রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

সুলেখা আক্তার শান্তা

হয়নি বলা ভালোবাসি তোমায়

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২৬ পিএম | 188 বার পড়া হয়েছে
হয়নি বলা ভালোবাসি তোমায়

মার্কেটের সামনে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল রুবেল। ঠিক সেই মুহূর্তে আড্ডায় যোগ দিলো ফয়সাল।
ফয়সাল বলল, রুবেল, মার্কেটের ভিতরে গন্ডগোল হচ্ছে!
রুবেল তখন সিগারেট ধরাচ্ছিল। আগুন ধরিয়ে বলল,
কিসের গন্ডগোল?
ফয়সাল জানাল, একটা মেয়ে দোকানে মাল দিয়েছে। দোকানদার টাকা দিচ্ছে না, ছয় মাস ধরে শুধু ঘুরাচ্ছে।
রুবেল হাতের সিগারেটটা ফেলে বলল, আগে বললি না কেন? মেয়েমানুষের সাথে গন্ডগোল—এটা আমার ভালো লাগে না। চল, দেখি কী হয়েছে।
দোকানে গিয়ে দেখে ভিড় জমে আছে। ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকে রুবেল দোকানের মালিককে জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে?
মোকলেস বলল, ভাই, বইলেন না! এই মেয়ে মাল দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু টাকার জন্য আমার সাথে যা-তা ব্যবহার করছে। আমি কি টাকা নিয়ে পালাই যাইতেছি? বলেছি দেব, কয়েকটা দিন সবুর করতে। কে শুনে কার কথা!
এর মধ্যে মলি বলে উঠল, কয়েকটা দিন? ছয় মাস ধরে আমাকে ঘুরাচ্ছে!
মোকলেস মলিকে থামাতে গিয়ে বলল, তুমি চুপ! ভাইয়ের সাথে কথা বলি। তারপর মোকলেস বলল রুবেলকে, দেখেন না ভাই, আপনার সাথে তো কথা বলেছি! তাও বলতে পারিনা।
রুবেল মোকলেসকে থামিয়ে দিয়ে বলল, তাকে কথা বলতে দিন। বলুন, কী হয়েছে?
মলি বলল, সে আমাকে টাকা দেয় না, শুধু এলেই নতুন তারিখ দেয়।
মোকলেস সাফাই দিতে চায়, ভাই, বেচাকেনা নাই। টাকা দিমু কী দিয়া? তাই একটু সময় নিচ্ছিলাম।
রুবেল কঠিন গলায় বলল, একটু সময়? ছয় মাস ধরে সময় নিচ্ছেন আপনি! এটা ব্যবসা! ওনার চলতে হয়। যত দ্রুত সম্ভব, এক টাকাও বাকি না রেখে কয়েক দিনের মধ্যে টাকা দেবেন।
মোকলেস মুখ গোমরা করে বলল, ভাই, এত চাপ দিলে হবে না। আমাকে সময় দিতে হবে।
রুবেল ধমকে উঠল, শুনেন, সময় কারো হাতে থাকে না; সময় থেকে সময় বের করতে হয়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়।
মোকলেস মলির দিকে চোখ রাঙিয়ে বলল, দেখি, আমার সাথে এমন ব্যবহার? সে এই মার্কেটে মাল দেয় কীভাবে, তা আমি দেখে ছাড়ব!
এই কথা শুনেই রুবেল ঝাঁপিয়ে পড়ে মোকলেসের উপর। শার্টের কলার ধরে বলল, ওনাকে কী বললেন? আবার বলুন তো!
মোকলেস ভয়ে বলল, ভাই, কলার ছাড়েন… আমার একটা সম্মান তো আছে!
রুবেল বলল, আপনার এই আচরণে মার্কেটের মানুষ আপনাকে কী সম্মান দেবে? মেয়েটার টাকা আটকে রাখবেন, আবার ধমকও দিবেন? এত সাহস আসে কোথা থেকে?
এই মার্কেটে সবাই স্বাধীনভাবে চলবে। ওকে আপনি চোখ রাঙিয়ে কথা বললে খবর আছে, বুঝছেন?
মোকলেস ভয়ে বলল, ভাই, আপনি এসবের মধ্যে আসেন কেন?
রুবেল তৎক্ষণাৎ বলল, আমি আসি কেন মানে? মেয়েমানুষ দেখলেই ক্ষমতা দেখাতে ইচ্ছে করে? ক্ষমতা দেখাতে হলে দেখাবেন পুরুষের সঙ্গে—মেয়েদের সঙ্গে নয়।
মোকলেস মুখ মলিন করে বলল, ঠিক আছে ভাই… ঠিক আছে। কালকেই ওর টাকা আপনার হাতে দিয়ে দেব।
আমার হাতে নয়, যার টাকা তার হাতেই দিবেন। আর যেন একটাও অভিযোগ না শুনি।
আচ্ছা ভাইয়া… আচ্ছা।
রুবেল তখন মলিকে বলল, শুনলেন তো? কালকে আপনার হাতেই টাকা দিয়ে দেবে। আর যদি না দেয়, আমাকে জানাবেন।
মলি মাথা নাড়ল, আচ্ছা, ঠিক আছে।

পরের দিন মোকলেস মার্কেটে মলিকে পেয়ে বলল, এই নেন আপনার টাকা।
মলি টাকা হাতে পেয়েই হেসে বলল, ঠেলার নাম বাবাজি।
মার্কেটের কাজ সেরে বের হওয়ার সময় মলি দেখল রুবেল মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
মলি এগিয়ে গিয়ে বলল, আপনাকে খুঁজছিলাম।
রুবেল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন?
মলি হালকা হাসল, ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
রুবেল ভ্রু তুলল, ধন্যবাদ?
মলি বলল, ধন্যবাদ পেয়ে এমন চমকে উঠলেন যে!
রুবেল হেসে বলল, আপনি ধন্যবাদ দিলেন বলেই তো চমকালাম।
মলি বলল, আমি টাকার জন্য অনেকদিন ধরে ঘুরছিলাম। কিছুতেই ওনার কাছ থেকে তুলতে পারছিলাম না। অবশেষে আপনার জন্য আজ হাতে পেলাম টাকা। তাই আপনাকে ধন্যবাদ দিতে এলাম।
রুবেল মাথা নেড়ে বলল, আচ্ছা, আচ্ছা… কিন্তু ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। এটা আপনার প্রাপ্য টাকা। প্রাপ্য টাকা পাওয়া উচিত।
আর কখনো কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবেন।
মলি নরম স্বরে বলল, ঠিক আছে, বলব।

মলি মার্কেটে আসা–যাওয়ার পথে রুবেলকে দেখলেও তেমন কথা বলত না।
একদিন সামনে গিয়ে বলল, কেমন আছেন?
রুবেল হেসে, এই তো ভালো। আপনি?
ভালো… আপনার সাথে কথা বলি বলি করেও আর বলা হয় না, মলি লজ্জায় হেসে বলল।
রুবেল জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা… এমনি কোনো সমস্যা নেই তো?
না না, সমস্যা নেই। এভাবেই দু’জনের মাঝে মাঝে ছোটখাটো কথা হতো।

একদিন মলি জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা, আপনি সবসময় এরকম ঘুরে বেড়িয়ে সময় কাটান কেন?
রুবেল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আমার কোনো কিছু করতে ভালো লাগে না। তাই বন্ধুবান্ধব নিয়ে সময় কাটাই।
মলি বলল, কিছু একটা করলেও তো পারেন। তাছাড়া মার্কেটে আপনাদের নিজস্ব দোকান আছে, তার একটাতেই বসতে পারেন।
রুবেল হালকা হাসল, হ্যাঁ, পারি। কিন্তু বাবা বলেছে—‘বাড়ি আমি করেছি, দোকানপাট আমি করেছি। তুমি যদি নিজ উদ্যোগে কিছু করতে পারো, করো।’ আর আমি চাকরি করব কারো আন্ডারে এটা আমার ভালো লাগে না!
মলি বলল, আপনি নিজের উদ্যোগে একটা দোকান নিয়ে বসেন। রুবেল বলে, কিন্তু আমার হাতে কোনো টাকা নেই। আমি টাকা দেব আপনাকে। রুবেল মাথা ঝাকিয়ে বলল, না না, আপনি টাকা দিবেন কেন? আপনার নিজ ব্যবসা শুরু করতে যে পুঁজি লাগে, তা আমি দেব।
রুবেল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি সত্যিই বলছেন?
হ্যাঁ, সত্যি বলছি।
তবে একটা ব্যবসা শুরু করতে অনেক টাকা লাগে।
সেই ব্যবস্থা আমি করব। সেটা নিয়ে আপনি ভাববেন না।
পরবর্তীতে রুবেল মার্কেটে একটি মোবাইলের দোকান নিয়ে বসে। সেখানে অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল। মলির ব্যবসার যত টাকা ছিল, সবই সে রুবেলকে দিলো। তাও যথেষ্ট হলো না। তখন মলি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে রুবেলকে টাকা দিলো। কিন্তু মলি ব্যাংকের লোন নেওয়ার কথা রুবেলকে জানায়নি।
রুবেলের ব্যবসা ভালো জমজমাট হয়ে ওঠে। মলির প্রতি সে খুবই সন্তুষ্ট, কারণ এই ব্যবসার পেছনে মলির অবদান খুব বড়!

এদিকে মলি ব্যাংকের লোন টানতে হাঁপিয়ে উঠছে। যে টাকার মলি বাসা ভাড়া করে থাকত, পরে তার থেকেও ছোট একটা বাসায় থাকতে হচ্ছে। কিন্তু রুবেল এসব বিষয়ে কোন কিছু জানেনা।।
একদিন রুবেল মলিকে রেস্টুরেন্টে ডিনারে দাওয়াত দেয়। প্রথমে মলি রাজি হয়নি। কিন্তু রুবেলের এক কথা—আমি না শুনতে চাই না।—মলি রাজি হয়।
রেস্টুরেন্টে পৌঁছে মলি রুবেলের কিছু বন্ধুকে দেখে অবাক হয়! টেবিলে রাখা কেক। দেখে বলে, কেক!
রুবেল মলির দিকে তাকিয়ে বলল, আজ আমার জন্মদিন! এই জন্মদিনে আমি চাই আমার আপনজন থাকুক। আর এখানে তুমি আমার আপনজন। এবং আপনজন ছাড়া কি উদযাপন হয়?
মলি চমকে জিজ্ঞেস করল, আমি কি আপনার আপনজন?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, তুমি আমার আপনজন।
যেখানে আগে দু’জন ‘আপনি’ সম্বোধনে কথা বলত, এবার সেই ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’ হয়ে গেল। মনে মনে মলি ভাবল, আমি রুবেলের আপনজন… আর ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’!
সবাই একসাথে কেক কাটল। প্রথমে রুবেল মলির মুখে কেক দিলো। মলিও রুবেলের মুখে কেক দিলো। খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফেরার পালা। মলির বাসার গেটে এসে নামিয়ে দেয় রুবেল।

রুবেলের ব্যবসা অনেক বড় হয়েছে! মলি এ নিয়ে খুবই আনন্দিত। আজ রুবেল নিজে পায়ে দাঁড়াতে পারছে—এটাই মলির সার্থক। যে মানুষ আগে শুধু ঘুরেফিরে সময় কাটাত, আজ তার ব্যবসা চলছে।
রুবেল নিজের উদ্যোগেই মলিকে ফোন করে খোঁজ খবর নেয়—ঠিকমতো খেলো কিনা, কাজ কেমন চলছে, কোথায় আছে। রুবেলের এমন খোঁজ খবর নেওয়ায় মলির মন আনন্দে ভরে ওঠে। মলি অনুপ্রেরণা পায়।

একদিন মলি দেখে রাস্তায় রুবেল একটি মেয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটি শাড়ি পরে আছে এবং দেখতে বেশ সুন্দরী! মলির হৃদয়টা কেঁপে ওঠে। ভেবে নেয়, এটা হয়তো রুবেলের কেউ হবে। মলি রুবেলকে ফোন দেয়, কিন্তু রুবেল ফোন রিসিভ করেন না।
কাজ শেষে মলি রুবেলের দোকানে যায়। রুবেল তাকে দেখে বলল,
আরে, মলি তুমি?
না, এমনি আসলাম।
বসো, ভিতরে বসো।
না, বসব না।
ভাবলাম তোমার সাথে একটু দেখা করি।
তুমি আমার সাথে দেখা করতে এসেছো এটা আমার বেশ ভালো লাগছে।
মলি হেসে বলল,
তোমার ভালো লেগেছে?
হ্যাঁ, ভালো লেগেছে। চলো আমরা রেস্টুরেন্টে যাই।
না না, যাব না।
তোমার না শুনে কে? আমি যেটা বলছি, সেটাই হবে।
দু’জন রেস্টুরেন্টে যায়। বসে খাওয়া-দাওয়া করে, গল্প করে। মলি মুগ্ধ হয়ে রুবেলের দিকে তাকায়।
কি তাকিয়ে আছে যে?
মলি লজ্জায় মাথা লুকায়।
আরে না, লজ্জা পেতে হবে না, এদিকে তাকাও। আমাকে দেখছ দেখো ভালো করে। মলি আরো লজ্জা পেয়ে যায়। তখন রুবেল মলির হাত ধরে বলল, চলো, চলো, দেরি হয়ে যাচ্ছে। বাসায় পৌঁছে দেই।
মলিকে বাসায় পৌঁছে দেয় রুবেল।

হঠাৎ মলি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে বাসা থেকে বের হয় না। রুবেলও মোবাইলে ফোন করেনা। মলি ভাবল, রুবেল হয়তো ব্যস্ত, তাই আমাকে ফোন দিচ্ছেনা।
এদিকে রুবেলের বন্ধু ফয়সাল মলিকে ফোন দেয়। মলি ফোন রিসিভ করে। ফয়সাল সরাসরি জিজ্ঞেস করল, মলি, আপনি বিয়েতে আসবেন না?
মলি অবাক হয়ে বলল, বিয়ে? কার বিয়ে?
ফয়সাল বলল, আজ তো রুবেলের বিয়ে! অনেক বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হচ্ছে, কিন্তু আপনাকে তো দেখি না।
মলির চেহারায় হতাশার ছায়া এসে পড়ল। রুবেলের বিয়ে?
হ্যাঁ, রুবেলের বিয়ে, ফয়সাল নিশ্চিত করে বলল। মলি সঙ্গে সঙ্গে রুবেলকে ফোন দেয়। কিন্তু রুবেল ফোন রিসিভ করেন না। বারবার ফোন দিতে থাকে, কিন্তু রিসিভ হয় না। পরে মোবাইলটা বন্ধ পায়। দিন যখন রাত হয়ে যায়, মলি আবার ফোনে চেষ্টা করে। শেষমেষ ফোন খোলা পায়। ফোন রিসিভ হয়। কন্ঠ শুনে মলির মনে এক ধাক্কা লাগে—চমকে উঠে! ভয়, বিস্ময় আর হতাশার মিশ্রণ। মলি জিজ্ঞেস করে, কে… আপনি? ফোনের অন্য পাশে ধ্বনিটি জানালো, আমি রুবেলের স্ত্রী!
মলি স্তব্ধ হয়ে গেল। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারল না। মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল কেটে দিলো মলি।
কিছুক্ষণ পরে মলি আবার ফোন দেয়। এবার রুবেল ফোন ধরল। মলি মোবাইল বুকে ধরে হালকা শ্বাস ফেলল।
রুবেল বলল, হ্যালো… হ্যালো…। ফোনের অপর প্রান্তে থেকে রুবেলের স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, কে ফোন দিয়েছে?
রুবেল ঘাড় নাড়িয়ে উত্তর দিল,
জানি না, কে যেন আমার কাছে…টাকা সাহায্য চায়।
ও আচ্ছা।
মেয়ের কন্ঠ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মলির হৃদয় ভেঙে পড়ল।
যাকে সে এতদিন টাকা দিয়ে সাহায্য করেছে, আজ সেই রুবেলের কাছে, টাকা না চেয়েও, টাকা চাওয়া আলা হয়ে গেলো।
মলির চোখে পানি এলো। মনে হলো, হায়রে দুনিয়া, হায়রে মানুষ। এই কি মানুষের মনুষ্যত্ব, এই কি বিবেক!

ইউএনও ছাতক ডিপ্লোম্যাসি চাকমা

কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে সাম্প্রতিক গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির সাথে জড়িতদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এ সময় ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। একজন জেল হাজতে। তবে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি মনোযোগ সহকারে গ্রামবাসীর বক্তব্য শোনেন এবং গত ২৫ মার্চ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন,অপরাধী যে-ই হোক, আইনের মাধ্যমেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন ইউএনও।এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবারের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ি সেবুল রেজা বলেন, এ পরিস্থিতি উত্তরণে গ্রামের ছাত্র-যুবক ও প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি “চোর নির্মূল কমিটি” গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুরির উপদ্রপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এলাকার চোরদের সম্প্রতি ডেকে এনে শাসানো হয়। কিন্তু এরপরও চুরি বন্ধ হয়নি। তার দাবি, ২৫ মার্চের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না; বরং তা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনায় ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ বাজারে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে আসায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।স্থানীয়রা বলেন, তারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং মাদক, চুরি ও সকল ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। সার্বিকভাবে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত পরিবার-সবার অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় এলাকার সর্বস্হরের শতশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও সংকট মোকাবিলায় ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নির্দেশনাটি বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ডিলাররা বেলা ১১টা থেকে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারতেন। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে দৈনিক তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশনাটি দাপ্তরিক ওয়েবসাইট কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তবে আজ শনিবার আজকের পত্রিকা থেকে যোগাযোগ করা হলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য নয়। এটি সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা।

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

জয়ের পথে ইরান

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
জয়ের পথে ইরান

গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশে অনবরত বোমাবর্ষণ করে চলেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ইসলামিক রিপাবলিককে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এত কিছুর পরও আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্য যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সামনে এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী’ হওয়ার একটি স্পষ্ট পথরেখা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারিতা এবং রণকৌশলের ভুলগুলোই মূলত ইরানের এই জয়ের পথকে প্রশস্ত করেছে, যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে টিকে থাকাই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আসল বিজয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানিদের ‘মুক্তির সময় এসেছে’ বলে অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ কমান্ডার ও মন্ত্রী নিহত হয়েছেন। কিন্তু শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন কার্যত দেশটির ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ না লাখো মার্কিন সেনা ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণবিপ্লব ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প এখন ইসলামিক রিপাবলিকের পতনের চেয়ে পর্দার আড়ালে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তির পথ খুঁজছেন। কেননা ইরান টিকে গেলে সেটি হবে তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয়।

দ্বিতীয়ত, ইরানের দ্বিতীয় বড় শক্তি হলো বিশ্বের অর্থনীতির অন্যতম ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হচ্ছে, যেই দেশটিকে তিনি কিছুদিন আগেও ‘নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে এক বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এক নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাবে আর কোনটি যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিরাপদে প্রতিটি তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে ২০ লাখ ডলার করে ফি দিচ্ছে। এমনকি তেলের বাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রে থাকা ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এটি ইরানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে; যে প্রণালি দিয়ে আগে জাহাজ চলাচলে ইরান এক পয়সাও পেত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত এক বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে যায় এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে তারা সেই অর্থ দিয়ে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তাঁরা ইরানের অস্ত্রশিল্পের ভিত্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও সময় পেলে ইরান আবারও সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম। হয়তো এই সক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন না, কিন্তু তাঁরা তাদের উত্তরসূরিদের জন্য এক চরম শক্তিশালী ইরানকে রেখে যাবেন।

পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ ইরানকে হয়তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। জনগণের তীব্র ক্ষোভ হয়তো ভবিষ্যতে এই শাসনের পতন ঘটাতে পারে, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টিকে থাকাটাই ইরানের কাছে এক বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

error: Content is protected !!