৯ বছর ধরে কুড়িয়ে পাওয়া সন্তানকে আগলে রাখছেন আশামনি
আমি তৃতীয় লিঙ্গ হতে পারি, কিন্তু আমি তো মা!”—৯ বছর ধরে কুড়িয়ে পাওয়া সন্তানকে আগলে রাখছেন আশামনি! 😭 এক অনন্য মাতৃত্বের গল্প!
জন্ম দিলেই মা হওয়া যায় না, মা হওয়া যায় লালন-পালনে আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা আশামনি আজ সেই অসাধ্য সাধন করেছেন।
নিজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়েও এক অনাথ শিশুকে নিজের বুকের দুধের চেয়েও বেশি মমতায় বড় করে তুলছেন। আজ সেই সন্তান আশিকুর রহমান তাঁর আম্মুর আঁচল ছাড়া কিছুই বোঝে না।
মমতার এক বিরল ইতিহাস:
বাচ্চাটিকে বাঁচানোর লড়াই:
৯ বছর আগে এক অসহায় নারীর গর্ভের সন্তান যখন নষ্ট করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন আশামনি বাধা দেন। নিজের জমানো ৩০ হাজার টাকা দিয়ে সিজারের খরচ চালিয়ে সেই সন্তানকে নিজের কোলে তুলে নেন।
সংগ্রামী জীবন:
আশামনি কখনো মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে টাকা তোলেন, কখনো নেচে-গেয়ে রোজগার করেন—সবই শুধু ছেলে আশিকের ভবিষ্যতের জন্য।
এখন ছেলের কথা ভেবে রাস্তাঘাট ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে গরু-বাছুর পালন করে সংসার চালানোর স্বপ্ন দেখছেন।
কোরআনের হাফেজ বানানোর স্বপ্ন: আশামনি চান তাঁর ছেলে বড় আলেম হোক, কোরআনের আলোয় আলোকিত হোক। রাতে যখন ছেলে কোরআন তেলাওয়াত করে, আশামনি সব ক্লান্তি ভুলে একমনে সেই সুর শোনেন।
ছেলের চোখে মা-ই সব:
৯ বছরের আশিক এখন মাদ্রাসায় যায়। বাড়ি ফিরেই আম্মুকে জড়িয়ে ধরা,
আম্মু ভাত খেয়েছে কি না খোঁজ নেওয়া—তাদের এই স্বর্গীয় বন্ধন দেখলে কারোরই বোঝার উপায় নেই যে আশামনি এই সন্তানের জন্মদাত্রী নন।
আমাদের শিক্ষা:
সমাজ যাদের অবহেলা করে, সেই তৃতীয় লিঙ্গের একজন মানুষের হৃদয় যে কতটা বিশাল হতে পারে, আশামনি তার জীবন্ত প্রমাণ। তিনি চান
মরার পর যেন তাঁর ছেলে তাঁর কবরে এক মুঠো মাটি দেয়—একজন মায়ের এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?

















