সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

হিমালয়ের যে নদী মাউন্ট এভারেস্টকে ঠেলে ওপরে তুলে দিচ্ছে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০২৪, ৬:২১ পিএম | 189 বার পড়া হয়েছে
হিমালয়ের যে নদী মাউন্ট এভারেস্টকে ঠেলে ওপরে তুলে দিচ্ছে

মাউন্ট এভারেস্টের পাদদেশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি নদীতে ভূমিক্ষয়ের কারণে বিশ্বের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গটির উচ্চতা ১৫ থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে নতুন একটি গবেষণাপত্রে জানা গেছে।

ওই নদীতে ভূমিক্ষয় হয়ে যে পাথর ও মাটি সরে যাচ্ছে নদীবক্ষ থেকে, তারই চাপে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে গবেষকরা জানাচ্ছেন।

ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভারেস্ট থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে অরুণ নদী অববাহিকার ভূমি-ক্ষয়ের ফলেই প্রতিবছর মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা দুই মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

“এটা অনেকটা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে মালপত্র ফেলে দেওয়ার মতো ব্যাপার,” বিবিসিকে জানাচ্ছিলেন ওই গবেষণাপত্রের সহ-লেখক অ্যাডাম স্মিথ।

তার ব্যাখ্যা, “জাহাজ থেকে পণ্য ফেলে দেওয়া হলে জাহাজটি কিছুটা ওপরে ভেসে থাকতে পারে, তাই ভূ-ত্বকের ক্ষরণ হলে পর্বতশৃঙ্গটিও কিছুটা ওপরে উঠে যাবে।“

যেভাবে সর্বোচ্চ শৃঙ্গের উচ্চতা বাড়ছে
প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি বছর আগে ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের মধ্যে ধাক্কার অভিঘাতে হিমালয়ের জন্ম হয়েছিল। দুটি প্লেটের ঘাত-অভিঘাতের কারণে এখনও হিমালয়ের উচ্চতা বেড়ে চলেছে।

তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডন বা ইউসিএলের বিজ্ঞানীরা বলছেন যে দুটি প্লেটের ঘাত-অভিঘাত ছাড়াও মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা বৃদ্ধির বাড়তি আরও একটা কারণ অরুণ নদীতে ঘটে যাওয়া ভূ-বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনগুলি।

হিমালয়ের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়ার পথে অরুণ নদী নদীবক্ষ, অর্থাৎ ভূত্বক থেকে পাথর ও মাটি কেটে নিয়ে যায়। এর ফলে ভূত্বকের ঠিক নিচে ম্যান্টেল নামের যে স্তরটি রয়েছে তা ওপরের দিকে ফুলে ওঠে।

এই প্রক্রিয়াটিকে ভূবিজ্ঞানের তত্ত্বে আইসোস্ট্যাটিক রিবাউন্ড বলা হয়ে থাকে।

নেচার জিওসায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়েছে, এই ভূবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ফলে এভারেস্ট ও সেটির কাছাকাছি অঞ্চলের অন্যান্য পর্বতশৃঙ্গগুলিকে ওপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এভারেস্ট ছাড়াও বিশ্বের চতুর্থ ও পঞ্চম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ– যথাক্রমে লোৎসে এবং মাকালুর উচ্চতাও বেড়ে যাচ্ছে।

গবেষণাপত্রটির আরেকজন সহ-লেখক ড. ম্যাথু ফক্স বিবিসিকে ব্যাখ্যা করছিলেন, “ভূমিক্ষয়ের ফলে যে হারে মাউন্ট এভারেস্ট ও কাছাকাছি অন্যান্য শৃঙ্গগুলির উচ্চতা কমছে, তার থেকে বেশি হারে আইসোস্ট্যাটিক রিবাউন্ড শৃঙ্গগুলিকে ঠেলে ওপরের দিকে ঠেলে তুলে দিচ্ছে।”

“আমরা জিপিএস যন্ত্র ব্যবহার করে দেখেছি যে ওই পর্বতশৃঙ্গগুলির উচ্চতা বছরে প্রায় দুই মিলিমিটার করে বাড়ছে। এই উচ্চতাবৃদ্ধির কারণ আমাদের কাছে এখন আগের থেকে অনেক পরিষ্কার,” বলছিলেন ম্যাথু ফক্স।

‘বিশ্বাসযোগ্য তত্ত্ব’
ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন কয়েকজন ভূবিজ্ঞানী বলছেন যে, এই তত্ত্বটি বিশ্বাসযোগ্য ঠিকই, কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে।

চীন ও নেপালের সীমান্তে অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট। শৃঙ্গটির উত্তরভাগ চীনের সীমানায় পড়ে।

অরুণ নদী তিব্বত থেকে নেমে আসে নেপালে। আরও দুটি নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে ওই নদীটির নাম হয় কোশী। কোশী নদী নেপাল থেকে উত্তর ভারতে প্রবেশ করেছে, যা পরে আবার গঙ্গায় মিশেছে।

খাড়া পর্বতমালার মধ্যে দিয়ে অরুণ নদী প্রচণ্ড স্রোতে নেমে আসে, তার ফলে নদীটির পলিমাটি কেটে নিয়ে আসার ক্ষমতাও খুব বেশি। নদীটির যাত্রাপথে তাই প্রচুর পরিমাণে পাথর আর মাটি বয়ে আনে।

চায়না ইউনিভার্সিটি অফ জিওসায়েন্সের গবেষক ড. শু হান ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডনের প্রকাশিত গবেষণাপত্রটির মূল লেখক। ইউসিএলে একটি স্কলারশিপে এসে গবেষণাপত্রটির কাজ করেছিলেন তিনি।

তার কথায়, “মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা বৃদ্ধি আরও বেশি করে আমাদের দেখিয়ে দেয় যে ভূত্বক আসলে কতটা গতিশীল একটা ভূবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।”

“অরুণ নদীর নদীবক্ষের ক্ষয় আর ভূ-ত্বকের ঠিক নিচে অবস্থিত ম্যান্টেল স্তরটির ওপরের দিকে চাপ দেওয়ার ফলেই মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা যতটা হওয়া উচিত ছিল, তার থেকেও বেড়ে যাচ্ছে,” জানাচ্ছিলেন ড. শু হান।

গবেষণায় অনিশ্চয়তাও আছে
ইউসিএলের গবেষণাপত্রটি জানাচ্ছে যে তিব্বত থেকে বয়ে আসা আরও একটি নদীখাতের সঙ্গে যে সময়ে মিশেছে অরুণ নদী, তখন থেকেই বিপুল পরিমাণে মাটি আর পাথর কেটে নিত নদীবক্ষ থেকে। তার পরিমাণ এবং গতি সম্ভবত আরও বেড়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবরার স্কুল অফ জিওসায়েন্সেসের অধ্যাপক হিউ সিনক্লেয়ার ইউসিএলের ওই গবেষণার বিষয়ে বলছেন, যে ইউসিএলের গবেষকরা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা বৃদ্ধির যে অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে বের করেছেন, তা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত।

তবে তিনি এটাও বলছেন, যে নদীবক্ষের মাটি আর পাথর কেটে নেওয়ার সঠিক পরিমাণ ও সময়কাল এবং তার ফলশ্রুতিতে আশপাশের শৃঙ্গগুলির উচ্চতা বৃদ্ধির মধ্যে অনেক অনিশ্চয়তা এখনও আছে।

তার কথায়, “প্রথমত, একটি নদীপথ আরেকটি নদীখাতে মিশে যাওয়ার ফলে বিরাট অববাহিকা জুড়ে একটি নদীবক্ষের মাটি ও পাথর কেটে আনার পরিমাণ হিসাব করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।”

এই অনিশ্চয়তার কথা মানছেন গবেষণাপত্রটির লেখকরাও।

অধ্যাপক হিউ সিনক্লেয়ার দ্বিতীয় যে বিষয়টির উল্লেখ করছেন তা হলো, ব্যাপক পরিমাণে ভূ-ক্ষয় নদীবক্ষের যেখান থেকে শুরু হয়েছে, তার থেকে কত দূরত্বে শৃঙ্গগুলির উচ্চতা বৃদ্ধি শুরু হয়েছে, এই হিসাব করা কঠিন।

“এইসব হিসাব নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও মাউন্ট এভারেস্টের ব্যতিক্রমী উচ্চতাবৃদ্ধির সঙ্গে নদীর সংযোগ খুঁজে পাওয়াটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা,” বলছিলেন অধ্যাপক সিনক্লেয়ার।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

মোঃমাহফুজুর রহমান বিপ্লব। প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০২ এএম
ফরিদপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বিকাশ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর করেছে বলে জানাযায়।

আজ রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্মের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বিকাশ চন্দ্র কর্মকার বোয়ালমারী উপজেলার কামারহাটি গ্রামের নিতাই চন্দ্র কর্মকারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কয়েক বছর আগে সাতৈর বাজারে স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় লোকসানের কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং দেনা পরিশোধ করতে জমিজমা বিক্রি করেন। প্রায় দুই বছর আগে তার স্ত্রী মারা যায়। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্থানীয়দের ধারণা, ঋণগ্রস্ততা ও ব্যক্তিগত হতাশা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পদ বেঁচে নেয়।

জানাযায়, রাজশাহী থেকে গোপালগঞ্জগামী গামী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে বোয়ালমারী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দীর্ঘ এক যুগ পর কোর্টের রায়, স্থানীয় জনতার সহায়তায় জমি উদ্ধার

ফারুক হোসাইন, ব্যুরো প্রধান, রংপুর প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০০ এএম
দীর্ঘ এক যুগ পর কোর্টের রায়, স্থানীয় জনতার সহায়তায় জমি উদ্ধার

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের উত্তর ঘনেশ্যাম তুষভান্ডার বাজার এলাকায় ০৫-০৪-২৫ রোজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে জমির মালিকানা ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত মালিকরা। সিভিল জজ আদালতের মোকদ্দমা নম্বর ১২৩/১৫-এর রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে স্থানীয় জনতার সহায়তায় জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, তুষভান্ডার বাজার এলাকার ৪৮৩৪ দাগের ‘ক’ তফসিলে বর্ণিত প্রায় ৪০ শতক জমি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন দেবদাস রায় মোহন, পিতা: যতীন্দ্র মোহন, উত্তর ঘনেশ্যাম। এ ঘটনায় শ্রী বিপিন চন্দ্র রায় ওরফে নূর মোহাম্মদ, পিতা: বিজন ভূষণ রায় বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ শুনানি ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর আদালত প্রকৃত মালিকের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
রায় কার্যকর হওয়ার পর স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটে। স্থানীয়রা জানান, এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রকৃত মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা জমি ফিরে পেয়ে খুশি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অন্যায়-জুলুম আর কারও সঙ্গে না ঘটে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সার সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৭ এএম
সার সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সার সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিক দল। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অবরোধে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

অবরোধ চলাকালে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম ফকু, সাধারণ সম্পাদক এস এম হুনান হক্কানি এবং জেলা যুবদলের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নুর মোহাম্মদ প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা কামালকে অবৈধভাবে বাফার গোডাউনে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। তিনি সারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

তারা আরও বলেন, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপসারণ করা না হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কর্মসূচি শেষে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

error: Content is protected !!