মোঃ ওমর ফারুক (সানি), স্টাফ রিপোর্টার
এক অদম্য নারী আর সফল জননীর গল্প
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুচর গ্রামের মোছাঃ রোজিনা পারভীন। অল্প বয়সেই বিয়ে হয় ঢাকার যাত্রাবাড়িতে। সেখানেই সংসার শুরু। কোল জুড়ে আসে দুটি পুত্র সন্তান। এক সন্তান ক্লাস থ্রিতে পড়ে অন্য জনের বয়স মাত্র ৬ মাস।
ঠিক সে সময় স্বামী তাদের ছেড়ে চলে গেলেন। অন্যত্র বিয়ে করে নতুন করে সংসার বাধলেন। বহু চেষ্টা করেও স্বামীকে আর ফেরানো গেল না। দুই শিশু সন্তান নিয়ে চাটমোহর বালুচরে দিনমজুর বাবার ঘরে আশ্রয় নিলেন। অতি অর্থকষ্টের মাঝেও হারাননি মনোবল। শুরু হল জীবন সংগ্রাম।
চাটমোহর পৌরসভায় মাত্র ৩ হাজার টাকার বেতনে অস্থায়ী চাকুরি নিলেন। এই সামান্য অর্থ আর দিনমজুর বাবার উপার্জনে ছেলেদের পড়াশুনার খরচ চালিয়েছেন। স্বপ্ন একটাই সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করা। বড় ছেলে জীবনও থেমে থাকেনি। লেখাপড়া করেছেন মনোযোগ দিয়ে। ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি আর এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫। চাটমোহরের শিক্ষকগণ তাকে পড়িয়েছেন বিনামূল্যে।
ছোট্ট জীবন তার দিনমজুর নানা আর মায়ের কষ্ট এবং তার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকদের অকৃত্রিম স্নেহের প্রতিদান দিয়েছেন।
ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হয়ে ভর্তি হলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে। কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস পাশ করে হয়ে গেলেন ডা. মো: মনির হোসেন জীবন। সফলতা গল্প এখানেই শেষ নয় সর্বশেষ ৪৮তম বিসিএস এ স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ হলেন।
০৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস ২০২৫ চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে এই অদম্য নারীকে সম্মানোনা জানানো হয়েছে। তিনি আবেগমাখা কন্ঠে আর অশ্রুসিক্ত নয়নে সকলের কাছে একটা দোয়াই চাইলেন তার সন্তান যেন মানুষের সেবা করতে পারে। এই অদম্য নারী আর সফল জননীর সংগ্রামী জীবনকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। সংগ্রামী মা রোজিনার আত্মত্যাগ আর তার সন্তান ডা. জীবনের এই সফলতার গল্প দেশের হাজারো রোজিনা আর হাজারো জীবনের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার বাতিঘর।

















