মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

লজ্জা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫, ১০:১৫ এএম | 219 বার পড়া হয়েছে
লজ্জা

রিমান্ডে গত তিনদিন ধরে এক শাড়ি পরে আছি ! ড্রাইভার রফিক ভাই তিনদিন ধরে একটা পেটমোটা ব‍্যাগ নিয়ে ডিবি অফিসের বাইরে ঘুরঘুর করছে! তাকে দেখা করার অনুমতি দেয়া হচ্ছেনা !
জুলাই মাসের চাঁদি ফাটা গরম! চার দিনের দিন সিল্কের ব্লাউজ শরীর কেটে মাংসের মধ‍্যে গেঁথে গেছে! পরনের মসলিন শাড়িটা কোমরে যেখানে পেটিকোটে গোঁজা -সেখানে ঘা হয়ে গেছে ! পাঁচ দিনের দিন আতংকে, দুশ্চিন্তায় পিরিয়ড হয়ে গেল! রক্তাক্ত ঘর্মাক্ত শরীর! ভাগ্যিস শাড়ির রং লাল ছিল – লাল রং সব কিছু লুকাতে জানে- ঘামের দাগ, রক্তের দাগ, কষ্টের দাগ, অপমানের দাগ!!
কারাগারে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি পর্ব ! একে একে নতুন আগত বন্দিনীকে কারাবিধান অনুযায়ী চেক করা হচ্ছে! ভয়ে শিউরে উঠলাম ! কেউ কোনরকম নিষিদ্ধ বস্তু নিয়ে এসেছে কি না সেকারণেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা! এত অপমানজনক আর ভয়াবহ তল্লাসি বিশ্বজগতে একমাত্র কারাগারগুলোতেই প্রচলিত!
আমার পালা আসলো! মহিলা রক্ষী মৃদু কন্ঠে বললো, ব্রা খুলুন! অসম্ভব অবিশ্বাস্য বাক‍্য – আমি কি ঠিক শুনছি !? হতভম্ব হয়ে এক পা পিছিয়ে আসি- না না – কক্ষোনো না !!! কিছুতেই না!!!
ডেপুটি জেলার খুব মিষ্টি চেহারার মেয়ে! বিসিএস – নন ক‍্যাডার! এসে শান্ত স্বরে বললেন, আপা, আপনি ত জানেন-Rule is rule! আমাদের duty করতে দিন ! চরম গ্লানিকর সেই মুহূর্তটা মনে করলে এখনও রাতে লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে বসি! সারারাত আর ঘুম আসেনা!
কারাগারে আসার পর আব্বাজান একটি কাপড়ের ব‍্যাগ পাঠালেন! খুলে চক্ষু চড়কগাছ! আমার জামদানি, মসলিন, জারদৌসি কাজ করা শিফন – যা তার চোখে সুন্দর লেগেছে পাঠিয়েছেন – ! রাগে দু:খে হাত কামড়াতে ইচ্ছে করলো ! পরে ভাবলাম, চৌদ্দ গুষ্টিতে কোন মেয়ে তো দূর -কোন ছেলেও তো জেলে যায়নি! আব্বাজান কেমনে জানবে, কি ধরনের কাপড় জেলে পরতে হয় !
আমিও তো কখনও ভাবিনি জেলে যেতে হবে – তাই জেলখানা উপযোগী শাড়ি কিনে তো আলমারিতে রেখে আসিনি! আব্বা’র কি দোষ!?
একটা কালামকারি আর একটা মাদুরাই শাড়ি রেখে বাকী সব ফেরত পাঠিয়েছি! এমন অনেকদিন হয়েছে গোসল করে ভেজা শাড়ি শরীরেই শুকিয়েছি !
নারী কারাগারে এক হাজার বন্দিনীর জন‍্য মাত্র দুটো চৌবাচচা ! একটা হাজতিদের জন্য- একটা কয়েদীদের জন‍্য ! খোলা আসমানের নিচে, সস্তা সাবান গায়ে ডলে সবাই গোসল করে, ভেজা কাপড় বদলায়-যুবতী ,বৃদ্ধা -আড়াল নেই, পর্দা নেই! করমের দোষে শরম গেছে! লজ্জা পেলে ন‍্যাকা বলবে !
পয়তাল্লিশ জন একই টয়লেট ব‍্যব্যবহার করে! সেটার দরজা অর্ধেক কাটা! এটাই নিয়ম ! কোন বন্দিনী একটু বেশিক্ষণ টয়লেটে থাকলে রুমের পাহারা নি:সংকোচে নির্বিকার মুখে উঁকি দিয়ে দেখে কিজন‍্য অধিক সময় লাগছে !
টয়লেটে যত লজ্জাজনক অবস্থায় বন্দি মানুষটি থাকুক না কেন – পাহারার এতে ভ্রুক্ষেপ নেই ! শালীনতার মতো ভারিক্কী শব্দের গুরুভার জেলখানার জরাজীর্ণ টয়লেট বহন করতে পারেনা!
তিনটি বছর প্রতি মুহূর্তে চোখের জলে আমি লজ্জা গুলে খেয়েছি ! যারা তখন লজ্জা নিবারণ করতে আসেন নি তারা এখন শালীনতার বাণী শুনিয়ে লজ্জা দিতে আসবেন না !
লজ্জা পাব !

মোঃ মাহফুজুর রহমান বিপ্লব

ফরিদপুরে মশক নিধন ও পরিস্কার কার্যক্রম শুরু

মোঃ মাহফুজুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ২:২৬ পিএম
ফরিদপুরে মশক নিধন ও পরিস্কার কার্যক্রম শুরু

পরিস্কার,পরিচ্ছন্নতা সহ মশক নিধন নিয়ে ফরিদপুর বাসীর মধ্যে একটি চাপা কষ্ট লুকিয়ে ছিল। এই বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল জুড়ে ছিল রাগ অভিমানের ক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় পরিস্কার, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একের পর সংবাদ প্রকাশ করা হলেও কতৃপক্ষের ছিল কোন মাথা ব্যাথা। অবশেষে পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঝিলটুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মডেল স্কুল) মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা।

উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে মশার উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে। ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার বংশ বিস্তারস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রাস্তাঘাট ও জনসাধারণের স্থান দখলমুক্ত রাখতে হবে। জনসাধারণের সুবিধা অসুবিধা দেখার জন্য পৌরসভা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি,জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফরিদপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান সহ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্ত।

অনুষ্ঠানের শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর পরিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

দুর্যোগের আঁধারে মানবতার আলো

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পঞ্চগড় শহর জামায়াত

শাহিনুর রহমান পঞ্চগড় প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ২:২১ পিএম
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পঞ্চগড় শহর জামায়াত

পঞ্চগড়ের রামের ডাঙ্গা এলাকায় সম্প্রতি সংঘটিত প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পঞ্চগড় শহর শাখা।
গত ২৭ মার্চ ২০২৬ রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এ সময় সহযোগিতা প্রদান করেন পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শহীদুল ইসলাম।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা জয়নাল আবেদীন, শহর সেক্রেটারি মাওলানা নাসিরউদ্দীন, কর্মপরিষদ সদস্য মাঈনুদ্দীন ও মাওলানা কিবরিয়া এবং ২ নং ওয়ার্ড সভাপতি হাসিবুল ইসলাম।
মানবিক এই উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

মামলা তুলে নিতে আসামীদের হুমকি

ঝালকাঠিতে দোকান পোড়ানোর মামলা করে বিপাকে বাদী

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ২:১৯ পিএম
ঝালকাঠিতে দোকান পোড়ানোর মামলা করে বিপাকে বাদী

ঝালকাঠিতে এক প্রতিবন্ধীর দোকান পোড়ানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন বাদী বারেক খন্দকার। তাকে মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে আসামীরা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বারৈগাতী এলাকার প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকার তালতলা বাজারে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন। তিনি প্রতিদিন দোকানেই রাত্রিযাপন করতেন। তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। আসামীরা ধারণা করেছিল তিনি দোকানের ভেতরেই আছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দোকানে পেট্রোল ও কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দোকানে থাকা টিভি, ফ্রিজ, চাল, ডাল, আটা, আলু, মরিচ, বিস্কুটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ ঝালকাঠির বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১) আঃ মতিন হাওলাদার (৪৫), ২) আলমগীর তালুকদার (৪৮), ৩) আঃ জলিল শেখ (৪৪) ও ৪) মনির হোসেন (৪০)-এর নাম উল্লেখ করে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন রুস্তম খন্দকার। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার বাদী বারেক খন্দকার বলেন, “আমার দোকান পোড়ানোর ঘটনায় মামলা করায় আঃ মতিনসহ আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি দিচ্ছে। তারাই আমার দোকান পুড়িয়ে আমাকে স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাদের নামে মামলা দিতে বলে। নির্বাচনের আগে বিএনপির লোকজনই দোকান পুড়িয়েছে, অন্য কেউ নয়—এমন কথা বলতে আসামীরা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে। আমাকে বলা হয়, তাদের নামে মামলা দিলে মামলার সব খরচ তারা বহন করবে এবং নতুন দোকান তৈরি করে দেবে। কিন্তু তারা যাদের নামে মামলা দিতে বলছে, তারা সবাই নেছারাবাদ কায়েদ সাহেব হুজুরের মাজারে গিয়ে শপথ করেছে যে তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাহলে আমি কেন তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেবো।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আসামী আঃ জলিল শেখ পূর্বেও এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিল এবং ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে আঃ মতিন হাওলাদার বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি বাদীকে কোনো ধরনের হুমকি দেইনি। আমার শত্রুদের প্ররোচনায় বাদী আমাকে হয়রানি করছে।”

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বাদীকে হুমকির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ক্যাপশনঃ মুদি দোকানী প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকার

error: Content is protected !!