বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

“কেবল ফলাফলমুখী শিক্ষা নয় যোগ্যতা ভিত্তিক শিক্ষা চাই” : এম নজরুল ইসলাম খান

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৪৩ পিএম | 145 বার পড়া হয়েছে
“কেবল ফলাফলমুখী শিক্ষা নয় যোগ্যতা ভিত্তিক শিক্ষা চাই” : এম নজরুল ইসলাম খান

একটা সফল রেজাল্ট কার্ডের চেয়ে একজন সার্থক শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা যথার্থ।সব অভিভাবকই চান তার সন্তান শিক্ষা- দীক্ষায়, আচার-আচরণে, মেধা-মননে সুনাগরিক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করুক। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীতে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি তারা যেন নিজেদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। সে ধরনের শিক্ষাই প্রত্যেক পিতা-মাতা তথা অভিভাবকগণ সন্তানকে দিতে চান কিন্তু তবুও সবার প্রত্যাশা পূরণ হয় না এর জন্য ভালো ও সচেতন অভিভাবক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপযুক্ত অভিভাবকই পারে চাওয়াকে পাওয়ায়তে রূপান্তরিত করতে।
প্রতিষ্ঠানের বা শিক্ষকের পক্ষ থেকে অতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা /অনুরোধ ও আবেদনগুলি অধিকাংশ অভিভাবকগণ সঠিক মত প্রতিপালন না করে শুধু পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করতে প্রত্যাশা করেন।এটা কি সম্ভব ? আপনার সন্তানের কল্যাণে কি কি বিষয় প্রয়োজন? সন্তান প্রতিপালনের সঠিক নিয়ম/ পদ্ধতি কি? সন্তানের নৈতিক শিক্ষাদানের পদ্ধতি কি? পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের উপায় উপায় কি? এসবের উত্তর জানা একান্ত দরকার।সন্তান স্কুলে ঠিকমতো উপস্থিত থাকে কিনা? বিগত ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেছেন কিনা? শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকলে লেখা-পড়ার ব্যাঘাত হবে চিন্তিত হয়ে দ্রুত চিকিৎসক দেখিয়েছেন কিনা? ভার্চুয়াল জগতে বা ফেসবুক /ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে বা ইন্টারনেটে আসক্তি কিনা? নিয়মিত পড়ার টেবিলে পড়তে বসে কিনা? আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা ঈদ/ পূজায় অতিরিক্ত বেড়ানোর কারণে লেখাপড়ায় ক্ষতি হচ্ছে কিনা বা কোন অতিথি ঘরে / বাড়িতে/বাসায় আসলে লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে কিনা? এসব বিষয়ে সচেতন না থাকলে অথবা এসব বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিয়ে ভালো রেজাল্ট করার আশা করা বৃথা।

ভালো রেজাল্ট এবং ভালো শিক্ষার্থীর সব সময় এক নয়।সে সকল অভিভাবক গণেরই বেশি সমস্যা হয় বা তারাই মনের ভেতর রাগ /ক্ষোভ নিয়ে বসে থাকেন যারা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকের ডাকা মিটিং-এ অনুপস্থিত বেশি। তাই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সকল অভিভাবকদের স্বার্থেই, ছাত্রেরদের ভালো লেখাপড়ার স্বার্থে,ফলাফলে সবার প্রিয় করতে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি, লেখাপড়া পদ্ধতি,পরীক্ষা পদ্ধতি,সিলেবাস,রেজাল্ট কার্ড এর প্রস্তুত পদ্ধতি সহ সকল বিষয়ে অবগত হওয়ার জন্য যখন ডাকে বা অভিভাবক মিটিং হয় তখন সব কাজ রেখে সন্তানের কল্যাণে আগে মিটিং-এ যাবেন।
শিশুর কল্যাণের জন্য পিতা-মাতার সব সময় শিক্ষকের সাথে সুসম্পর্ক/যোগাযোগ রাখা উচিৎ। যখন সাময়িক/প্রান্তিক/ সামষ্টিক পরীক্ষার/ মূল্যায়নের ফলাফল/ শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতির রিপোর্ট কার্ড বিতরণ হয় তখন ডাকা হয়।
শুধুই লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতির কার্ড/ রেজাল্ট প্রস্তুত করা হয় না।ফলাফল বিষয়ে অনেক কথা আছে যা বুঝতে হবে নতুবা বর্তমানের ফলাফল ব্যবস্থায় অভিভাবকদের মন খারাপ হতে পারে,তাই শিশুদের ফলাফল না বুঝে কেউ শিশুদের প্রতি মন খারাপ করবেন না, ফলাফল বিষয় শিক্ষকদের পরামর্শ শুনুন।শিক্ষার্থীদের কি কি দোষ -ত্রুটি বা শিখন ঘাটতি আছে তা নির্ণয় করে সেসব শিক্ষা দিতে হবে। সন্তানের পরীক্ষার খাতাটা শিক্ষার একটি উপায় মাত্র কারণ সে কি কি ভুল করেছে বা কি কি লিখতে পারেনি তার বিপরীতে ব্যবস্থা নিতে হবে। আপনার ফ্যামিলির যারা শিক্ষিত বা পরীক্ষার খাতাটা বুঝতে পারবে তাকে দিয়ে খাতাটা চেক করে নিন,কোন সমস্যা থাকলে অফিসে জানাবেন।শিক্ষক মানুষতো তাঁরও ভুল হয়,ভুল পেলে ধরিয়ে দিতে হবে শত্রুতা করা যাবেনা। ভালো ফলাফলের জন্য অভিভাবকের কর্তব্য ছাত্র- ছাত্রীর চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। নাম্বার বেশি দিলেই/পেলেই খুশি হন এমন যদি হয় অভিভাবক তবে তার সন্তান শিক্ষা হবেনা।নাম্বার দেয়া কোন ব্যপারইনা, শিক্ষা দেয়াটাই বড় ব্যপার। শিশুর খাতা পর্যবেক্ষণ/ পর্যালোচনা করানোর তারিখ যখন পাবেন অবশ্যই আসবেন।শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে যে ত্রুটি বা ভুলগুলি আছে সেগুলি শুদ্ধ করার জন্য ভুল কেঁটে সেগুলো আবার শুদ্ধ করে লিখিয়ে তারপর তাকে শিখাতে হবে। প্রয়োজনে এসে স্যারকে বলে খাতা মোবাইলে ছবি করে নিবেন।যারা শিশুর জন্য শ্রম দিতে রাজি আছেন তারা সফল হবেন,ইনশাআল্লাহ।
অতএব, বেশি নাম্বার না পাওয়ার চেয়ে যথাযথ শিক্ষা অর্জনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।তাই মিটিং-এ সকল অভিভাবক এর উপস্থিতি একান্ত কাম্য।শিশুদের নিয়ে কি পরিকল্পনা তা শিক্ষকদের জানাবেন, শিশুদের ভুল -ভ্রান্তি নিয়ে বা পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে সময় করে আসবেন,বসবেন।প্রতিষ্ঠানের সফলতা, মঙ্গল এই শিশুদের উপর নির্ভরশীল।শিক্ষকগণ চান সকল শিক্ষার্থীরা প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠুক। প্রথম স্থান -দ্বিতীয় স্থান- তৃতীয় স্থান এটা তেমন বড় বিষয় নয়।১০০ এর মধ্যে ৩৩ নাম্বার পেয়েও কোন কোন প্রতিষ্ঠানে প্রথম স্থান হওয়া যায়, আবার এমন বহু প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে ৯৯ নম্বর পেয়েও প্রথম স্থান পাওয়া যায় না। নাম্বার পাওয়া বড় বিষয় নয় বিষয় হচ্ছে শিক্ষা।কতটা শিখলো তাই আসল।ভালো নাম্বারের চেয়ে কতটা ভালো শিক্ষার্থী তাই কাম্য।ভালো
পরীক্ষার্থীর চেয়ে ভালো শিক্ষার্থী দরকার।
ভালো শিক্ষার্থী তৈরির জন্য শুধু পরীক্ষায় নয়।পরীক্ষা হলো শিক্ষার্থীর শিখনে আরও কি কি সহায়তা বা অগ্রগতি দরকার তা নির্ণয় করার সুযোগ। ভালো শিক্ষার জন্য যোগ্য শিক্ষক, সচেতন অভিভাবক ও মনোযোগী শিক্ষার্থী প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুণাবলী অর্জন,কাঙ্খিত আচরণিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার নৈতিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে।তাই বলাতে কোন দ্বিধা নেই,”ভালো রেজাল্ট কার্ডের প্রত্যাশার চেয়ে দক্ষ,যোগ্য,যথার্থ শিক্ষার্থী শ্রেয়”।

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!