শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

দুপুরের খাবার আনতে সরকারি ব্যয় ২৮ লক্ষ টাকা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪, ৩:০৩ এএম | 192 বার পড়া হয়েছে
দুপুরের খাবার আনতে সরকারি ব্যয় ২৮ লক্ষ টাকা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস অফিস করতেন রাজধানীর ফুলবাড়িয়ার নগর ভবনে। তবে তিনি থাকতেন উত্তর সিটির অভিজাত এলাকা বনানীতে। তার বাসা থেকে নগর ভবনের দূরত্ব প্রায় ১১ কিলোমিটার।

তবে নগর ভবনে বসেই দুপুরে বনানীর বাসায় রান্নায় করা ভাত খেতেন তাপস। সেই ভাত আনার জন্য বরাদ্দ ছিল সরকারি একটা গাড়ি (ঢাকা মেট্রো খ ১২-০৩৯৬-সেডান কার)। গাড়ির চালক ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিবহন বিভাগের এক চালক। বনানী থেকে নগর ভবনে যাওয়া-আসায় গাড়িটি দিনে ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিত।

বনানী থেকে ফুলবাড়িয়ায় নগর ভবনে ভাত আনতে সেই গাড়ির জন্য জ্বালানি তেল (অকটেন) বরাদ্দ ছিল ২০ লিটার। এক লিটার অকটেনের দাম ১২৫ টাকা হিসেবে ২০ লিটারের জন্য ব্যয় হতো ২ হাজার ৫০০ টাকা। শুক্র ও শনিবার ছাড়া সেই গাড়ির জন্য মাসে বরাদ্দ ছিল ৪৪০ লিটার অকটেন।

সব মিলিয়ে বনানীর বাসা থেকে তাপসের দুপুরের খাবার আনতে মাসে খরচ হতো ৫৫ হাজার টাকা। যা বছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন ৫১ মাস। এই সময়ের মধ্যে শুধু তাপসের দুপুরের খাবার আনার জন্য গাড়ির জ্বালানি বাবদ সিটি করপোরেশনের ব্যয় ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। প্রতিবেদনে পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তারা বলছেন, প্রতি লিটার তেলে অন্তত ১০ কিলোমিটার চলতে পারে ওই গাড়ি। অথচ প্রতিদিন গাড়িটির জন্য ২০ লিটার করে তেল দেওয়া হতো।

 

পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িটির জন্য প্রথম দিকে (২০২০ সালের জুন থেকে) দিনে ২৬ লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হতো। তবে গত বছরের শুরু থেকে বরাদ্দ ৬ লিটার কমিয়ে ২০ লিটার করা হয়। মেয়রের ভাত আনা ছাড়া গাড়িটি অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়নি।

বরাদ্দ করা বাকি জ্বালানি তেল কী করা হতো তা জানতে চাইলে গাড়িচালক নাজিরুল ইসলাম বলেন, মেয়রের দপ্তরের জরুরি কাজে বিভিন্ন স্থানে তাকে যেত হতো। যে কারণে দিনে ২০ লিটার তেলের পুরোটাই ব্যবহৃত হতো বলে দাবি করেন গাড়িচালক।

আবু জাফর সাতক্ষীরা

বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী রক্ষায় টিআরএম বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

আবু জাফর সাতক্ষীরা প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী রক্ষায় টিআরএম বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে টেকসই নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা (এসআরবিএম) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী রক্ষায় দ্রুত টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বা জোয়ারাধার বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সম্মুখ সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুব পানি কমিটি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বাবু, সদস্য আব্দুস ছামাদ। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহীন ইসলাম, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুর রহমান, প্রথম আলো বন্ধুসভা সাতক্ষীরার সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস, সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, সদস্য করিমন নেছা শান্তা ও হাবিবুর রহমান, প্রান্তিক যুব সংঘের ইমতি জামিল এবং বিডি ক্লিন সাতক্ষীরার উপ-সমন্বয়ক মো. ফাতিন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণের প্রজেক্ট অফিসার দিলীপ কুমার, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর গোলাম হোসেন, ভিবিডি সাতক্ষীরার সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, ট্রেজারার নাজমুল হাসান, বিডি ক্লিন সাতক্ষীরার সমন্বয়ক অর্পণ বসুসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, টিআরএম বাস্তবায়ন না হওয়ায় খননের পরেও বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী নাব্যতা হারিয়ে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষি, মৎস্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ সংকট দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

বক্তারা বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য টিআরএম বা জোয়ারাধার পদ্ধতি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। এটি বাস্তবায়ন করা হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে, পলি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো, অনতি বিলম্বে বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী অববাহিকায় টিআরএম বাস্তবায়ন করা; পোল্ডারের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ আবদ্ধ নদীগুলো উন্মুক্ত করে ইছামতি, মরিচ্চাপ ও বেতনা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা; এবং নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদার করা।
বক্তারা হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

হাফিজুর রহমান (মধুপুর) টাঙ্গাইল

মধুপুরে এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানের মাঝে খেজুর বিতরণ

হাফিজুর রহমান (মধুপুর) টাঙ্গাইল প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম
মধুপুরে এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানের মাঝে খেজুর বিতরণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সৌদি সরকারের উপহার হিসেবে আসা খেজুর উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মধুপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে খেজুর তুলে দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ২৫ কার্টুন (প্রায় ২০০ কেজি) খেজুর উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। সীমিত পরিমাণ এই উপহার উপজেলার ৩১টি নিবন্ধিত এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খেজুর বিতরণ শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২১ জন দুস্থ ব্যক্তির মাঝে যাকাতের নগদ অর্থও বিতরণ করা হয়।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্টদের হাতে খেজুর ও যাকাতের অর্থ তুলে দেন।

বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসাইন, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মধুপুর উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার আব্দুল আলিম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে মধুপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুছ সাদাৎ নোমান, সহ-সভাপতি মো. আ. হামিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র রমজান মাসের আগে এই উপহার পেয়ে এতিমখানা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আবু জাফর, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় ডিসি চলে যেতেই থেমে গেল অভিযান

আবু জাফর, সাতক্ষীরা প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৩ পিএম
সাতক্ষীরায় ডিসি চলে যেতেই থেমে গেল অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর ঘোষণা থাকলেও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হলেও তিনি চলে যাওয়ার পরপরই কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানি ও অপরিষ্কার ড্রেনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র‍্যালি বের হয়ে সদর হাসপাতালের দিকে যায়। পরে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু হয়।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত এবং বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ শাহীনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা আয়োজনেরও কথা ছিল। পাশাপাশি দিনব্যাপী শহরজুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পরই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানে অংশ নেওয়া অনেকেই মূলত ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ড্রেনে জমে থাকা ময়লা পানি পরিষ্কারের কার্যকর উদ্যোগও তেমন দেখা যায়নি।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ড্রেন ও আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এ অবস্থায় সাময়িক কর্মসূচির বদলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

error: Content is protected !!