বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম | 59 বার পড়া হয়েছে
কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

ঐতিহ্যের কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো দক্ষিণ বাংলার সবচেয়ে বড় দীঘি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীরে ‘সুন্দরী কমলা রানীর দীঘি’।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চন্দ্রদ্বীপ রাজার শৌর্যবীর্যের স্মৃতি এই কমলা রানীর দীঘি। কথিত আছে, রাজা জয়দেবের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। কমলা সুন্দরী ও বিদ্যাসুন্দরী নামে দুই মেয়ে ছিল। কমলা ছিলেন বুদ্ধিমতি। পিতার নির্দেশে তিনি রাজ্য পরিচালনা ও অস্ত্র চালনা শেখেন। পরিণত বয়সে রাজা কমলাকে বাবুগঞ্জ থানার দেহেরগতি গ্রামের উষাপতির পুত্র বলভদ্র বসুর সঙ্গে বিয়ে দেন।

বলভদ্র বসু ছিলেন বিদ্যোৎশায়ী ও বিভিন্ন শাসে্ত্র পণ্ডিত এবং যুদ্ধ বিদ্যায় অতুলনীয়। বলভদ্র বসু অবশ্য দেখতে কালো ছিলেন, তাই প্রজারা তাকে কালো রাজা বলতেন। বিয়ের পর কমলা স্বামীসহ কচুয়াতেই বসবাস করতেন। রাজা জয়দেব তার মৃত্যুর সময় কমলাকে পরবর্তী রাজা নিযুক্ত করেছিলেন।১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে কমলা সিংহাসনে আরোহণ করেন।

কমলা রানীর দীঘির পাড়ের উচ্চতা প্রায় ৪০-৫০ ফুট। এতবড় এবং উঁচু পাড় বিশিষ্ট দীঘি তখন এ বঙ্গে ছিল প্রথম। দীঘি খননে তখনকার দিনে মোট ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। কথিত আছে, দীঘি খনন হলেও দীঘিতে পানি উঠছিল না। অথচ দীঘির চার পাশে ছিল পুকুর, ডোবা-নালা, খাল-বিল পানিতে ভর্তি। পানি উঠাতে পূজা দেওয়া হয়, কাঙালি ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তারপরেও পানি ওঠেনি। এ জন্য কমলা রানীসহ সভাসদ ও প্রজাদের চোখে ঘুম ছিল না। একদিন রাতে কমলা রানী পালংকে ঘুমাচ্ছিলেন। তখন কে যেন ফিস ফিস করে তার কানে কানে সাবধান করে দিয়ে যায়- যদি না সে পুকুরের ভিতর খালি পায়ে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হেঁটে না আসেন- তাহলে কিছুতেই এক ফোঁটা পানিও ওঠবে না। তখন কমলা রানী পূজা অর্চনা সেরে খালি পায়ে দীঘিতে হাঁটা শুরু করেন। তিনি দীঘির মাঝে পৌঁছাতেই পানি ওঠা শুরু করে। চোখের নিমিষে কমলার হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। কমলা অবশ্য জিদ ধরে ছিলেন। পানি কোমর পর্যন্ত না ওঠা অবধি তিনি পাড়ে উঠবেন না। এই কাজ করতে গিয়ে পানি এতটাই উঠে যায় যে কমলা আর সেই পানি থেকে তীরে উঠতে পারেননি। তিনি ওই পানিতে ডুবে হারিয়ে যান। সেই কমলা সুন্দরী দীঘির উত্তর পাড় দিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে চলে গেল। ৫২৬ বছর আগের সেই খাল ও দীঘিটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে নানা স্মৃতি বহন করছে।

সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া কক্সবাজার

শিক্ষকের প্রতি চিকিৎসক ছাত্রে বদন্যতার এক বিরল দৃষ্টান্ত

সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া কক্সবাজার প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
শিক্ষকের প্রতি চিকিৎসক ছাত্রে বদন্যতার এক বিরল দৃষ্টান্ত

শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের যে শ্রদ্ধা আদর ভালবাসা কোনটাই কমেযায়নি চল্লিশ বছর পরও সেটি প্রমাণিত হলো আলিফ হাসপাতাল কুতুপালং উখিয়ায়।

(৩ মার্চ)এই বিরল ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার অদুরে অবস্থিত আলিফ প্রাইভেট হাসপাতালে বিকেল ৪.৩০ মিনিটের সময়। রোগী যথারীতি বিশিষ্ট কবি ও লোকজগবেষক মাস্টার শাহআলম। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন আলিফ হাসপাতালে ঠিক সে সময় দায়ীত্বরত ছিলেন মানবিক ডাক্তার বিসি বড়ুয়া এমবিবিএস (ঢাকা) পিজিটি(মেডিসিন)। স্কুল জীবনের শিক্ষকাগুরু মাস্টার শাহআলমকে সামনে দেখে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে স্যারের পদধূলি নিলেন। রোগ সংক্রান্ত কতোপোকেথন শেষে একটি এক্সে দিলেন রিপোর্ট দেখে চিকিৎসা পত্র লিখে দিলেন সুন্দর ভক্তিময় আচরণে। বিদায় পথে প্রিয় শিক্ষকের হাতে তুলেদিলেন ঔষধ সহ ঈদের অগ্রীম হাদিয়া। আর প্রিয় শিক্ষক ছাত্রের হাতে তুলে দিলেন নিজের লিখা প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই বিরল ঘটনা সত্যিকার অর্থে এখন দেখা যায়না শিক্ষক ছাত্রের কোন জাত নেই ধর্ম নেই তারা যেনোঅ ভিন্ন এক আত্মা।

স্টাফ রিপোর্টার উজ্জ্বল বাংলাদেশ

সাংবাদিককে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতের অভিযোগে তহশিলদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
সাংবাদিককে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতের অভিযোগে তহশিলদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ, গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর প্রায় ১টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আল হেদায়েতুল্লা সিদ্দিকী সুজন। অভিযোগ করা হয়েছে, অফিসে প্রবেশের পর পরিচয় দেওয়ার আগেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রূঢ় আচরণ শুরু করেন।
সাংবাদিকের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্যোগ নেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারীর এ ধরনের আচরণ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে ব্যাহত করে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে দাপ্তরিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অফিসে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এমন আচরণে তিনি বিস্মিত ও বিব্রত হন। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনেন এবং লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, এ ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার

দিঘলিয়ায় ট্রলি ও মোটরসাইকেল চালকের বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
দিঘলিয়ায় ট্রলি ও মোটরসাইকেল চালকের বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের ঘোষগাতী কেবল ঘাট এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ৩/৪ দিন আগের একটি সাধারণ বিবাদকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন, যাদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
আহতরা হলেন— ঘোষগাতী গ্রামের গনি গাজীর ছেলে ট্রলি চালক শামীম (২৮), মহেশ্বরপুর গ্রামের মান্নান শেখের ছেলে সজীব (২৬) এবং ঘোষগাতী গ্রামের মৃত সালাহউদ্দিনের ছেলে নাসির (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩/৪ দিন আগে শামীম ট্রলি চালিয়ে এবং সজীব মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পথে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময় বিষয়টি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। ওই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ পুনরায় বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে শামীম, সজীব ও নাসির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারাত্মকভাবে জখম হন।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) প্রেরণ করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জখম গুরুতর হওয়ায় আহতদের অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন।
ঘটনার বিষয়ে দিঘলিয়া থানার এসআই লিটন মন্ডল জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

error: Content is protected !!