বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

মোঃ আজগার আলী, খুলনা ব্যুরো প্রধান

সাতক্ষীরায় বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার: নারী মাদক কারবারি আটক

MD. AZGAR ALI
MD. AZGAR ALI - Khulna Bureau Chief, KHULNA DIVISION প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম | 58 বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরায় বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার: নারী মাদক কারবারি আটক

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য অর্জন করেছে র‍্যাব ও বিজিবি। যৌথ অভিযানে প্রায় এক হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াসিমলা ইউনিয়নের কামদেবপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। র‍্যাব-৬ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়া এবং বিজিবির হাবিলদার জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল কামদেবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫০৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি মিজানুর রহমানকে আটক করে। পরে তাকে কালিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
আটক মিজানুর রহমানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শনিবার তার বাড়ির পাশের একটি মৎস্য ঘেরসংলগ্ন বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় চারটি বস্তার ভেতর থেকে ৯৮৩ বোতল ফেনসিডিল এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মিজানুর রহমানের স্ত্রী ইয়াসমিন জাহান (২২) কে আটক করা হয়।
আটক ইয়াসমিন জাহান কালিগঞ্জ উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পলাতক মাদক কারবারি মিজানুর রহমানের স্ত্রী বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে মাদক সংরক্ষণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল ও অন্যান্য আলামতসহ আটক ইয়াসমিন জাহানকে কালিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক আরেকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

স্টাফ রিপোর্টার উজ্জ্বল বাংলাদেশ

সাংবাদিককে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতের অভিযোগে তহশিলদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
সাংবাদিককে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতের অভিযোগে তহশিলদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ, গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর প্রায় ১টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আল হেদায়েতুল্লা সিদ্দিকী সুজন। অভিযোগ করা হয়েছে, অফিসে প্রবেশের পর পরিচয় দেওয়ার আগেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রূঢ় আচরণ শুরু করেন।
সাংবাদিকের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্যোগ নেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারীর এ ধরনের আচরণ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে ব্যাহত করে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে দাপ্তরিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অফিসে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এমন আচরণে তিনি বিস্মিত ও বিব্রত হন। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনেন এবং লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, এ ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার

দিঘলিয়ায় ট্রলি ও মোটরসাইকেল চালকের বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
দিঘলিয়ায় ট্রলি ও মোটরসাইকেল চালকের বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের ঘোষগাতী কেবল ঘাট এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ৩/৪ দিন আগের একটি সাধারণ বিবাদকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন, যাদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
আহতরা হলেন— ঘোষগাতী গ্রামের গনি গাজীর ছেলে ট্রলি চালক শামীম (২৮), মহেশ্বরপুর গ্রামের মান্নান শেখের ছেলে সজীব (২৬) এবং ঘোষগাতী গ্রামের মৃত সালাহউদ্দিনের ছেলে নাসির (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩/৪ দিন আগে শামীম ট্রলি চালিয়ে এবং সজীব মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পথে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময় বিষয়টি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। ওই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ পুনরায় বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে শামীম, সজীব ও নাসির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারাত্মকভাবে জখম হন।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) প্রেরণ করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জখম গুরুতর হওয়ায় আহতদের অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন।
ঘটনার বিষয়ে দিঘলিয়া থানার এসআই লিটন মন্ডল জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মহিলা জামায়াতের মানববন্ধন

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৪ এএম
ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মহিলা জামায়াতের মানববন্ধন

রামপুরা, নরসিংদী, গাইবান্ধা, সীতাকুণ্ড ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা বিভাগ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মহানগরী মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ফরিদা খানম বলেন, গত বছরও রমজান মাসে শিশু আছিয়া হত্যার প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। নির্বাচিত সরকারের অধীনে নারী ও শিশুরা অধিক নিরাপদ হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা ও দলীয় ছত্রছায়ায় অপরাধ, জুলুম ও নারী নিপীড়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, রামপুরা, নরসিংদী, গাইবান্ধা, সীতাকুণ্ড ও ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে; কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছে। প্রশাসন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং বিচার নিশ্চিত হলে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতো না।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের মহিলা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদিকা উম্মে কানিজ জাহানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আয়েশা পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদিকা উম্মে ফাতেমা, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ফারজানা পারভীন, চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদিকা নাহিমা আকতার দীপা ও শিশু বক্তা সামারা বিনতে নোমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য খুরশিদ জাহান, শাহেদা মতিন, জয়নাব বেগম নাহিদ, রোকেয়া বেগম চৌধুরী প্রমুখ।
মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে ১২ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করা; বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করা; নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া চালু করা; প্রতিটি মা-বোন ও শিশুর নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা; দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা; অপরাধীদের গডফাদারদের বিচারের আওতায় আনা; মামলা নিতে গড়িমসি করা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; শিশু নিরাপত্তা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ও ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা; ভুক্তভোগীকে হয়রানি বা অপদস্থ করার সংস্কৃতি পরিহার করে তার পাশে দাঁড়িয়ে বিচার নিশ্চিত করা এবং বিচারের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি বন্ধ করা।

error: Content is protected !!