দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান
ভুল চোখে তাকিও না নারী দেহের দিকে,
তোমার কামনার ছায়ায়ই সে জ্বলছে নিকটে।
পাঁচশ’ টাকায় খোলে বলো বেশ্যা কেন হয়?
আর পর্দার পেছনে পাঁচ লাখে নায়িকা হয় সয়?
আবেগে খোলে বলো প্রেমিকা কেন দাষী?
অভাবের ছোবলে খোলা কি শুধু তারই দোষী!
রিনা-মিনার নাম শুনলেই মুখ বাঁকাও,
জেরিন-এঞ্জেল দেখলে চোখ চাটায় ঢেলে খাও।
বিয়ার আগে নটি, পরে মেইনটেনিং লেডি,
কে বানালো এই নিয়ম, এই সমাজই রেডি।
ধর্ষিতা চুপ করে থাকে, চোখে শুধুই লাজ,
ধর্ষকটা বাঁচে, তার কদমে থাকে আজও সমাজ।
নারী একা অপরাধী হয় কীভাবে বলো?
তোমার হাত ছাড়া কি তালি কোনওদিন বাজলো?
চোখে জল নিয়ে হেঁটে যায় কত শত প্রাণ,
আর পুরুষের গুণে গোপন থাকে যত অপমান।
বেশ্যা বলে তুচ্ছ করো, রাত হলে ছুঁয়ে থাকো,
ভোরের আলোয় মুখ ফিরিয়ে আবার ঘৃণা মাখো।
ভালোবাসা বোঝো না, বোঝো শুধু শরীর,
আত্মা কোথায় গেল বলো, কি এত ধোঁয়াশা ফির?
রাস্তায় যে পাগলী আজ বাচ্চা বয়ে চলে,
জানো কারা দিয়েছে তার জীবনে বিষ ঢেলে?
তাকেই কাঁদাও যাকে রাতে ছুঁয়ে কাঁপো,
সেই নারীই তোমার মা, আর তুমি সেই পাপো।
কলেজ পড়ুয়া কাঁদে রাতে বাঁশ বাগানে,
সে প্রেমে পড়েছিল, দোষ ছিল না জানে।
দশ বছরের কন্যা আজ অতীত ভুলতে চায়,
সমাজ বলে – সে নষ্ট, দোষ তারই সবটাই।
ভাইয়ের বোন কলিজা, আর পরেরটা ‘মাল’,
এই দুই মুখো সমাজেই জন্ম নিচ্ছে জ্বাল।
যে নারী নিজেকে বাঁচাতে দেয় শরীরের দাম,
তাকেই তুমি দাও শুধুই গালি আর অপমান।
চোখে জল এনে যে মা সন্তানকে তোলে কোলে,
তারও অতীত ছিল, যা আজও কেউ বোঝে না বলে।
তুমি ছেলে হয়ে ছেলে হওনি, নরপিশাচ হলে,
তবু তুমি সমাজে সাহসী, নারী শুধু দোষে ডুবে।
চলচ্চিত্রের মেয়ে, প্রেমিকার ভিডিও ফাঁস,
তবু ভালোবাসো তাকে, লুকিয়ে রাখো সেই পাশ।
কাকে দোষ দিবো বলো? তুমি আমি সবাই দোষী,
সিস্টেমটাই এমন, শুধু নারীই যেন অপরাধী!
ছলনা নেই নারীতে, যদি তুমি না চাও,
বিশ্বাসঘাতক পুরুষ, সব খেলার রচয়িতা বাও।
দৃষ্টি বদলাও, বোঝো – কাপড় নয় দোষের কথা,
সমাজের চশমাটাই আসল, যার রঙ শুধু কালো ব্যথা।
নারী না পুরুষ নয়, অসুস্থ এই সমাজ,
নিয়মের খাঁচায় বন্দি আজ মানবতার তাজ।
অন্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেকে একবার দেখো,
দৃষ্টি ভঙ্গি বদলাও বন্ধু, জীবন আপনেই শেখো।














