শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

পুলিশের মানক্ষুন্ন,করার চেষ্টা

লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযানে হামলার শিকার ট্রাফিক সার্জেন্ট

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:৪৪ পিএম | 70 বার পড়া হয়েছে
লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযানে হামলার শিকার ট্রাফিক সার্জেন্ট

চট্টগ্রাম বন্দর নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় ব্যাটারিচালিত লাইসেন্সবিহীন একটি অটোরিকশা আটককে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মব সৃষ্টি করে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছে কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল অটোরিকশা চালক। এ সময় তারা জব্দ করা অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর পতেঙ্গা থানার কাটগড় এলাকায় বিমানবন্দর সড়কে। আহত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর ট্রাফিক জোনে রেকার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযানের সময় আকস্মিক হামলা — সেদিন নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বন্দর ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট ও কনস্টেবল নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর সড়কের কাটগড় মোড়ে দায়িত্বে ছিলেন। কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা লাইসেন্সবিহীন ও অনুমোদনবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছিলেন।
অভিযানের একপর্যায়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থামানোর নির্দেশ দিলে চালক তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ গাড়িটি আটক করে থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তখনই চালক ক্ষিপ্ত হয়ে হৈচৈ শুরু করে এবং আশপাশের অটোরিকশাচালকদের উত্তেজিত করে তোলে।
অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫০-৬০ জন চালক সেখানে জড়ো হয়ে এক ধরনের মব পরিস্থিতি তৈরি করে। তারা কনস্টেবল নজরুলকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং জব্দ করা অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিত গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আহসান হাবীব বলেন — ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা একজন ট্রাফিক কনস্টেবলের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা মামলা নিয়েছি। ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
আমরা নিয়ম অনুযায়ী অভিযান চালাচ্ছিলাম – বন্দর ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা কমিশনার স্যারের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করছিলাম। লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ অটোরিকশা নগরীতে চলাচল করতে পারবে না। কিন্তু অভিযানে গেলেই কিছু চালক উল্টো পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এবারও এমনই ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, যে চালক পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেছে, তাকে শনাক্তের কাজ চলছে। তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।বাড়ছে লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা, চট্টগ্রাম নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। নগরের বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড, আকবরশাহ ও ডবলমুরিং এলাকায় লাইসেন্সবিহীন প্রায় কয়েক লাখের ও বেশি অটোরিকশা প্রতিদিন রাস্তায় নামছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
আইন-শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট ও জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এসব রিকশা ব্যবহার হচ্ছে ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া – নগরের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, পুলিশের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় — এটি নগরীর শৃঙ্খলাভঙ্গের বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বন্দর ইপিজেড পতেঙ্গা সচেতন নাগরিক সমাজ-এর একজন সদস্য বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি সম্মান দেখানো প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। যারা পুলিশের কাজে বাধা দেয়, তারা রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। দায়ী অটোরিকশা চালক ও মদদদাতাদের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে শনাক্ত করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, অচিরেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি এমন অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের সাহস না পায়।
চট্টগ্রাম নগরে পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা, বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ, ইতিমধ্যে নগরজীবনে এক জটিল সংকট সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালেও নিয়ন্ত্রণহীন রিকশা মালিক সমিতিগুলোর প্রভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই যদি সরকার ও সিএমপি প্রশাসন সমন্বিতভাবে কঠোর নীতি গ্রহণ না করে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে এমন ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে নাজুক হয়ে পড়বে।

“আর হবে না দেখা” — প্রয়াত গুণী শিল্পীদের স্মরণে আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

তালাত মাহামুদ, বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৮ এএম
“আর হবে না দেখা” — প্রয়াত গুণী শিল্পীদের স্মরণে আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

নরসিংদীতে আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো প্রয়াত তিন গুণী সংগীত ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। “আর হবে না দেখা” শিরোনামে এই স্মরণসভা আয়োজন করে বৈশাখী সংগীত একাডেমী, নরসিংদী।

আজ বিকেল ৩টায় নরসিংদী প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত এ সভায় স্মরণ করা হয় দেশের প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী নাজির উদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট তবলা বাদক ফকির পিয়ার হোসেন এবং তবলা বাদক বীরেন্দ্র চন্দ্র দাসকে।
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক এবং বৈশাখী সংগীত একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এমন গুণী শিল্পীদের অবদান আমাদের সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। তাদের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়, তবে তাদের কর্ম আমাদের পথ দেখাবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মন্দী গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন নাজির, নরসিংদী প্রেসক্লাবের প্রবীণ সাংবাদিক ও সাবেক সভাপতি নিবারণ চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি হলধর দাস, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রমজান আলী প্রামানিক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী নূর হোসেন মিন্টু, দৈনিক আজকের খোঁজখবর পত্রিকার সম্পাদক মনজিল এ মিল্লাত, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নজরুল একাডেমী জেলা শাখার অধ্যক্ষ মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর সজন সমাবেশের সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান খোকন এবং নবধারা কণ্ঠশিল্পন-এর পরিচালক মোতাহার হোসেন অনিকসহ আরও অনেকে।
প্রয়াত তিন শিল্পীর জীবনী পাঠ করেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পী তাসনিম আনআম রাইসা। জীবনী পাঠের সময় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
স্মরণসভায় বক্তারা প্রয়াত শিল্পীদের জীবন, কর্ম এবং সংগীতে তাদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বৈশাখী সংগীত একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক তাসমিনা ইয়াসমিন রুনা, তবলা প্রশিক্ষক অভিজিৎ পদ্মা টিপু, কণ্ঠশিল্পী টিপু সুলতান, পুরবী সংগীত একাডেমীর অধ্যক্ষ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস এবং নজরুল সংগীত শিল্পী ও গবেষক মনিরুল ইসলাম মনি স্মৃতিচারণ করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবব্রত সাহা দেবু, নরোত্তম দাস, শফিকুল ইসলাম লিটন, স্বপন সাহা, প্রেমানন্দ বিশ্বাস, নিতাই সাহা, সৌরভ, ডা. বিধু ভূষণ দাস, জাহাঙ্গীর আলম খোকন, শাওন, ঝন্টু, অসিত বর্মন, সন্তোষ কুমার সূত্রধর, সমীর রায়, জয় সাহাসহ জেলার বহু শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বৈশাখী সংগীত একাডেমীর সাংগঠনিক সম্পাদক পরিতোষ চন্দ্র দাস।
স্মরণসভা শেষে প্রয়াত শিল্পীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরা এক অনন্য পরিবেশ—যেখানে বারবার উচ্চারিত হয়েছে, “আর হবে না দেখা”, কিন্তু তাদের সৃষ্টিকর্ম চিরকাল বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে।

লালমনিরহাটে দিনদুপুরে হামলা-ভাঙচুর, গাছ কেটে লুটপাট: আতঙ্কে অসহায় পরিবার, থানায় অভিযোগ

ফারুক হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান লালমনিরহাট প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩১ এএম
লালমনিরহাটে দিনদুপুরে হামলা-ভাঙচুর, গাছ কেটে লুটপাট: আতঙ্কে অসহায় পরিবার, থানায় অভিযোগ

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনদুপুরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একটি পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুস সাত্তার (৬৮) তার বড় ভাই মোঃ আব্দুস সোবাহান (৭০) ও ভাতিজা মোঃ সাগর (৩২) এবং মোঃ রেজাউল (২২)-এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির উত্তর পাশের সীমানা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছেন।
গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা টিনের ঘর ও বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং টিন খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতেই ক্ষান্ত না হয়ে তারা বাড়ির সীমানায় থাকা প্রায় ২০-২৫টি বিভিন্ন ফলজ গাছ—সুপারি, আম ও কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলে, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ মোছাঃ নুর জাহান বেগম (২০)-কে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া অপর পুত্রবধূ মোছাঃ হোসনে আরা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং তার গর্ভের সন্তানের জীবননাশেরও চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময় পুনরায় সুযোগ পেলে হত্যার হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা ভুক্তভোগী পরিবার লালমনিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস সাত্তার বলেন, “আমরা এখন চরম আতঙ্কে আছি। যেকোনো সময় তারা আবার হামলা করতে পারে।”
এ বিষয়ে লালমনিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার জেলার অভিভাবক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

চট্টগ্রামে মানবাধিকার সংস্থার সাধারণ সভা: ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ঐক্যের আহ্বান

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা। প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৮ এএম
চট্টগ্রামে মানবাধিকার সংস্থার সাধারণ সভা: ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ঐক্যের আহ্বান

মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও নির্যাতন প্রতিরোধে জোর

চট্টগ্রাম, শুক্রবার:
ন্যায়, মানবতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার জেলা শাখার গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সভা। বিকাল ৪টায় জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইনের ল’ চেম্বারে আয়োজিত এই সভায় মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইন। বক্তারা বলেন, সমাজের অসঙ্গতি ও অন্যায় তুলে ধরতে সাংবাদিকরা যেমন অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তেমনি সেই সমস্যার প্রতিকার নিশ্চিত করতে কাজ করেন মানবাধিকার কর্মীরা। এই সমন্বয়ই একটি সুস্থ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
সভায় সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান মাস্টার আবুল কাশেম এবং জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইনের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে গৃহীত কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অঙ্গীকারের বার্তা
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইন বলেন,
“আমরা শুধু একটি সভায় বসিনি, আমরা একটি দায়িত্ব ও মানবিক সংগ্রামের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো এবং বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব বাস্তবায়নে
সভায় বক্তারা কথার চেয়ে কাজে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। এ লক্ষ্যে কয়েকটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়—
প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া
নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ
মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা ও শিক্ষা বিস্তার
অন্যান্য বক্তাদের অংশগ্রহণ
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওমর শরীফ লিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, গণমাধ্যম বিষয়ক সচিব সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম খান, হাটহাজারীর দায়িত্বশীল মোহাম্মদ আবদুল হালিম আলম, শ্রম বিষয়ক সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, শিল্প, জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক সচিব মোহাম্মদ মোরশেদ আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উপসংহার
সভাটি একটি শক্তিশালী ও কার্যকর মানবাধিকার আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে শেষ হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অন্যায়-অবিচারমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

error: Content is protected !!