিতীয় বড় শক্তি হলো বিশ্বের অর্থনীতির অন্যতম ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হচ্ছে, যেই দেশটিকে তিনি কিছুদিন আগেও ‘নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে এক বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এক নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাবে আর কোনটি যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিরাপদে প্রতিটি তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে ২০ লাখ ডলার করে ফি দিচ্ছে। এমনকি তেলের বাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রে থাকা ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এটি ইরানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে; যে প্রণালি দিয়ে আগে জাহাজ চলাচলে ইরান এক পয়সাও পেত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত এক বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে যায় এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে তারা সেই অর্থ দিয়ে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তাঁরা ইরানের অস্ত্রশিল্পের ভিত্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও সময় পেলে ইরান আবারও সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম। হয়তো এই সক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন না, কিন্তু তাঁরা তাদের উত্তরসূরিদের জন্য এক চরম শক্তিশালী ইরানকে রেখে যাবেন।

পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ ইরানকে হয়তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। জনগণের তীব্র ক্ষোভ হয়তো ভবিষ্যতে এই শাসনের পতন ঘটাতে পারে, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টিকে থাকাটাই ইরানের কাছে এক বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

error: Content is protected !!