মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

সম্পর্কের ভাঙন আর সুখের অভাব

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ মে, ২০২৫, ১২:৪৪ পিএম | 390 বার পড়া হয়েছে
সম্পর্কের ভাঙন আর সুখের অভাব

ঘরভরা সব আছে—এসি-ফ্রিজ, খাট কিংবা পালঙ্ক। চাকুরি কিংবা ব্যবসা আছ, সঞ্চয় করা অর্থও আছে। অভাব শুধু সুখের। ব্যস্ত মানুষের দূরত্ব ঘোচানোর জন্য একসাথে দূরে কোথাও বেড়াতে বের হতে হয়। অথচ সম্পর্কের বয়স কত? বন্ধন কেটে যায় যায় অবস্থা! পাশাপাশি বিছানায় শুয়েও দুজন দুদিকে মুখ ফিরিয়ে মোবাইল হাতে পড়ে থাকে। শহরে, সমাজে কত সম্পর্ক যে তলানিতে গিয়ে কোনোমতে টিকে আছে—তা স্রষ্টা জানেন। কেউ সন্তানের সুতোয়, কেউ কেবল সামাজিকতায় দীর্ঘশ্বাসে বেঁচে আছে।

ফটোসেশন করে সুখ প্রকাশক প্রজন্মের মনের দূরত্ব কত— তা জানার আগ্রহ কারো নেই। টেলিস্কোপ দিয়ে দূরত্ব মাপা লাগে না বরং কথায় উৎপাদিত ব্যথায় অনুভব করা যায়। ব্যস্ততার অজুহাতে, ইগোর প্রত্যাঘাতে কিংবা সামাজিক অবস্থানের মাপকাঠিতে মানুষের সব জুটেছে। অভাব কেবল প্রশান্তির। ঘাটতি বিশ্বাসের এবং অসুখ অশান্তির। মোবাইলে ক্যামেরা জীবনকে যেমন রঙিন করে ধারণ করতে পারে, আসলে জীবন তার কাছাকাছিও নয়। ধূসররঙের বাস্তবতায় মোড়ানো। ক্ষতবিক্ষত, ছাল উঠে যাওয়া সম্পর্ক কেবল অজানা আঁশে কোনোমতে টিকে আছে।

সংসারের মধ্যে কেমন যেন ভাঙন চলছে। ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে সন্তান। দূরত্বের দেয়াল উঁচু হচ্ছে। যেন শক্ত হচ্ছে। সবার আলাদা আলাদা জগৎ তৈরি হচ্ছে। নিজস্বতা স্বার্থবাদিতায় মোড়ানো। কারো ব্যক্তিজীবনে যেন প্রিয়জনের প্রবেশাধিকার পর্যন্ত নেই। সুন্দর-স্বাভাবিক জীবনের জন্য এত ব্যাকুল হয়ে ছোটার দরকার আছে? কারো অধিকার হরণ করার, অসততাকে বরণ করার কিংবা শুভ-ন্যায়কে বারণ করার কী প্রয়োজন? একজন মানুষের, একটা পরিবারের কত লাগে? ভোগ করা কিংবা ব্যয় করা যায় কত? মানুষ সুসময় অপব্যয় করে চলছে। কাউকে ঠকালে সে ঠক তো ফেরত আসে। দুদিনের দুনিয়ার তিনদিনের চারদিকে দখলের প্রতিযোগিতা কত অশান্তি বাসা বাঁধায়?

অল্পে তুষ্ট হলে জীবনের গল্প কত সুন্দর হতো। অথচ পারিপার্শ্বিক দুর্ঘটনাগুলোর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে অবাক হতে হয়। জীবনের থেকে অভিযোগ কমাতে পারলে চারদিকে কত রঙ ছড়িয়ে যেত! সুখী জীবনের চেয়ে সৌন্দর্যের আর কী হতে পারে? লোভ-ক্ষোভ ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই আনে না। সম্পর্কে যত্ন এবং সময়—রত্নের সন্ধান দেয়। ছোট্ট একটা জীবন অসুখে কাটিয়ে ফায়দা কী?

সবকিছুর কায়দা আছে। যার যেটুকু প্রাপ্য, তা পরিশোধ করতে হবে। যার কাছে যা ঋণ, তা আদায় করতে হবে। মানুষের ভালোবাসা ছাড়া, প্রিয়জনের চোখে ভালো মানুষ ও ভরসার মানুষে পরিণত হওয়া ছাড়া বহি অশান্তিতে বেঁচে থেকে লাভ কী? জীবনের স্বতঃমূল্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকৃতি দিতেই হবে। সুখ-শান্তি মানবজীবনের সবচেয় বড় এ দামী সম্পদ।

জীবন মোটেও অসুন্দর নয়। আমরা স্বার্থের মোহে চারপাশ নষ্ট করি। সুখের সমষ্টি অর্জন করতে গিয়ে সূক্ষ্ম উপলব্ধিগুলো উপেক্ষা করি। দাম্পত্য যদি লাম্পট্যের কাছে বিক্রি হয়ে যায়, প্রেম যদি পরকীয়ায় রূপান্তরিত হয়— তবে সুখ কীসে? এই যে অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা, অসীম দ্বন্দ্ব— তা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়েই অনুযোগ বাসা বাঁধে।

পরস্পরকে দেখে রাখুন, আপনজনকে ভালোবাসুন। ভালোবেসে আগলে রাখলে অবহেলার অভিযোগ ওঠে না। সুখের চেয়ে বড় কিছু, বেশি কিছু মানবজীবনের নেই। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন। রাঙিয়ে তুলুন জীবনকে। যতদিন বাঁচতে হবে তা যেন সুখের তালাশেই কাটে। সময়ের দোষ নাই; দোষ মানুষের, দোষ কর্মের! ভাগ্যকে অস্বীকার করে গন্তব্যে উপনীত হওয়া যায় না তবে দায়ী করার মন্তব্য করা যায়!

ত্রিশালে ডায়গনস্টিক সেন্টারে অনিমের অভিযোগে সিলগালা

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ত্রিশালে ডায়গনস্টিক সেন্টারে অনিমের অভিযোগে সিলগালা

ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায় বালিপাড়া ইউনিয়নে “আজিজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার” নামক প্রতিষ্ঠানে কথিত ডাক্তার হুমায়ন কবির রোগী দেখেন, আলট্রাসনোগ্রাফ করেন, ইসিজি করেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে ৩০.০৩.২০২৬ইং তারিখে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন, -এর নির্দেশে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহবুবুর রহমান কর্তৃক তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনিয়মের অভিযোগে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউএইচএফপিও, ত্রিশাল উপজেলা ও থানার একটি পুলিশ টিম।
জনস্বার্থে জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)

ভোলাহাটে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩২ পিএম
ভোলাহাটে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক ও অন্যান্য সভা অনুষ্ঠিত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিন মাহমুদ। সভায় অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানাউল মোর্শেদ, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সুলতান আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছাঃ নাইমা তাবাসসুম শাহ, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আহরাম আলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ সবুজ আলী, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ব্যবস্থাপক মোঃ মতিউর রহমান, জেকে পোলাডাঙ্গা নায়েক সুবেদার মোঃ আব্দুল হালিম, চাঁনশিকারী বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার মোঃ ইদ্রিস আলী ও আনসার ভিডিপি অফিসার মোসাম্মদ নাদিরা খাতুনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

এছাড়াও সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ-আলহাজ্ব মোঃ পিয়ার জাহান, মোঃ ইয়াসিন আলী শাহ্, আলহাজ্ব মোঃ মোজাম্মেল হক চুটু, মোঃ আফাজ উদ্দিন পানু মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বর্তমান জ্বালানি তেলের সংকট, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতি তার বক্তব্যে সকল দপ্তরকে সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

ঈদের ১০ দিন পর মিলল বরাদ্দের চাল

মোঃ আজগার আলী, খুলনা ব্যুরো প্রধান প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
ঈদের ১০ দিন পর মিলল বরাদ্দের চাল

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে ভিজিএফের সাত বস্তা চাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর পার হওয়ার প্রায় ১০ দিন পর সোমবার দুপুরে চেউটিয়া এলাকায় অবস্থিত তাঁর অস্থায়ী কার্যালয় থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব চাল উদ্ধার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল যথাসময়ে বিতরণ না করে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুর রশিদ বলেন, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল সাধারণ জনগণের মাঝে বিতরণ না করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের কার্যালয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা অনৈতিক ও দুঃখজনক।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু দাবি করেন, বিতরণের সময় কিছু জটিলতার কারণে ২১ জন উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দকৃত সাত বস্তা চাল সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অবগত ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, চাল সংরক্ষণ বা সরিয়ে রাখার বিষয়ে তিনি কোনো ধরনের অবগত ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ঈদের আগে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ঈদের আগেই এই বিতরণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১০ দিন পরও চাল চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

error: Content is protected !!