রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, ৭:৩১ পিএম | 183 বার পড়া হয়েছে
সত্য ঘটনা অবলম্বনে

আমি একজন বিধবা মহিলা। আমার বয়স এখন ৬৬ বছর। দীর্ঘদিন স্কুলে শিক্ষিকতা করার পর এখন অবসর জীবন যাপন করছি। আমার একটাই ছেলে, নাম রাজু। ওর বয়স ৪২, থাকে ইংল্যান্ডে। আমার স্বামী যখন মারা যান, তখন আমার বয়স ছিল ৩৬ বছর আর আমার ছেলের ১২। ছেলের কথা ভেবে আমি আর বিয়ে করিনি।
রাজুকে আমি একাই বড় করেছি। কখনো কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দিইনি ওকে। সবসময় চেয়েছি ওর সব আবদার মেটাতে। ও যেন না ভাবে আমার বাবা থাকলে এই ইচ্ছাটা অপূর্ণ থাকত না। ছেলেকে দেশের সবচাইতে ভালো স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়িয়েছি। তারপর ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে ইংল্যান্ডে চলে গেল। সব খরচ একা হাতে সামলেছি, কারো কাছে হাত পাতিনি আমি। এতকিছুর মাঝে নিজের দিকে একদম খেয়াল করার সুযোগ হয়নি! সবসময় সন্তানের সাফল্য দেখতে চেয়েছি। তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করাই ছিল আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আমাকে সবাই সফল মা বলে। এই নিয়ে আমারও একধরনের চাপা গর্বও আছে।
গত সপ্তাহে লাবণী নামে আমার এক পুরোনো বান্ধবীর সাথে দেখা হলো। ওর ছেলে আকাশ আমার ছেলের সাথে একই স্কুলে পড়ত। আকাশের সাথে রাজুর খুব একটা মিল ছিল না।
এর কারণ অবশ্য আমি। আমি সারাক্ষণ চাইতাম রাজু শুধুমাত্র যারা ভালো স্টুডেন্ট আর সবসময় পড়ালেখা নিয়ে কম্পিটিশন করে, তাদের সাথে মিশুক। তাতে করে ও পড়াশোনার প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হয়ে উঠবে।
মাঝে মাঝেই লাবণী বলত, “দেখ, আমরা দুজন কত ভালো বন্ধু। আর আমাদের ছেলেরাও একই স্কুলে পড়ে, তার পরেও ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব হলো না।”
লাবণীর ছেলে আকাশ প্রত্যেক ক্লাসে এ্যাভারেজ পাশ করত। খেলাধুলায় খুব আগ্রহ ছিল আকাশের। সে স্কুলের সমস্ত এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজে অংশগ্রহণ করত। স্কুলের ওয়াল ম্যাগাজিনে ওর লেখা থাকত, ছবি আঁকত, এগুলো নিয়েই লাবণী খুশি ছিল। আমি মনে মনে হাসতাম, এগুলো দিয়ে হবে কি?
লাবণীর কথা, আমার ছেলে তো আর ফেল করে না! সবাই তো আর ফার্স্ট হয় না। আমার ছেলেটা পড়ালেখায় তেমন ভালো না, কিন্তু ওর অন্য কাজগুলো কত সুন্দর!
আমার কাছে লাবণীর এই কথাগুলো আদিখ্যেতা মনে হতো। ছেলের মাথায় তো গোবর আছেই, তার চাইতে বেশি গোবর মায়ের মাথায়! তা না হলে যে ছেলে পড়ালেখায় এত পিছিয়ে, তাকে কোনো মা স্কুলের এক্সটা কারিকুলার এক্টিভিটিজ নিয়ে সময় নষ্ট করতে দেয়!
রাজু স্কুল পার করে নামী একটি কলেজে ভর্তি হলো আর আকাশ খুব সাধারণ এক কলেজে। তারপর যেমনটা হয়, ওদের সাথে আমার যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেল।
গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই শপিং মলে ওদের সাথে দেখা। প্রথমে আমি ওদের দেখিনি। আকাশ আমাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এসে বলল, “আন্টি, আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি আকাশ।”
আমি আকাশকে আসলেই চিনতে পারছিলাম না। শেষবার ওকে যখন দেখি তখন মাত্র স্কুল ছেড়ে কলেজে যাবে। ছেলেমানুষি তখনো চোখেমুখে। আর এখন রীতিমতো ভদ্রলোক। তারপর আকাশ আমাকে লাবণীর কাছে নিয়ে যায়।
লাবণী একটা দোকানে বসা ছিল। ওর ছেলে ওকে নিয়ে শপিংয়ে এসেছে। ছেলে তার মায়ের জন্য কি সব রংচঙে থ্রিপিচ দেখছে! আমি আর লাবণী সবসময় শাড়ি পড়তাম, তাই আমি একটু অবাকই হলাম। লাবণী আমার কাছে বার বার জানতে চাইছিল, “তুই বল, আমি কোনটা কিনব, আমাকে কোনটায় মানাবে?” ওদিক থেকে আকাশ বলে বসে, “আন্টি আপনি যেটা পছন্দ করবেন, মা সেটাই কিনবে।” আমি একটা থ্রিপিচ পছন্দ করে দিলাম। আকাশ কখন সেই একই থ্রিপিচ দুইটা কিনেছে আমি খেয়ালই করিনি। আমি আর লাবণী গল্প করছিলাম কেনাকাটার ফাঁকে ফাঁকে।
এরপর আরো কিছু টুকিটাকি কেনাকাটা করে ওরা। ওদের দেখে মনে হচ্ছিল ওরা কোথাও বেড়াতে যাবে। আমি চোখের কোণ দিয়ে আকাশকে খেয়াল করছিলাম, ও ওর মায়ের সাথে কত সহজ স্বাভাবিকভাবে কথা বলে! যেন মনে হয় আকাশ ওর মাকে নয়, মেয়েকে নিয়ে বের হয়েছে শপিং করতে।
কেনাকাটা শেষে আকাশ আমাদের নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে যায়। মেনু দেখে পছন্দের খাবার অর্ডার দিয়ে মায়ের উদ্দেশ্যে বলে, “মা খাওয়ার পরে কফি খাবে, নাকি আইসক্রিম?” লাবণী হেসে বলে, “আগে কফি খাব, তারপর আইসক্রিম খেতে খেতে বাসায় যাব।”
আমি বললাম, “আমার জন্য স্রেফ কফি।”
লাবণী সঙ্গে সঙ্গে বলল, “তাহলে আইসক্রিম বাদ।”
খেতে খেতে শুনলাম, আকাশ বেড়াতে যাচ্ছে কক্সবাজার, সেখান থেকে সেন্টমার্টিন। সাথে লাবণীকেও নিয়ে যাবে, যদিও সেটা একটা অফিসিয়াল ট্যুর।
আকাশের একটা বায়িং হাউস আছে। হাবভাবে বুঝতে পারলাম অনেক টাকা ইনকাম করে। আমাদের সাথে বসা অবস্থায় কতবার যে হোয়াটসঅ্যাপ চেক করল! মাঝে মাঝে টুকটাক অফিসিয়াল কল আসছিল। তার মানে শত ব্যস্ততার মধ্যেও মাকে নিয়ে শপিংয়ে এসেছে।
গল্পে গল্পে জানা হয়ে গেল আকাশের বউয়ের কথা। মেয়েটা একটা মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছে। তাদের এক ছেলে, সে এখন স্কুলে। ছেলেটা নাকি লাবণের ভিশন ন্যাওটা। লাবণী ওর ছেলে বৌয়ের সাথেই থাকে‌।
আমি একটা বিছানার চাদর আর কিছু দৈনন্দিন এটাসেটা বাজার করতে এসেছিলাম। যদিও কিছুই কেনা হয়ে ওঠেনি সেদিন। কেন জানি কিনতে ইচ্ছে হচ্ছে না আর। আমি শুধু আকাশকে দেখছিলাম। ও কত যত্নে আগলে রেখেছে ওর মাকে! স্যান্ডেলের দোকানে নিজে হাতে মায়ের পায়ে স্যান্ডেল পরিয়ে দিল। লাবণী অত দাম দিয়ে স্যান্ডেল কিনবে না। আকাশ তখন বলল, “মা, তুমি দাম দেখো কেন? তুমি শুধু দেখবে আরাম পাও কিনা?”
আকাশের কত খেয়াল তার মায়ের জন্য। সবশেষে ও সানগ্লাস কিনল মায়ের জন্য। লাবণী সানগ্লাস কিনবে না কিছুতেই। তখন আকাশ বলল, “মা, সানগ্লাস কিনতে হবে। কারণ তুমি যখন সমুদ্রের ধারে হাঁটবে, তোমার চোখে রোদ লাগবে।”
ওদের মা-ছেলেকে দেখে আমার এমন লাগছে কেন? ভেতরে ভেতরে এতটা ছোট হয়ে যাচ্ছি কেন? বারবার মনে হচ্ছে, আমি হেরে গেছি জীবনের কাছে। আমি একজন ব্যর্থ মা, যে তার ছেলেকে সবচাইতে সফল আর বড় বানাতে গিয়ে এত বড় বানিয়ে ফেলেছে যে, সেই ছেলের নাগাল আর কখনো পাবে না!
এর মধ্যে কয়েকবার আকাশ রাজুর কথা জানতে চেয়েছে। রাজুর নম্বর চেয়েছে, আমি দিইনি। বলেছি বাসায় আছে, ডায়েরিতে লেখা। আসলে রাজুর অনুমতি না নিয়ে ওর নম্বর কাউকে দিলে ও রাগ করে। আমাকে বলে, “মা, আমি অনেক বিজি থাকি, যখন তখন কল দেবে না। এতে আমার ডিসটার্ব হয়। তুমি এখনো ইংল্যান্ড আর বাংলাদেশের সময় এ্যাডজাস্ট করতে পারো না কেন?”
আকাশ আমাকে আমার বাসায় নামিয়ে দিল। বিদায় নেবার সময় আমার হাতে একটা শপিং ব্যাগ দিয়ে বলল, “আন্টি, এটা আপনার জন্য।” আমি দেখলাম ঠিক লাবণীর মতো আমার জন্যও একটা থ্রিপিচ কিনেছে ও। আকাশ বলল, “আপনারা দুই বান্ধবী একসময় একই রকম থ্রিপিচ পরে বেড়াতে বের হবেন।”
আমি অনেক কষ্টে অশ্রু গোপন করলাম। আকাশ আরো বলল, “আন্টি, আমার মোবাইল নম্বরটা রাখুন, আপনার যখন খুশি কল দেবেন, আমি এসে আপনাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাব।” আমি তখন বললাম, “তুমি তো বিজি থাকো।” আকাশ সাথে সাথে জবাব দিল, “আন্টি, আপনার জন্য আমি সব সময় ফ্রি আছি।” একটু থেমে আবার বলল, “আপনি তো একা থাকেন, আপনিও চলেন না আমাদের সাথে কক্সবাজার। আমার মায়ের একজন সঙ্গী হবে।”
আমি মনে মনে কতক্ষণ থেকে বলছি, “লাবণী, আমাকে নিবি তোদের সাথে কক্সবাজার? আমি সমুদ্র দেখব না। আমি শুধু দেখব একজন ছেলে তার মাকে কত আদর যত্ন করে তা!”
আমি আকাশকে বললাম, “লাবণীর সাথে কতদিন পরে দেখা আমার। আমারও ভালো লাগবে তোমাদের সাথে বেড়াতে গেলে। কিন্তু রাজুকে তো বলতে হবে। আমি আজ রাজুর সাথে কথা বলে কাল তোমাকে জানাব।”
লাবণী মনে হয় আমার কথায় অবাক হলো। আমি এত সহজে ওদের সাথে যেতে রাজি হবো এটা ও ভাবতেই পারেনি। লাবণী আমার হাত জড়িয়ে ধরে বলল, “শিলা, প্লিজ চল, আমার অনেক ভালো লাগবে।”
তারপর ওরা চলে গেল। আমি আমার আলোহীন ঘরে ঢুকে আজ আরো বেশি অন্ধকার দেখতে পেলাম। গতকাল রাতের বেলা রাজুর সাথে হওয়া কথাগুলো ভাবতে লাগলাম। বিয়েটা ও একা একা করল ইংল্যান্ডে, নিজের পছন্দের মেয়েকে। ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসা নাকি অনেক ঝক্কি। তাই দেশে এসে বিয়ের করার প্রশ্নই আসে না। আমি টেলিফোনে ওদের কনগ্রাচুলেশন জানালাম। ওদের একটা মেয়ে হলো। এখন অনেক ছোট, বাংলাদেশের আবহাওয়া নাকি ওর সহ্য হবে না, তাই আসা যাবে না। এবছর আমার ইংল্যান্ডে যাওয়ার কাগজপত্র ঠিক করার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল ও ফোন দিয়ে বলল, এবার ছুটিতে ও ওর শ্বশুর শাশুড়ি সহ আমেরিকা যাবে বেড়াতে।
ও আরো বলল, “মা আমরা সবাই চেষ্টা করবো আগামী বছর দেশে আসার। তুমি মন খারাপ করো না।”
না, আমি মন খারাপ করিনি। আমি আজ আকাশকে দেখে বুঝতে পেরেছি, শুধু ভালো ছাত্র আর ফার্স্ট হওয়া ছেলেরাই সেরা সন্তান হয় না। আমি শুধু আমার ছেলেকে শিখিয়েছি ফার্স্ট হতে হবে পরীক্ষার খাতায় আর চাকরির বাজারে। সেরা মানুষ হতে হবে এটা আমি কখনো শেখাইনি। আমি ওকে কখনো বলিনি, বিপদে তোমার বন্ধুদের পাশে দাঁড়াবে। আমি ওকে কখনো বলিনি, দেশকে ভালোবাসবে, দেশের সেবা করবে। আমি শুধু শিখিয়েছি প্রতিযোগিতা।
ওর কিসে উন্নতি হবে সেটা ওকে শিখিয়েছি, কিন্তু সবাইকে নিয়ে ভালো থাকাটা শেখাতে পারিনি। আমি সবসময় রাজুকে ভালো জিনিস কিনে দিয়েছি, ওর চাহিদা পূরণ করেছি। কিন্তু আমার নিজেরও ইচ্ছা অনিচ্ছা আছে বা থাকতে পারে তা ওকে শিখাইনি।
আমি রাজুকে কল দিব না কক্সবাজার যাওয়া নিয়ে। এটা আকাশকে বলার জন্য বলা। আজ লাবণীর সাথে দেখা হওয়ায় ভালো হলো। এখন থেকে আমি আমার ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়ে ভাবব। ছেলেকে নিয়ে আমার ভাবনা শেষ।
ছেলেকে তার ভালো থাকার জন্য আমার সবকিছু দিয়েছি। ওর আর আমার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার নেই।
আশায় ছিলাম ছেলে আমাকে তার কাছে ইংল্যান্ডে বেড়াতে নিয়ে যাবে। গত দুই বছর ধরে আমার চলার টাকা থেকে একটু একটু করে জমিয়েছি ওদের জন্য কত কিছু কিনব বলে!
এবার থেকে আমি আমার জীবনের ছোট ছোট চাওয়াগুলো পূরণ করব। বাঁচব আর ক’টা দিন। খুব শখ ছিল হিমালয় আর মিশরের পিরামিড দেখব! একা একা কি এগুলো দেখা যাবে? তার চাইতে আগে লাবণীদের সাথে কক্সবাজার আর সেন্ট মার্টিন ঘুরে আসি, তারপরেরটা তারপর।

ফাইনালে উঠতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
ফাইনালে উঠতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে স্বাগতিকদের কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামা বাংলাদেশ এবার নেপালকে পেল সেমিফাইনালেই। এবারও ফাইনালে উঠতে আত্মবিশ্বাসী মার্ক কক্সের শিষ্যরা।

গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ। অপরাজিত হয়ে সেমিতে উঠলেও মার্ক কক্সের শিষ্যরা ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছেন। ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ। অপর গ্রুপ (‘এ’ গ্রুপ) থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নেপাল সেমিতে উঠেছে। সেমিফাইনাল সামনে রেখে বাংলাদেশ দল প্রস্তুতি নিচ্ছে জোরকদমে। আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এক ভিডিও বার্তায় গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার বিশ্বাস খেলোয়াড়রা সেরাটা দিয়ে সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠব।’

বাংলাদেশ-নেপাল সেমিফাইনাল হবে ১ এপ্রিল মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে। নকআউট পর্বের ম্যাচ সামনে রেখে আজ রিকভারি সেশন করেছে দল। মূলত নেপাল ম্যাচ সামনে রেখে ফুটবলারদের উজ্জীবিত রাখতেই এমন কিছু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিপ্লব। বাফুফের ভিডিও বার্তায় গোলরক্ষক বলেন, ‘গত দুটি ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে অনেক বড় ম্যাচ খেলেছি। ফুটবলারদের ওপর ধকল গেছে। এখন আমরা রিকভারি ট্রেনিং করছি সুইমিংপুলে এসে। স্ট্রেসিং ছিল। সামনে সেমিফাইনালের মতো অনেক বড় একটা ম্যাচ। দলকে ভালো একটা অবস্থায় আনার চেষ্টা করছি। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে প্রত্যেক মুহূর্ত চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

নেপাল ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছে সেমিফাইনালে। ভুটান-শ্রীলঙ্কাকে হারানো নেপাল ড্র করেছে মালদ্বীপের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত নেপাল দিয়েছে চার গোল এবং দুই গোল হজম করেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও ফাইনালে ওঠার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার ডেকলান সুলিভান। বাফুফের ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘দলের সঙ্গে রিকভারি সেশন মাত্র শেষ হলো। সেশনটা ভালো ছিল। আমরা এখানেই থামব না। পরের ম্যাচে আমাদের জিততেই হবে।’

অনূর্ধ্ব-২০ সাফ শুরুর আগেই আলোচনায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই যমজ রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভান। রোনান পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। ডেকলান দুই ম্যাচের একটিতেও খেলার সুযোগ পাননি। ১ এপ্রিল আরেক সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-ভুটান। ভারত-বাংলাদেশ দুই দলের পয়েন্ট চার। কিন্তু গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। গতকাল ১-১ গোলে ড্র হওয়া বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে দেখা গেছে জোড়া লাল কার্ড।

 

‎মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা

ফুলছড়িতে বিএনপি নেতার বাড়িতে তাণ্ডব

‎মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
ফুলছড়িতে বিএনপি নেতার বাড়িতে তাণ্ডব

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে জাসাস নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় রীতিমতো ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এলাকায়।

‎গত ১৯ মার্চ বিকেলে ফুলছড়ি ইউনিয়নে জাসাসের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী ও তার সশস্ত্র বাহিনী এ হামলার নেতৃত্ব দেয়।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা ও ছাত্র হত্যা দায়ে ঢাকা উত্তরা থানার মামলার আসামি শুকুর আলী ফিরোজের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই নৃশংস হামলা সংঘটিত হয়েছে। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগ নিয়ে হামলার ছক কষা হলেও ঘটনাস্থলে লোকজন থাকায় আগুন দিতে ব্যর্থ হয়ে হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

‎এ সময় ফরহাদ হোসেনের বাবা জামাল বাদশাসহ অন্তত ১৩ জনকে লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। গুরুতর আহতদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন—কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

‎আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার। যেকোনো সময় আবারও হামলার আশঙ্কায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বলছেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

‎ফুলছড়ি থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেন ৫১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

বিসিবিকে নিয়ে কী বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী?

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
বিসিবিকে নিয়ে কী বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী?

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে তুলনামূলক বেশি বক্তব্য রেখেছেন আমিনুল হক। সংসদ অধিবেশনে আজ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে থাকল বিসিবি।

সংসদ অধিবেশনে আজ প্রশ্নোত্তর পর্বে আমিনুলের কাছে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন জিজ্ঞেস করেন, বিসিবি নিয়ে কী ভাবছেন তিনি। উত্তরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে অর্থ কিংবা জনবল, তাঁরা বিগত সময়ে যে ভোটের অধিকার হরণ করতে একটি গ্রুপকে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্ম করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বোর্ডের যাঁরা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সেই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশা আল্লাহ। পাশাপাশি আমাদের সবশেষ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু আমার সামনে পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের যে দুদকের মহাপরিচালক রয়েছেন, তাঁর কাছে আহ্বান করব এই বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কিছু থাকলে যেন আমাদের জানান এবং সেগুলো যেন জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়।’

২০০৯ সাল থেকে শুরু করে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। সংসদ সদস্য মোশাররফ আওয়ামী শাসনামলে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে জানতে চাইলে আমিনুল বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ দলীয়করণ এবং রাজনীতিকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে স্থবিরতা নিয়ে এসেছিল এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন যেভাবে ধ্বংসের পথে চলে গেছে, সেই ধ্বংসস্তূপ ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে দলীয়করণমুক্ত, রাজনীতিকরণমুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে চলেছি। ২০০৮ সাল থেকে যারা এই দলীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে যারা অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, সে সব আমরা দ্রুতই তদন্ত কমিটি করে কারা জড়িত ছিল, ইনশা আল্লাহ জাতির সামনে নিয়ে আসব।’

জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। কেন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলতে পারল না একটা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সেটার কারণ অনুসন্ধানের ঘোষণা ঈদের ছুটির আগে দিয়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে বিসিবির গত বছরের ৬ অক্টোবরের নির্বাচন নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।

error: Content is protected !!