মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

মসলিন পুনরুদ্ধারে সম্ভাবনার দ্বার খুলছে

গাজীপুরে ফুটল ফুটি কার্পাস

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০২ পিএম | 116 বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরে ফুটল ফুটি কার্পাস

প্রায় দুই হাজার বছর আগে লেখা রোমান লেখক পেট্রোনিয়াসের স্যাটিরিকান গ্রন্থে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত মসলিন বস্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর বর্ণনায় মসলিন ছিল যেন হাওয়ায় বোনা কাপড়। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ লিখেছিলেন, মসলিন যেন ভোরের কুয়াশা দিয়ে বোনা। কী চমৎকার সব কাব্যিক উপমা!

যে কাপড়কে নিয়ে এত উপমা, সেই কাপড় আসলে কি হাওয়া বা কুয়াশা দিয়ে বোনা হতো? নিশ্চয়ই না। এ দুটির কোনোটি দিয়েই কাপড় বা বস্ত্র বয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু সে কাপড়ের মাধুর্য ও সৌন্দর্য এমনই ছিল যে তা দেখে এরূপ মনে হতো। আসলে মসলিন বোনা হতো এক বিশেষ ধরনের তুলা থেকে তৈরি করা সূক্ষ্ম বা মিহি সুতা দিয়ে। সে সুতা তৈরি হতো ফুটি কার্পাস তুলা থেকে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাংলাদেশ তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরীক্ষামূলক খামারে ফুটে উঠেছে বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী দেশি তুলা ফুটি কার্পাস। আবহাওয়ার পরিবর্তন, কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং আধুনিক উচ্চ ফলনশীল জাতের জনপ্রিয়তার কারণে বহু বছর ধরে হারিয়ে যেতে বসা এ দেশি তুলার পুনরুদ্ধার কৃষি গবেষণায় উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

গবেষকদের মতে, ফুটি কার্পাস ছিল বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একসময়ের পরিচিত তুলা গাছ। তবে উচ্চ ফলনের জাত,উৎপাদন ব্যয় এবং চাষাবাদের ধরনে পরিবর্তনের কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ জাতটির সঙ্গে পরিচিতি হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের গবেষণা, সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পর অবশেষে এ প্রজাতি পুনরুদ্ধারে সফল হয়েছে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউট।

সংরক্ষিত বীজ থেকে পুনরায় চারা উৎপাদন বাংলাদেশ তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, সংগ্রহ করা সংরক্ষিত বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি প্লটে রোপণ করা হয়। এ বছর এসব গাছে স্বাভাবিকভাবেই ফুল ফুটেছে। গবেষকদের ধারণা, এ সফলতা ভবিষ্যতে দেশীয় তুলার জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষা ও নতুন জাত উদ্ভাবনে বড় ভূমিকা রাখবে।

সংগৃহীত ছবি

খামারের কটন অ্যাগ্রোনমিস্ট মো. আবদুল ওয়াহাব জানান, দিনাজপুর, বাগেরহাট, গাজীপুরের কাপাসিয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা চার জাতের চারা গত বছরের ২৯ আগস্ট রোপণ করা হয়। প্রতিটি জাতের চল্লিশটি করে গাছ এখন মানুষের দ্বিগুণ উচ্চতা ছুঁয়েছে। শক্ত বাকলযুক্ত গাছগুলোতে ইতোমধ্যে ধরেছে তুলার গুটি। কিছু গাছে দুই দফায় ফুলও ফুটছে। হালকা হলুদ রঙের ফুল দুপুরে গোলাপি হয়ে যায়—যা ফুটি কার্পাসের স্বাতন্ত্র্য। প্রায় ১৫ বছর আয়ুষ্কালের এই গাছের আঁশ ছোট হলেও অত্যন্ত সূক্ষ্ম, শক্ত ও উজ্জ্বল—যা মসলিন তৈরির আদর্শ উপাদান।

তুলা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা আ. ন. ম. জহির উদ্দিন বলেন, ফুটি কার্পাস সংরক্ষণ ও এর চাষ সম্প্রসারণ মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে আরও ত্বরান্বিত করবে। ভবিষ্যতে এ জাতের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হলে দেশীয় তুলা উৎপাদনে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের প্রধান পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুনরুদ্ধারকৃত ফুটি কার্পাস তুলায় বীজের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং ফাইবারের পরিমাণ কম। এছাড়া গাছের উচ্চতা সাধারণত ১৩ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে বীজের পরিমাণ কমানো, ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং গাছের উচ্চতা কমানোর জন্য গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, টেক্সটাইল অংশে অধিক পরিমাণে সুতা উৎপাদন, সুতার স্ট্রেংথ বৃদ্ধি, কাপড়ের উৎপাদন খরচ কমানো এবং প্রি-উইভিং প্রক্রিয়া উন্নয়নের ওপরও গবেষণা চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের মাধ্যমে সফলভাবে ফুটি কার্পাস তুলা, মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি এবং মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আগামী মৌসুম থেকে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলার চাষিদের জন্য চাষাবাদ খরচ বাবদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে এবং উৎপাদিত তুলা সরকারিভাবে ক্রয় করে নেওয়া হবে।

সংগৃহীত ছবি

তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে উৎপাদিত মসলিন কাপড়ের তুলনায় বর্তমানে উৎপাদিত মসলিন কাপড় আরও উন্নত মানের। বর্তমানে উৎপাদিত সব মসলিন কাপড় সম্পূর্ণ অর্গানিক। এসব কাপড়ে প্রাকৃতিক রঙের তুলা ব্যবহার করে নকশা করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম ডাই ব্যবহার করা হয়নি।

অদূর ভবিষ্যতে মসলিন তৈরির প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ লক্ষ্যে উদ্যোক্তা, স্পিনার ও তাঁতিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রায় ১৮ ফুট বা বারো হাত দৈর্ঘ্যের একটি মসলিন কাপড় তৈরিতে আনুমানিক ৪০০ গ্রাম ফুটি কার্পাস তুলার প্রয়োজন হয়।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে একটি শাড়ির উৎপাদন খরচ হালকা ডিজাইনে তিন থেকে চার লাখ টাকা, মধ্যম ডিজাইনে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা এবং ভারী ডিজাইনে সাত থেকে আট লাখ টাকা ছিল। বর্তমানে সেই খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমানো যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নুরুল হোসাইন,কক্সবাজার

কক্সবাজারে সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত

নুরুল হোসাইন,কক্সবাজার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
কক্সবাজারে সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার এইচ এম এরশাদের স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) কক্সবাজারের হোটেল মিশুক রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাফেজ আনোয়ার হোসেন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং মরহুমের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ফজলুল কাদের চৌধুরী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এরশাদকে আমরা হারাবো এটা কখনো ভাবিনি। তিনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী, ধর্মপ্রাণ ও দায়িত্বশীল মানুষ। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকলেও সম্পর্ক ছিল গভীর। তার মৃত্যুতে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

অনুষ্ঠানে মরহুমের সুযোগ্য সন্তান অ্যাডভোকেট আতিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্য রাখেন,কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ শামসুল আলম শ্রাবণ, ইমাম খাইর, টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হোসাইন, মোহাম্মদ আয়াজ রবি, কবি জসিম উদ্দিন, নাছিমা আক্তার, দিদারুল আলম, ফরিদ আলম রনি, নাজিম উদ্দিন, আমিন উল্লাহ, জাহেদ হোসেন, মোঃ হাসান, আলাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট আবু মুছা, আমিনুল ইসলাম, ডা. এরফান প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, এম আলাউদ্দিন, এম জসিম উদ্দিন, আব্দুর রহিম বাবু, হাফেজ আনোয়ার, সোলতান, কামরুল ইসলামসহ অসংখ্য সাংবাদিক।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন বলেন, এরশাদ ভাই ছিলেন সাহসী ও আপসহীন এক কলমযোদ্ধা। সাংবাদিকতার শুরু থেকে তিনি অন্যায়, দুর্নীতি, মাদক ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে লিখেছেন। বহু হুমকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।
তিনি আরও বলেন, মানুষ হিসেবে এরশাদ ভাই ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবকের মতো। তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

বক্তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

কাবার গিলাফ কাটার চেষ্টা: তুর্কি নারী আটক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
কাবার গিলাফ কাটার চেষ্টা: তুর্কি নারী আটক

পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবার গিলাফ (কিসওয়া) কাটার চেষ্টার অভিযোগে এক তুর্কি নারীকে আটক করেছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী। একটি তুর্কি হজ কাফেলার সঙ্গে আসা ওই নারী কাঁচি দিয়ে গিলাফের একটি অংশ কেটে স্মারক হিসেবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ওই নারী যখন কাঁচি দিয়ে কাবার গিলাফ কাটার চেষ্টা করছিলেন, তখন পাশে থাকা অন্য মুসল্লিরা তাঁকে বাধা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত লোকজন তাঁকে ‘হাজি, এটা হারাম (নিষিদ্ধ)’ বলে সতর্ক করছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে মসজিদুল হারামের নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ওই নারী মিসরীয় নাগরিক। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় গণমাধ্যম ‘ইসলামিক ইনফরমেশন’-এর প্রতিনিধি ওতাইবি নিশ্চিত করেছেন যে, আটক নারী প্রকৃতপক্ষে তুরস্কের নাগরিক এবং তিনি একটি তুর্কি হজ কাফেলার সদস্য হিসেবে সৌদি আরব ভ্রমণ করছিলেন। ফলে মিসরীয় নাগরিক হওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কাবার গিলাফ বা কিসওয়া অত্যন্ত পবিত্র এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এর কোনো অংশ কাটা, ছেঁড়া বা ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ওই নারীর বর্তমান অবস্থা বা তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

 

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাব

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাব

সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়—এটি সত্য, ন্যায় এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক মহান অঙ্গীকার। একজন প্রকৃত সাংবাদিক সমাজের দর্পণ, যিনি সত্যকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। কিন্তু বাস্তবতায় অনেক সাংবাদিকই নির্যাতন, নিপীড়ন, হয়রানি, মিথ্যা মামলা, এমনকি প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

এই প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো—সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষা, আইনি সহায়তা প্রদান, এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়, অবিচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের পাশে দাঁড়ানো। এটি এমন একটি সংগঠন, যেখানে সাংবাদিকরা বৈধভাবে, নিরাপদভাবে এবং নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

🌟 মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:

✔ অধিকার রক্ষা: সাংবাদিকদের মৌলিক ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা।
✔ আইনি সহায়তা: মিথ্যা মামলা, হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর আইনি সহযোগিতা প্রদান।
✔ নিরাপদ কর্মপরিবেশ: মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সাথে সমন্বয়।
✔ হয়রানি প্রতিরোধ: ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবশালী মহলের অন্যায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ।
✔ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন: সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিকতা ও পেশাগত মান উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন।
✔ ঐক্য গঠন: সারাদেশের সাংবাদিকদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে ঐক্যবদ্ধ শক্তি গড়ে তোলা।
✔ বৈধ সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণ: ভুয়া বা প্রতারক সাংবাদিকদের প্রতিরোধ করে প্রকৃত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকদের সুরক্ষা প্রদান।

📌 প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম:

🔹 নির্যাতিত সাংবাদিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত
🔹 দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ
🔹 মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা
🔹 সাংবাদিকদের জন্য আইডেন্টিটি যাচাই ও বৈধতা নিশ্চিতকরণ
🔹 মিডিয়া নীতিমালা ও আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি
🔹 জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা ও সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা

🎯 আমাদের অঙ্গীকার:

আমরা বিশ্বাস করি—সাংবাদিকতা একটি পবিত্র দায়িত্ব। তাই এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ:
👉 সত্যের পক্ষে থাকবো
👉 অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো
👉 সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করবো
👉 একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলবো

পরিশেষে বলা যায়, এই উদ্যোগটি শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়—এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। কারণ, সাংবাদিক নিরাপদ থাকলে সত্য প্রকাশ পায়, আর সত্য প্রকাশ পেলে সমাজ এগিয়ে যায়।

error: Content is protected !!