রুবিনা শেখ
ট্র্যাফিক জ্যামের লাল গোলাপ: এক পথশিশুর জীবনযুদ্ধ
পথশিশু নাম থাকা সত্ত্বেও ফুলালি বলেই পরিচিত, , ঠিকানা নেই, তবু আছে এক অদম্য জীবনশক্তি।
কর্মজীবী সে যেই বয়সে আমাদের সন্তানরা এক গ্লাস পানি ঢেলে খেতে পারে না একটু কলেজ নিয়ে ব্যস্ত সেই বয়সে কলমের বদলে হাতে তুলে নিয়েছে লাল গোলাপ, ফুল বিক্রি করেই তার জীবনের জীবিকা
ছুটে চলাই তার লক্ষ্য—লাল বাতি জ্বললেই দৌড়, সবুজ হলেই সরে দাঁড়ানো।
ক্লান্তির ছাপ নেই মুখে, আছে কেবল অনুশীলিত এক হাসি
“ফুল নেবেন? গোলাপ নেবেন?
ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে থাকা যাত্রীদের বিরক্তি, ধোঁয়া আর হর্নের বিষাক্ত শব্দের মাঝেও
এই ছোট্ট শিশুর মুখের হাসি যেন এক ফোঁটা নির্মল বাতাস।
অপেক্ষার ক্লান্ত মুহূর্তে কেউ কেউ জানালা খুলে দেয়
কেউ সহানুভূতিতে, কেউ ভালোবাসায়, কেউ আবার কেবল মায়ায়।
আমার অবাক চোখ একগোছা গোলাপের দিকে তাকিয়ে থাকে
এই গোলাপ কি কেবল প্রেমের প্রতীক?
নাকি এটি তার একবেলার খাবার,
মায়ের ওষুধ,
অথবা ছোট ভাইবোনের স্কুলে যাওয়ার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন?
বাস্তবতার কিছু তথ্য
বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী দেশে কয়েক লাখ পথশিশু রয়েছে, যার বড় অংশই রাজধানী ঢাকায়।
অনেক পথশিশু পরিবারসহ ফুটপাত বা বস্তিতে বসবাস করে।
উল্লেখযোগ্য অংশ ফুল, খেলনা, টিস্যু বা পানীয় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুদের একটি বড় অংশ ৮–১৪ বছর বয়সেই শ্রমে যুক্ত হয়।
ট্র্যাফিক সিগন্যাল ও ব্যস্ত মোড়গুলো তাদের প্রধান কর্মক্ষেত্র।
দারিদ্র্য, গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন, পারিবারিক ভাঙন এসব কারণেই তারা রাস্তায় নেমে আসে।
তবু আশ্চর্যের বিষয়
তাদের অনেকের চোখে এখনও স্বপ্ন মরে যায়নি।
শেষকথা
যে গোলাপ আমরা মুহূর্তের সৌন্দর্যের জন্য কিনি,
সেই গোলাপই কারও জীবনের সংগ্রামের প্রতীক।
আমরা ট্র্যাফিকের ভিড়ে বিরক্ত হই,
আর সে একই ভিড়ে খুঁজে পায় বেঁচে থাকার উপায়।
হয়তো একদিন এই শিশুদের হাতে থাকবে বই,
গোলাপ নয়
তবু আজ, এই মুহূর্তে,
তার ছোট্ট কণ্ঠের ডাক আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করে
ফুল নেবেন?
নাকি আমরা তার ভবিষ্যৎটুকু দেখব?
চাইলে আমি এটাকে কবিতার ছন্দে বা সংবাদধর্মী ফিচার আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।

















