ভূঞাপুরে জামায়াতের পথসভায় ভাঙচুর: হামলা ও হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদাবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী পথসভার পর দলের এক নেতাকে হামলা হুমকি দেওয়া এবং সভাস্থলে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানায় দুটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফলদা বাজারে জামায়াতে ইসলামীর পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় টাঙ্গাইল-২ আসনের দলীয় মনোনীত এমপি প্রার্থী হুমায়ুন কবির ও জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ করে জানান, সভা চলাকালে স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের সদস্যরা মিছিল নিয়ে বারবার সমাবেশস্থল প্রদক্ষিণ করে এবং উদ্দেশ্যমূলক স্লোগান দেয়। এতে পরিবেশ বিনষ্ট হলে জামায়াত নেতারা পূর্ব দিক দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর অভিযোগ ওঠে, বিএনপি-ছাত্রদলের ফলদা ইউনিয়নের সভাপতি সোহাগ সরকারসহ ২০-২৫ জন একদল লোক জামায়াতের ফলদা ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি মিজান (৪২)-কে ঘিরে ধরে। এ বিষয়ে মিজান স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন, যার জিডি নম্বর ৪৮১। তিনি জানান, তাঁকে বাড়িঘর ভাঙচুর, আগুন দেওয়া, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং জামায়াতকে ভোট দিলে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, পূর্ব থেকেই তাঁকে ব্যবসায় বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে, জামায়াতের অন্য নেতা মোঃ সুজন মিয়া আরেকটি অভিযোগ করেন, যার জিডি নম্বর ৪৬২। তিনি জানান, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পথসভাস্থলে হামলা চালিয়ে ৪৭টি চেয়ার, হ্যালোজেন লাইট ও টেবিল ভাঙচুর করে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেনকে লাঠিসোটা দিয়ে মারাত্মকভাবে পিটানো হয়। ইব্রাহিম হোসেন জানান, তিনি বিএনপি করলেও তাঁর ছেলে জামায়াতে ইসলামী করার কারণে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং প্রহার করা হয়। মিজান জানান, নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনি প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য তিনি থানায় এই ডায়রি করতে বাধ্য হন। ভূঞাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মোহাম্মদ সাব্বির রহমান ও ওসি তদন্ত মোঃ আনোয়ার হোসেন গতকাল রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সে সময় ওসি সাব্বির রহমান বলেন, “আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কে কোন দল সেটা আমরা দেখব না।” এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ফলদা বাজারে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনাকে প্রশাসন শূন্য সহনশীলতার নীতিতে বিবেচনা করছে এবং করবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার যেকোনো অপরাধ ফৌজদারি আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে সংগ্রহ করা প্রমাণের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। “স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি যে, যে হোক, দল-পক্ষ পরিচয় নির্বিশেষে, যেকোনো প্রকার সহিংসতায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আইনবিধি অনুযায়ী তাদের মূলোৎপাটন করা হবে। কেউ কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল নাগরিক ও পক্ষকে আইন মেনে চলার জন্য দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করছি। আইনবিধির বাইরে গিয়ে ধৃষ্টতা দেখালে, আইন অমান্য করলে, আইনবিধি অবহেলা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভূঞাপুরে অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট এবং অটল।”














