সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন নিরাপদ শাক সবজি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ মে, ২০২৫, ৩:০৯ পিএম | 78 বার পড়া হয়েছে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন নিরাপদ শাক সবজি

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ (৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন) মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। WHO-2014| World Health Organization – Diabetes Country Profile, 2016- এর মতে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে প্রতি বছর মারা যায় ৬ হাজার ৬০ জন পুরুষ এবং ৪ হাজার ৭৬০ নারী। যাদের বয়স ৩০-৬৯ বছরের মধ্যে। ৭০ বা তার ওপরের বয়সে মারা যায় ৮ হাজার ২২০ জন পুরুষ এবং ৭ হাজার ৩৯০ জন নারী। ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য জটিলতায় ভোগে পুরুষ ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। কিন্তু পারিবারিক পর্যায়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যের সমন্বয়ে পরিপূর্ণ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ এখনো একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী বর্তমানে দুই ধরনের অপুষ্টির শিকার।

যেমন- খাদ্যের অভাবজনিত পুষ্টিহীনতা এবং জ্ঞানের অভাবে খাদ্য সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগসমূহ, যেমন- ডায়াবেটিস,স্থূলতা, স্ট্রোক, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, ক্যান্সার ইত্যাদি। জেনে রাখা জরুরি যে, খাদ্যসংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি রোগে মৃত্যুর হার অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর হারের চেয়ে বহুগুণ বেশি। খাদ্য তালিকায় শাকসবজি ও ফলমূল যোগ করে, খাবারে বৈচিত্র্যতা এনে অনুপুষ্টির অভাব যাকে ‘হিডেন হাংগার’ বলে দূর করে এই অসংক্রামক রোগসমূহকে প্রতিরোধ করা যায়।

ডায়াবেটিস হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি বিপাকে ত্রুটিজনিত রোগ। আমরা সারা দিন যেসব খাবার খাই তা পরিপাকের পর অধিকাংশই গ্লুকোজ হিসেবে রক্তে মিশে যায়। দেহকোষগুলো আমাদের শরীরে শক্তি ও তাপ উৎপাদনের জন্য এই গ্লুকোজ গ্রহণ করে, আর এই কাজটি সম্পাদনের জন্য দেহকোষগুলোকে নির্ভর করতে হয় ইনসুলিন নামক এক প্রকার হরমোনের ওপর যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিসৃত হয়।

ডায়াবেটিস হলে অগ্ন্যাশয় থেকে এই ইনসুলিন নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটে বা কম নিঃসৃত হয় অথবা অকার্যকর হওয়ায় কোষে গ্লুকোজের ঘাটতি ঘটে এবং রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। এই অবস্থাকেই ডায়াবেটিস বলে।

কারো রক্তে গ্লুকোজ সুনির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলেই তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজ মাত্রা অভুক্ত অবস্থায় ৬ দশমিক ১ মি. মোল/লি. এবং গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ৭ দশমিক ৮ মি.মোল/লি. এর নিচে থাকতে হবে।

আর যদি ডায়াবেটিস হয়ে যায়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটা বোঝা যাবে যদি রক্তে গ্লুকোজ মাত্রা অভুক্ত অবস্থায় ৪ দশমিক ৪-৬ দশমিক ১ মি.মোল/লি., খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ৪ দশমিক ৪-৮ দশমিক ০ মি.মোল/লি. এর মধ্যে থাকে এবং হিমোগ্লোবিন এ১ সি-৭ শতাংশের নিচে থাকে। গর্ভকালীন সময়ে অভুক্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৫ দশমিক ৩ মি.মোল/লি. এবং খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ৬ দশমিক ৭ মি.মোল/লি. এর নিচে থাকতে হবে।

যাদের ডায়াবেটিস হয়েছে তাদের উচিত এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর যাদের এখনো হয় নাই তাদের উচিত এটাকে প্রতিরোধ করা। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডায়াবেটিস হবে ৭ম বৃহত্তম মরণ ব্যাধি।

ডায়াবেটিস আজীবনের একটি অসংক্রামক রোগ। বংশগত, পরিবেশগত, অলস জীবন যাপন, অসম খাদ্যাভ্যাসের কারণে এ রোগ হতে পারে। এর চিকিৎসার মূল উপাদান হচ্ছে শিক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে ওষুধ। এগুলোর সমন্বয়ে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতে হবে, পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রক্তের গ্লুকোজের প্রধান উৎস হলো খাবার দাবার। এজন্যই ডায়াবেটিস হলে খাদ্য সম্পর্কে বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডায়াবেটিস হলে মানুষ খুব চিন্তায় পড়ে যায়, এই বুঝি তার রিজিক চলে গেল। আসলে কি তাই? আসল কথা হলো খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা ডায়াবেটিস হওয়ার আগেও যেমন থাকে, ডায়াবেটিস হওয়ার পরেও ঠিক একই রকম থাকে। পুষ্টির কোনো তারতম্য হয় না।

পার্থক্য হলো ডায়াবেটিস হলে খাবারের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয় এবং প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যায়াম করতে হয়, যার উদ্দেশ্য হলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাস্থ্যকে ভালো রাখা। ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য কেমন হবে সেটা সবারই জানা দরকার।

যেসব খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় সেসব খাবার যেমন- মিষ্টি জাতীয় খাবার, সাদা ভাত, সাদা রুটি, সিদ্ধ আলু ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রেখে যেসব খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেরিতে এবং ধীরে ধীরে বাড়ে যেমন আঁশ জাতীয় শাকসবজি, ফল, মাছ/মাংস, ডিম, দুধ জাতীয় খাবার ইত্যাদি খাবারের তালিকায় যাতে থাকে সে দিকটা খেয়াল রাখতে হয়।

ডায়াবেটিস রোগীর খাবারে শাকসবজির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। সারা বছরই এ দেশে নানা ধরনের শাকসবজি উৎপাদন হয়। প্রকৃতির এই নেয়ামতকে বিজ্ঞানসম্মত কাজে লাগিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও প্রতিরোধ করা যায়। ডায়াবেটিস রোগীর সুবিধার জন্য

শাকসবজিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১। শর্করা সম্বলিত সবজি যেমন- আলু, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা কলা, বরবটি, থোড়, মোচা, বিট, শিম, মাটির নীচের কচু, গাজর, কাঁকরোল, শিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি, শালগম, ইঁচড়, ঢেঁড়স, বেগুন, মটর শুঁটি, কচুরমুখী, পাকা টমেটো।

২। শর্করাবিহীন শাকসবজি যেমন- সব ধরনের শাক, যেমন লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, কচুশাক ইত্যাদি এবং সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, কাঁচা টমেটো, কাঁচা পেপে, শসা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, চিচিঙা, পটোল, লাউ, চালকুমড়া, ডাঁটা, সজনা, ধন্দুল, ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ, মাশরুম ইত্যাদি।

উপরোক্ত শাকসবজিগুলো প্রতিটি মৌসুমেই কোনটা না কোনটা উৎপাদিত হয়। ডায়াবেটিস রোগীর উচিত প্রতিদিন একই ধরনের শাকসবজি না খেয়ে পাঁচ মিশালী শাকসবজি খাওয়া। এতে করে সব ধরনের শাকসবজির ভিটামিন মিনারেলসহ শরীরের কাজে লাগবে, খাবারে বৈচিত্র্য আসবে, পেট ভরবে, মনে পরিতৃপ্তি আসবে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। বীজ যেমন- পরিবেশ পেলে গজিয়ে উঠে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসও তেমনই বেড়ে যায় নানা ধরনের রোগ হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ পেলে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে হার্ট, কিডনি, লিভার, চোখ নষ্ট হয়ে যায়, নানা রকম ক্যান্সার হতে পারে, এমনকি শরীরের মাংসেও পচন ধরতে পারে। গর্ভকালীন সময়েও নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, গর্ভস্থ শিশু মৃত এবং প্রতিবন্ধী হতে পারে, অর্থাৎ ডায়াবেটিস এহেনও কোনো রোগ বা জটিলতা নেই যেটা জন্মাতে সাহায্য করে না।

আল্লাহ তায়ালা শাকসবজির ভেতর এতই নিয়ামত দিয়ে রেখেছেন যে সারা বছর যেসব শাকসবজি পাওয়া যায় তা দিয়েই এসব রোগ প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিদিনের খাবারে আঁশযুক্ত শাকসবজি থাকতে হবে। বিভিন্ন প্রকার শাক, তরি-তরকারি যেমন শিম, বরবটি, মাশরুম, লাউ, কুমড়া, গাজর, কাঁচা কলা, ডাঁটা এগুলোর বাইরের আবরণ হচ্ছে সেলুলোজ, একে আঁশও বলা যায়।

এগুলো হজম হয় না, রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে দেয় না, ওজনও বাড়ায় না। এগুলো খাদ্যনালীর আর্দ্রতা পরিশোষণ করে ক্ষুদ্রান্ত্র পার হয়ে মলের সাথে বৃহদন্ত্রে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং মলত্যাগে সাহায্য করে। সুতরাং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণসহ এসব খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য এমন কি কোলন ক্যান্সারও দূর করে। রক্তস্বল্পতায় শাকসবজির গুরুত্ব অনেক।

পালংশাক, লালশাক,পেঁয়াজ, গাজর, মুলা, বিট, মিষ্টি আলু, টমেটো, খোসাসহ আলু, কচুশাক, লেটুস পাতা, শিম, বরবটি ইত্যাদিতে লৌহ ও ফলিক এসিড রয়েছে। সবজির মধ্যে বীট রক্তশূন্যতা রোধে খুবই উপকারী। এতে রয়েছে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সালফার, আয়োডিন, লৌহ, কপার, ভিটামিন বি-২, বি-৬, বি-১২ এবং ভিটামিন সি। উচ্চমানের লৌহের জন্য এটি রক্তের লোহিত কণিকা সক্রিয় করতে ও উৎপাদন করতে সাহায্য করে। দেহে ফ্রেশ অক্সিজেন সরবরাহও করে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যেটা হার্টের জন্য ক্ষতিকর। নায়াসিন কোলস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এটা পাওয়া যায় আঁশযুক্ত সবুজ শাক সবজি, খোসাসহ আলুতে। তাছাড়া কাঁচা রসুনও খাওয়া যেতে পারে।
তাজা শাকসবজি আমাদের প্রক্রিয়াজাত করে খেতে হয় অর্থাৎ রান্না করে খেতে হয়। রান্নার ওপরও ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার বাড়া-কমা অনেকটা নির্ভর করে। যেমন- আলুর চিপস বা ফ্রেন্সফ্রাইয়ের চেয়ে সিদ্ধ আলু খেলে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গাজর কাঁচা না খেয়ে সিদ্ধ অবস্থায় খেলে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। শর্করা সংবলিত সবজিগুলো অনেকক্ষণ ধরে রান্না করলে সহজে হজম হয়ে শোষণ হয় এবং দ্রুত রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

শাক সবজি যেগুলো কাঁচা ও টাটকা খাওয়া যায় সেগুলো কাঁচা অবস্থায় খেলেই উপকার বেশি পাওয়া যায়। যেগুলো খোসাসহ রান্না করা যায় সেগুলো খোসাসহ রান্নাই ভালো। তবে সবজি বেশি সিদ্ধ না করে একটু কাঁচা কাঁচা করে রান্না করা উচিত। এতে স্বাদ, গন্ধ, রঙ এবং ভিটামিন অটুট থাকে।

বর্তমানে অপুষ্টির সমস্যা নিরসনে সারা বিশ্বে ড্রাগ বেসড অ্যাপ্রোচের তুলনায় ফুড বেসড অ্যাপ্রোচ অধিক টেকসই বলে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে নিজস্ব উৎপাদিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, কর্ম সংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে ফুড বেসড অ্যাপ্রোচের ভূমিকা অপরিসীম।

সুতরাং আসুন আমরা সকলে মিলে কৃষি উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতার পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ জাতি গঠনে সহায়তা করি।

‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ শাক সবজি ও ফল খাই, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এর তুলনা নাই’।

মেজর জেনারেল মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে এনডিসি প্রতিনিধি দলের বেনাপোল সফর

মেহেদী হাসান রিপন, স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১০ এএম
মেজর জেনারেল মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে এনডিসি প্রতিনিধি দলের বেনাপোল সফর

ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি)-এর ২৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রোববার বেনাপোল স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট (আইসিপি) পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। মেজর জেনারেল মোঃ মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা ও বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।সফরকালে প্রতিনিধি দলটিকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন বিজিবির যশোর দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন সদর দপ্তরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাহমুদুল হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, যশোর এফআইজি গ্রুপ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসকে এম কফিল উদ্দিন, যশোর ব্যাটালিয়নের আর্টিলারি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এবং দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশরাফুল হক।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, এনডিসি সদস্যরা প্রথমে বেনাপোল সদর ক্যাম্পে আয়োজিত এক কনফারেন্সে অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্যবহুল ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এরপর তারা বন্দরের কার্গো ইয়ার্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের আকর্ষণীয় যৌথ রিট্রিট প্যারেড প্রত্যক্ষ করেন।

চান্দিনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মহাসড়ক অবরোধ, ঘটনাস্থলে এমপি আতিকুল আলম শাওন

ইমদাদুল ইসলাম রনি, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ এএম
চান্দিনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মহাসড়ক অবরোধ, ঘটনাস্থলে এমপি আতিকুল আলম শাওন

চান্দিনা, কুমিল্লা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এলাকা। আজ রোববার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) বেলা আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে চান্দিনা থানাধীন বড় গোবিন্দপুর স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রিয় সহপাঠীকে হারানোর শোক এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বড় গোবিন্দপুর স্কুলের এক শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি যানবাহনের চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বড় গোবিন্দপুর স্কুলসহ আশপাশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বরকামতা গ্রাম উন্নয়ন পরিষদ সংগঠন এবং চান্দিনা উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে সড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি একটাই— “নিরাপদ সড়ক চাই এবং অবিলম্বে এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।” তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের অবহেলার কারণেই বারবার এই স্থানে প্রাণ হারাতে হচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক এবং চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান। তারা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রাথমিক আশ্বাস দেন।

​এমপি শাওনের প্রতিশ্রুতি ও অবরোধ প্রত্যাহার

​উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কুমিল্লা-০৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা পোষণ করেন। এমপি শাওন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন:

​”শিক্ষার্থীদের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এখানে দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের সন্তানদের আর কোনো প্রাণ এভাবে অকালে ঝরতে দেওয়া হবে না।”

​সংসদ সদস্যের কাছ থেকে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট ও জোরালো প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় পর অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় এখনো পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সরকার এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি চালু হয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান, আরএমও ডা. আব্দুস সামাদ, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন অর রশীদ এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে হাম-রুবেলা প্রতিরোধ সম্ভব হবে। এতে দেশের শিশুরা সুস্থ ও নিরাপদ থাকবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, টিকার কোনো ঘাটতি হবে না এবং সবাইকে দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করতে হবে। জেলা সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। এ কার্যক্রম টানা ১৫ দিন চলবে।

উল্লেখ্য, সারা দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং এতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা সহযোগিতা করছে।

error: Content is protected !!