রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

সুলেখা আক্তার শান্তা

অপূরণীয় পূর্ণতা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৩০ পিএম | 187 বার পড়া হয়েছে
অপূরণীয় পূর্ণতা

বড় বোন আবিদা একদিন ছোট ভাই এনামের কাছে এক অনুরোধ নিয়ে আসেন। ভাই, তোর তো দুই সন্তান। একটা সন্তান আমাকে দে।
এনাম কিছু না বললেও, তার স্ত্রী সেলিনা প্রতিবাদ করে ওঠেন। বাবা-মায়ের কাছে কখনো সন্তান বেশি হয় না। আমরা হয়তো ঠিকমতো খাওয়াতে-পড়াতে পারি না, কিন্তু সন্তান কাউকে দিতে পারব না। আমার সন্তান আমার বুকের ধন, আমার কাছেই থাকবে।
আবিদার চোখে জল। তার নিঃসঙ্গ জীবনে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা যেন বুক ফাটিয়ে বেরিয়ে আসে। সেই কান্না দেখে এনামের মন গলে যায়। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে আমি আমার বোনকে দেব। ওর কাছে আমার মেয়ে ভালো থাকবে। আমার অভাব-অনটনের সংসারে আমি হয়তো ঠিকভাবে সন্তান মানুষ করতে পারব না। কিন্তু বোনের কাছে থাকলে আমার মেয়ের জীবনটা ভালোভাবে গড়ে উঠবে। ভাই তাঁর বুকের ধন তুলে দিলো বোনের হাতে। ভালোবাসা, ত্যাগ আর বিশ্বাসের এক নিঃশব্দ চুক্তিতে।
সেলিনা চিৎকার করে ওঠেন, তার মানে তুমি আমার মেয়েকে দিতে চাও? এনাম শান্ত গলায় বলেন, তুমি আমাকে ভুল বুঝো না সেলিনা। আমার বোনের সন্তানের আফসোস ছিল, আর আমাদের মেয়েটাও আমার বোনের কাছে ভালো জীবন পাবে। আমি শুধু চাই, ও যেন ভালো থাকে।
ভাইয়ের এমন কথা শুনে আবিদার চোখে আনন্দের জল। ভাই, আমি তোকে কথা দিচ্ছি, তোর মেয়েকে আমি কখনো কষ্ট দেবো না। ওকে আমি নিজের সন্তানের মতো মানুষ করব। তোরা দেখবি, আমি কেমন করে ওকে বড় করি। আমার তো কোথাও কোনো কমতি নেই, শুধু ছিল সন্তানের অভাব। তোর মেয়ে শিলা, ওকে পেয়ে আমার সেই অভাব পূর্ণ হবে। সেলিনা চুপ হয়ে যান। তার চোখে জল, কিন্তু মনে এক আশার আলো। তাঁর মেয়ে সুন্দর জীবন পাবে। সেলিনা কাঁপা গলায় বলেন, আপা, আপনি তো চাকরি করেন। মেয়েটা একা পড়ে থাকবে বাসায়। আমার অভাবের সংসার হলেও, মেয়েটা ছিল আমাদের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। কাজের মেয়ের কাছে রেখে আপনি অফিসে যাবেন, এতে কি ও ভালো থাকবে?
আবিদা স্নিগ্ধ গলায় উত্তর দেন, সেলিনা, তুমি চিন্তা করো না। তোমার মেয়ের যত্নে কোনো কমতি থাকবে না। আমি ওকে নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করব, আমার সবটুকু দিয়ে।
শেষমেশ আবিদা শিলাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। শিলাকে পেয়ে তাঁর মন ভরে যায় প্রশান্তিতে। শিলার জন্য কী করবেন, সে যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারেন না। দিশেহারা হয়ে ওঠেন। শিলার ছোট ছোট হাসি, তার কচি হাতের স্পর্শে আবিদার জীবনে এক নতুন আলো জ্বলে ওঠে।
শিলাকে নিয়ে আসার প্রাই দুই বছর পর, আবিদার গর্ভে সন্তান আসে। এই খবরে আবিদার স্বামী আতিক আবেগে ভরে ওঠেন। শিলা আমাদের ভাগ্যলক্ষী। ও আসার পরেই তোমার গর্ভে সন্তান এলো।
আবিদার চোখে জল, মুখে হাসি। আমি মা হতে পারব! এ যে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ! আমার বড় সন্তান শিলা, ওর ভালোবাসায় কোনো কমতি হবে না। আমার দুই সন্তান, ওরা দুজনেই আমার ঘরে আলো ছড়াবে, আমার জীবনের পূর্ণতা হবে।
আবিদার গর্ভে সন্তান থাকাকালীন হঠাৎ সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিছানা থেকে উঠতে পারে না, চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে শিলা যেন ছোট্ট এক পরিপূর্ণ সেবিকা হয়ে ওঠে। মা ঠিকমতো খেলো কিনা, তার কী প্রয়োজন, কখন কী লাগবে, সবকিছুই শিলা মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করে। একদিন আবিদা কষ্টের মাঝে মেয়েকে বলেন, মা, তোর কিছু করতে হবে না। তুই তোর পড়ালেখা ঠিকমতো কর। শিলা মায়ের পাশে বসে মৃদু হাসি দিয়ে বলে, মা, আমার পড়ালেখা ঠিকই হচ্ছে। পড়া শেষ করেই তোমার কাছে আসি। তুমি এখন অসুস্থ, তোমার দিকে খেয়াল রাখা আমারই দায়িত্ব। আবিদার চোখে জল নিয়ে মেয়েকে আদর করে বলেন, আমার মেয়ে বলে কী! পাকনা মা আমার!
শিলার ভালোবাসা, যত্ন আর দায়িত্ববোধে আবিদার অসুস্থ শরীরেও যেন এক নতুন শক্তি জেগে ওঠে। এই মেয়ে শুধু তাঁর দত্তক নয়, সে যেন তাঁর হৃদয়েরই অংশ।
সেলিনা হঠাৎ একদিন ঢাকায় আসেন, মেয়েকে দেখতে। বাড়িতে ঢুকেই দেখেন, শিলা ঘরের কাজ করছে। দৃশ্যটা দেখে তার চোখ রাঙা হয়ে ওঠে। কী! আমার মেয়েকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে? আমার মেয়ে কি কাজের মেয়ে? তিনি রেগে গিয়ে বলেন, আমি আর আমার মেয়েকে এখানে রাখবো না। এখনই নিয়ে যাব।
আবিদা অবাক হয়ে বলেন, সেলিনা, আমার কাছে আসো। কী হয়েছে বলো? সেলিনা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, কী আর বলবো! এইটুকু মেয়েকে দিয়ে আপনি কাজ করাচ্ছেন! সেলিনা রাগ করো কেন? আমার ঘরে তো কাজের লোক আছে! মেয়েকে দিয়ে কখনো কাজ করাই নেই। আপনার সংসার সামলাতে আমার মেয়েকে এনেছেন?
আবিদা শান্ত গলায় বলেন, সেলিনা, শিলা কাজ করছে নিজের ইচ্ছায়। আমি কখনো ওকে জোর করিনি। ও আমাকে ভালোবাসে, আমার অসুস্থতার সময় কাজ করছে। সেলিনা কিছু সময় চুপ থাকেন। তারপর বলেন, আমার মেয়েকে দিয়ে কাজ করান, মেয়ে এখানে রাখব না। আবিদা বলেন, তুমি বারবার বলছো আমার মেয়ে, আমার মেয়ে। শিলা কি আমার মেয়ে নয়? হ্যাঁ, পেটের মেয়ে নয়, এটা বলছো ঠিক। কিন্তু ওরে আমি ভাবি না ও আমার পেটের মেয়ে না। এই কথায় সেলিনার চোখে জল আসে। সে বুঝতে পারে, শিলা শুধু তাঁর নয়, শিলা এখন দুই মায়ের ভালোবাসায় বড় হচ্ছে। সেলিনা রাগে ফুঁসে ওঠেন, শিলা আপনের ভাইয়ের মেয়ে! মেয়ে ভাবলে কি মেয়েকে দিয়ে কাজ করাতেন? আপনের ঘরে কাজের লোক আছে, তারপরও আমার মেয়েকে দিয়ে কাজ করান?
আবিদা কষ্ট পেয়ে বলেন, সেলিনা, তুমি কী বলছো? আমি কখনো শিলাকে ভাবিনি যে ও আমার মেয়ে না। তুমি যা দেখেছো, তা ভুল বোঝাবুঝি। আমি শিলাকে দিয়ে কোনো কাজ করাই না। ওকে আমি কখনো পানি পর্যন্ত ঢেলে খেতে দেই না, বরং আমি নিজে ওর কাজ করে দেই।
সেলিনা রেগে বলেন, আমি আর কিছু শুনবো না। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে যাব। সে শিলার দিকে ফিরে বলেন, চল মা, আমার সঙ্গে যাবি। শিলা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে বলে, আমি মাকে রেখে যাব না। মা অসুস্থ, মা আমাকে ভালোবাসে। আমি এখানেই থাকবো। এই কথায় সেলিনার চোখে জল আসে। সে বুঝতে পারে, শিলা এখন শুধু তার সন্তান নয়, শিলা এখন আবিদারও মেয়ে। একটা সম্পর্ক, যা মায়ার বন্ধন, ভালোবাসা আর সেই ভালোবাসা কোনো যুক্তিতে বাঁধা পড়ে না।
সেলিনা বলেন, তোর মা কে রে? তোর মা তো আমি! নিজের মাকে রেখে অন্যকে মা বলিস? চল, এখনই আমার সঙ্গে যাবি।
আবিদা তখন এতটাই অসুস্থ যে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। তিনি কাঁপা গলায় বলেন, শিলাকে নিও না… শিলা, মা তুই যাস না…!
শিলা চোখে জল, বলে, আমি মাকে রেখে যাব না। কিন্তু সেলিনা জোর করে শিলাকে টেনে নিয়ে যান। আবিদা বিছানায় শুয়ে কাঁদতে থাকেন, যেন বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে।
আতিক স্ত্রীর পাশে বসে বলেন, তুমি অন্যের মেয়ের জন্য এত ভেঙে পড়ছো কেন? শিলা কি তোমার মেয়ে? আবিদা চোখ মুছে বলেন, না, শিলা আমার পেটের মেয়ে নয়। তবে ও আমার হৃদয়। শিলা যদি আমার মেয়ে হতো, তাহলে কেউ ওরে নিয়ে যেতে পারতো না! আতিক চুপ হয়ে যান। আবিদার চোখে শুধু শিলার মুখ ভাসে ওঠে, মেয়ের কথা মনে করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদেন।
আবিদার ঘরে নতুন আলো আসে। তার গর্ভজাত কন্যা, তুলি। তুলিকে পেয়ে আবিদা যেন জীবনের পূর্ণতা খুঁজে পান। তবুও শিলার কথা তার মনে পড়ে, প্রতিদিন। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলেন, আমার দুই সন্তান। একজন পেটের, একজন হৃদয়ের। শিলা দূরে থাকলেও, তার প্রয়োজনীয় সবকিছু আবিদা পাঠিয়ে দেন। সেলিনা তা গ্রহণ করেন, কিন্তু সম্পর্কের দূরত্ব বজায় রাখেন।
হঠাৎ একদিন তুলির টাইফয়েড জ্বর হয়! কিছুতেই জ্বর ভালো হয় না। ঘাতক জ্বর তুলিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। শেষমেশ, তুলি পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। সন্তানহারা মা আবিদা ভেঙে পড়েন। শিলা সিদ্ধান্ত নেয় সে তার মায়ের কাছে ফিরে যাবে। সেলিনা বাধা দিয়ে বলেন, না, তুই যেতে পারবি না।
এনাম দৃঢ়ভাবে বলেন, তুমি কিছুতেই ওকে বাধা দেবে না। ওকে ওর মায়ের কাছে যেতে দাও। শিলা বলে, বাবা, আমি আমার মায়ের কাছে যাব। আজ আমাকে কেউ বাধা দিতে পারবে না। এনাম মৃদু হাসি দিয়ে বলেন, যা মা, তুই তোর মায়ের কাছে যা।
শিলা ছুটে আসে মায়ের কাছে। দরজায় দাঁড়িয়ে আবিদাকে জড়িয়ে ধরে, কাঁপা গলায় বলে, মা, তুমি আমার মা। আমি তোমার শিলা। কিন্তু সন্তানহারা আবিদা তখন পাগলের মতো। তাঁর হুশ নেই, কে তুমি? চলে যাও। আমি অপয়া। আমার কোনো সন্তান নেই। আমার সন্তান আমাকে ছেড়ে চলে গেছে…!
শিলার চোখে জল। সে মায়ের পাশে বসে, ধীরে ধীরে সেবা-যত্ন করতে থাকে। দিন যায়, রাত যায় শিলার ভালোবাসা, যত্ন আর ধৈর্যে আবিদা আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
একদিন আবিদা চোখ মেলে বলেন, আমি পাগল ছিলাম… ভালো ছিলাম… তুমি আমাকে কেন সুস্থ করলে? শিলা মৃদু হাসি দিয়ে বলে, মা, তুমি যে আমার মা। তোমার সেবা-যত্ন করাই তো আমার কর্তব্য।
আবিদা শিলাকে জড়িয়ে ধরেন। তুলির শূন্যতা, শিলার ভালোবাসায় কিছুটা পূর্ণতা পায়। আবিদা কাঁপা গলায় বলেন, তোমাকে তো তোমার বাবা-মা নিয়ে যাবে মা…!
শিলা জোর গলায় বলে, না মা, আমি আর যাব না। আমি তোমার কাছেই থাকবো। তুমি আমার মা। তোমার কাছ থেকে আমি মা গন্ধ পাই। তুমি আমাকে গর্ভে ধরো না ঠিকই, কিন্তু আমার হৃদয় বলে, তুমি আমার মা। আবিদার চোখে জল আসে। তিনি মৃদু হাসি দিয়ে বলেন, মা, তুই যাবি না তো? আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না? শিলা আবিদার হাত ধরে বলে, না মা, আমি যাব না। আমি তোমার মেয়ে, চিরকাল তোমারই থাকবো। ঠিক সেই মুহূর্তে এনাম আর সেলিনা এসে দাঁড়ান। দুজনে একসাথে বলেন, আপা, তোমাকে আমরা আমাদের সন্তানকে দিয়ে দিলাম। আর আমরা শিলাকে আমাদের সন্তান বলে দাবি করবো না। তুমি ওর মা, তুমি ওর মা হয়েই থাকো।
আবিদা শিলাকে জড়িয়ে ধরেন। শিলার চোখে আনন্দের জল। আর আবিদার মুখে প্রশান্তির হাসি। আবিদা শিলার সামনে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমি শিলার মা। আমি শিলার মা হয়েই থাকবো। ও আমার সন্তান ওরে নিয়ে যাবে না তো?
এনাম ও সেলিনা মাথা নাড়েন, না শিলা, তোমার মেয়ে তোমারই মেয়ে থাকবে। আবিদা দুহাত বাড়িয়ে বলেন, আয় মা, আমার বুকে আয়। শিলা ছুটে যায়, জড়িয়ে ধরে তার মাকে। আবিদার বুক যেন প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। হৃদয়ের হাহাকার, সন্তানের শূন্যতা, সব ভুলে যায় তিনি। শিলার স্পর্শে, ভালোবাসায়, তাঁর মন শান্তিতে ভরে ওঠে।
একটা সম্পর্ক, যা জন্ম নয়, ভালোবাসায় গড়ে ওঠে। একটা মেয়ে, প্রমাণ করে, মা হওয়া শুধু রক্তের নয়, হৃদয়েরও।

গ্রিস উপকূলে প্রাণ হারানোদের ১০ জনই সুনামগঞ্জের

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ২:১৪ পিএম
গ্রিস উপকূলে প্রাণ হারানোদের ১০ জনই সুনামগঞ্জের

সাগরপথে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাই উপজেলার ৪ জন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন।

গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া নৌযানটিতে ৪৩ জন অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের এক স্বজন।

এর আগে গ্রিক কোস্ট গার্ডের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, গত শুক্রবার রাতে ক্রিট দ্বীপের কাছে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে একজন নারী এবং এক শিশু রয়েছে। কোস্ট গার্ড নিশ্চিত করেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং একজন চাদের নাগরিক।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক, একই গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে মো. নাঈম, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েক আহমেদ, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান ও ইছাগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী।

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নূরুজ্জামান সরদার ময়না, আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান, ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া ও একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম।

স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, নিহতদের বহনকারী নৌযানটি সপ্তাহখানেক আগে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। নৌযানটি পথ হারিয়ে সাগরেই পাঁচ-ছয়দিন আটকা পড়েছিল। পথহারা অবস্থায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্কটের কারণে অনেকে মারা যান। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সুনামগঞ্জের বলে জানা গেছে।

জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউরা গ্রামের নিহত ইজাজুল হকের নিকটাত্মীয় নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে নৌকায় ৪৩ জন ছিল। এর মধ্যে ১৮ জন মারা গেছে। গত ২৩ মার্চ লিবিয়া থেকে নৌযানটি যাত্রা শুরু করার চারদিন পর গতিপথ হারিয়ে ফেলে। পরে খাবার সঙ্কটে অনেকে মারা যায়। পরে দুর্গন্ধ শুরু হলে লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। দালালের মাধ্যমে তার নিকটাত্মীয় ইজাজুল হক গ্রিস যাত্রা করেছে বলে জানতে পেরেছেন তারা।

তিনি জানিয়েছেন, জানুয়ারির ২২ তারিখে ইজাজুল হককে তারা বাড়ি থেকে বিদেশের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন। ২১ মার্চ নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা দিলেও দালাল তাদেরকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত আটকে রাখে। তারা নৌকায় থাকা একজনের ভিডিও ফুটেজ থেকে মৃত্যুর খবরটি জানতে পেরেছেন।

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের ইউপি সদস্য সানুর মিয়া বলেন, ‘নিহতদের চারজনের তিনজনই আমাদের গ্রামের। তারা দালালের মাধ্যমে প্রায় দুই-আড়াই মাস আগে বাড়ি থেকে বিদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সাগরপথেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’

চিলাউরা হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘জগন্নাথপুরে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আমার ইউনিয়নের আছে দুইজন। তারা সবাই লিবিয়া থেকে গ্রিস যেতে চেয়েছিল।’

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, ‘নৌযানে থাকা জীবিতদের মাধ্যমে যতটুকু জানতে পেরেছি, মৃত অবস্থায় দুইদিন নৌযানে থাকার পর যখন দুর্গন্ধ শুরু হয় তখন লাশগুলোকে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার চার জন আছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’

সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তার বলেন, ‘সাগরপথে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু মিডিয়ার মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্যটা জেনেছি। সুনির্দিষ্ট তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।’

শিশুকে সফল হিসেবে দেখতে চান?

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
শিশুকে সফল হিসেবে দেখতে চান?

নিজের সন্তানকে সফল হিসেবে দেখতে কে না চায়? বিষয়টি কঠিন কিছু নয় বলে জানাচ্ছেন গবেষকেরা।

গবেষণা থেকে জানা যায়, ঘরের কাজ করতে জানা শিশুদের জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শৈশব মানে শুধু খেলাধুলা বা পড়াশোনা নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি গড়ার উপযুক্ত সময়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা, বিশেষ করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৭৫ বছরের একটি গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে একটি ভিন্ন সম্ভাবনার কথা। গবেষণার ফলাফলে দাবি করা হয়েছে, যেসব শিশু ছোটবেলা থেকে ঘরের কাজে অংশ নেয়, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। ঘরের ছোট ছোট কাজ শিশুদের মধ্যে এমন কিছু গুণ তৈরি করে, যা কোনো পাঠ্যবই শেখাতে পারে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শৈশবের ছোট ছোট দায়িত্ব একটি শিশুকে মানসিকভাবে পরিপক্ব ও স্বাবলম্বী করে তোলে।

গবেষণা যা বলছে

হার্ভার্ড স্টাডি: ১৯৩৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ গবেষণায় দেখা গেছে, সফল ব্যক্তিদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল, তাঁরা ছোটবেলায় নিয়মিত ঘরের কাজ করতেন। এটি তাঁদের মধ্যে শক্তিশালী ওয়ার্ক এথিকস বা কাজের প্রতি নিষ্ঠা তৈরি করেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য: ২০১৯ সালের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, যেসব শিশু কিন্ডারগার্টেন থেকে ঘরের কাজে যুক্ত থাকে, পরবর্তী জীবনে তাদের গণিতের নম্বর এবং আত্মবিশ্বাস অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি হয়।

সঠিক সময়: মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামতে, ৩ থেকে ৪ বছর বয়সে শিশুকে ছোট কাজে যুক্ত করা ভালো। ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সে শুরু করলে তার প্রভাব ততটা কার্যকর হয় না।

আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ

গবেষণা বলছে, যেসব শিশু ছোটবেলা থেকে নিজের খেলনা গোছানো বা ঘর পরিষ্কারের মতো কাজে অংশ নেয়, তাদের মধ্যে একধরনের আত্মকার্যকারিতা তৈরি হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৭৫ বছরের এক বিখ্যাত গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে ঘরের কাজ করা শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় পেশাগত জীবনে অনেক বেশি সফল হয়। এর কারণ হলো, তারা খুব অল্প বয়স থেকে একটি কাজ শুরু করে তা শেষ করার আনন্দ ও তৃপ্তি অনুভব করতে শেখে। এই অভ্যাসের ফলে তারা বড় হয়ে যেকোনো কঠিন কাজকে ভয় না পেয়ে বরং চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

সময় ব্যবস্থাপনা ও কর্মনিষ্ঠা

সাফল্যের একটি বড় শর্ত হলো সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করা। ঘরের কাজে নিয়োজিত থাকলে শিশুরা বুঝতে পারে, পৃথিবী শুধু তাদের ইচ্ছেমতো চলে না। তারা বুঝতে শেখে, পৃথিবীতে কিছু কাজ রুটিনমাফিক করতে হয়। পড়াশোনার ফাঁকে বা খেলার আগে নিজের কাপড় ভাঁজ করা বা থালাবাসন ধোয়ার মাধ্যমে তারা কাজের গুরুত্ব নির্ধারণ করতে শেখে। এই অভ্যাস বড় হয়ে কর্মক্ষেত্রে তাদের সময়ানুবর্তী এবং অত্যন্ত নিষ্ঠাবান করে গড়ে তোলে।

সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা

একটি শিশু যখন ঘরের কাজে হাত লাগায়, তখন সে পরোক্ষভাবে তার বাবা-মায়ের পরিশ্রমের মূল্য বুঝতে পারে। এটি তাদের মধ্যে গভীর সহমর্মিতা তৈরি করে। তারা বুঝতে শেখে যে একটি সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে পরিবারের সবার অবদান প্রয়োজন। এই টিমওয়ার্ক বা দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তাদের সামাজিক সম্পর্কগুলোকে মজবুত করে এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের কাজ করা শিশুরা অন্যদের চেয়ে বেশি বন্ধুবৎসল এবং পরোপকারী হয়।

স্বনির্ভরতা বনাম পরনির্ভরশীলতা

অনেক সময় অভিভাবকেরা ভালোবেসে শিশুদের সব কাজ নিজে করে দেন। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এটি শিশুদের জন্য আসলে ক্ষতিকর। এতে তারা পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং নতুন কিছু করার সাহস হারায়। অন্যদিকে, ৩ থেকে ৪ বছর বয়স থেকে শিশুকে ছোট ছোট কাজে উৎসাহিত করলে তারা স্বনির্ভর হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারে, নিজের যত্ন এবং নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটি একান্তই তাদের। এই স্বনির্ভরতা তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে একাকী যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহায্য করে।

বয়স অনুযায়ী কিছু সহজ কাজের তালিকা

৩ থেকে ৫ বছরের শিশুদের খেলনা গুছিয়ে রাখা, ময়লা জামাকাপড় ঝুড়িতে রাখা, পোষা প্রাণীকে খাবার দেওয়ার মতো কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে পারেন। ৬ থেকে ৯ বছরের শিশুদের খাবার টেবিল গোছানো, নিজের বিছানা ঠিক করা, বাগান করা বা গাছে পানি দেওয়ার মতো কাজ করাতে পারেন। আর ১০ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের দিয়ে কাপড় ভাঁজ করা, ঘর মোছা বা ঝাড়ু দেওয়া, হালকা রান্না বা খাবার পরিবেশন করাতে পারেন।

নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন নেই

একটি শিশু যখন প্রথমবার ঘর কিংবা থালাবাসন পরিষ্কার করবে, তা হয়তো নিখুঁত হবে না। কিন্তু অভিভাবক হিসেবে আপনার কাজ হলো তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা। শিশুদের কাজ করে দিলে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ হারাবে। মনে রাখতে হবে, আজকের ছোট ছোট কাজই ভবিষ্যতে তাদের দায়িত্বশীল ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। শিশুদের ঘরের কাজ করানো মানে তাদের শৈশব কেড়ে নেওয়া নয়, বরং তাদের জীবনের বড় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা। এটি তাদের সৃজনশীলতা বাড়ায়, যুক্তি দিয়ে সমস্যা সমাধান করতে শেখায় এবং সর্বোপরি একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই শিশুদের কাজ করতে দেওয়া শুধু ঘরের পরিচ্ছন্নতার জন্য নয়, বরং তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর প্রধান

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৩ পিএম
সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর প্রধান

সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) এই সফরে যান তিনি। আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সফরকালে সেনাবাহিনীর প্রধান জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটলের উদ্যোগে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা প্রস্তাব গ্রহণ এবং সিনেট চেম্বারে একটি বিশেষ লেকচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়াও সেনাপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

error: Content is protected !!