বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক মঞ্চে আ.লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩২ এএম | 120 বার পড়া হয়েছে
হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক মঞ্চে আ.লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল এন্ড কলেজে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।গত রবিবার(১৬ নভেম্বর)প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রিয়া ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মোহন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহ। একই মঞ্চে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগসহ বিএনপির আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা। ক্ষমতাসীন দল,প্রায় বিরোধী দল ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের একই মঞ্চে উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অধ্যক্ষ মোহন মিয়া সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর ও আওয়ামী লীগ নেতা রহম আলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। রাজনৈতিক পরিচয়সহ তার পুরোনো ছবি আবারও ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি অংশের অভিযোগ—তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের প্রতি এতটাই অনুগত ছিলেন যে স্বতন্ত্র এমপি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন তার কলেজে গেলে নাকি যথাযথ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়নি এবং এমপি হয়েও তিনি প্রটোকল পাননি। পাশাপাশি কলেজ পরিচালনা নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও মাঝে মাঝে ওঠে বলে দাবি করছে আরেকটি মহল।
তবে সমর্থকদের দাবি, মোহন মিয়া ছিলেন উপজেলার একমাত্র নেতা যিনি আগে প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এদিকে এক মঞ্চে ওসি, বিএনপি নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতি নিয়ে জনমনে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মনে করছেন মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে রাজনীতি প্রধান বিষয় নয়, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—প্রশাসনের নিরপেক্ষতা কি বজায় থাকল?
বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কয়েকজন জানিয়েছেন,অতীতে আওয়ামী লীগ তাকে ব্যবহার করেছে।বর্তমানে বিএনপি নেতারা তার কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। ঘুরেফিরে ঘটনা একই।
এদিকে সমালোচনা ও আলোচনা চলমান থাকলেও অধ্যক্ষ মোহন মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, “পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে একসময় দল করতাম। আমি কোনো অপরাধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। রাজনীতি করা খারাপ কিছু না। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।”
চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি এবং একই মঞ্চে আ.লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে মাধবপুরজুড়ে এখনো ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ছবি: একই মঞ্চে আওয়ামী লীগ নেতা ও অধ্যক্ষ মোহন মিয়া, ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ এবং বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সোহাগ — পাশে ভাইরাল হওয়া ফেসবুক স্ক্রিনশট।

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!