সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ইউনুস (আঃ)-এর তওবার কাহিনী

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩০ এএম | 128 বার পড়া হয়েছে
ইউনুস (আঃ)-এর তওবার কাহিনী

✨ নিনেভেহ শহরের অলিতে-গলিতে এক আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিচ্ছিলেন হযরত ইউনুস (আঃ)। কিন্তু যুগের পর যুগ অতিবাহিত হলেও পাথুরে হৃদয়ের অধিকারী সেই মানুষগুলো তাঁর কথায় কর্ণপাত করল না। তারা তাঁকে উপহাস করল, মিথ্যাবাদী বলল। অবশেষে একরাশ অভিমান আর বিরক্তি নিয়ে আল্লাহর চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষা না করেই ইউনুস (আঃ) শহর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন।
১. উত্তাল সমুদ্র ও তকদিরের লটারি
ইউনুস (আঃ) একটি যাত্রীবাহী জাহাজে উঠলেন। মাঝ সমুদ্রে পৌঁছাতেই আকাশ কালো হয়ে এল এবং শুরু হলো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলো। যাত্রীরা মনে করল, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে তার রবের অবাধ্য হয়েছে। সিদ্ধান্ত হলো লটারির মাধ্যমে একজনকে সাগরে ফেলে দেওয়া হবে।
তিন তিনবার লটারিতে হযরত ইউনুস (আঃ)-এর নাম উঠল। আল্লাহর নবী বুঝতে পারলেন, অনুমতি ছাড়া শহর ত্যাগ করার কারণে আজ তিনি পরীক্ষায় পড়েছেন। তিনি নিজেই সাগরের উত্তাল লোনাজলে ঝাঁপ দিলেন।
২. মাছের পেটে অন্ধকার কারাবাস
ঝাঁপ দেওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহর নির্দেশে এক বিশাল মাছ তাঁকে গিলে ফেলল। কিন্তু অলৌকিকভাবে মাছটি তাঁকে চিবাল না বা কোনো ক্ষত করল না। মাছের পেটের সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে, যেখানে সমুদ্রের পানির শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না, সেখানে ইউনুস (আঃ) নিদারুণ একাকিত্ব অনুভব করলেন। তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর ভুল। তিনি সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন সেই অমর বাণী:
“লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন।” > (হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি।)
৩. মুক্তি ও আল্লাহর কুদরত
মাছের পেটের ভেতরেও যখন ইউনুস (আঃ)-এর তাসবিহ আর দোয়ার গুঞ্জন থামল না, তখন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের বললেন, “আমার বান্দা আমাকে ডাকছে।” আল্লাহ মাছটিকে আদেশ দিলেন তাঁকে তীরে উগরে দেওয়ার জন্য। দীর্ঘ সময় পর ইউনুস (আঃ) একটি নির্জন বালুকাময় তীরে নিক্ষিপ্ত হলেন। তিনি তখন অত্যন্ত দুর্বল।
আল্লাহর কুদরত দেখুন! তাঁর ছায়ার জন্য সেখানে একটি লতা জাতীয় গাছ (কদু গাছ) গজিয়ে দেওয়া হলো। সেই গাছের ফল ও পাতা তাঁকে রোদ থেকে রক্ষা করল এবং পুষ্টি জোগাল। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেন।
৪. নিনেভেহ-এর পরিবর্তন ও একশ হাজার মুমিন
সুস্থ হয়ে আল্লাহর আদেশে তিনি পুনরায় নিনেভেহ শহরে ফিরে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি যা দেখলেন, তাতে তাঁর চোখ জুড়িয়ে গেল। তাঁর অনুপস্থিতিতে পুরো শহর তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে এসেছিল। এক লক্ষেরও বেশি মানুষ সেদিন নবীকে সানন্দে গ্রহণ করল এবং নিনেভেহ পরিণত হলো মুমিনদের এক পুণ্যভূমিতে।
গল্পের শিক্ষা:
বিপদে দোয়ার শক্তি: যখন দুনিয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন “দোয়ায়ে ইউনুস” আরশের দরজা খুলে দেয়।
আল্লাহর ক্ষমা: নবীরাও যদি কোনো ভুল করেন, তবে আল্লাহ তাঁদেরও তওবা করতে শেখান। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য তওবার গুরুত্ব আরও বেশি।
ধৈর্য: আল্লাহর কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগে আমাদের অধৈর্য হওয়া উচিত নয়।
সঠিক সূত্র/রেফারেন্স
​এই অলৌকিক ঘটনাটি পবিত্র কুরআনের কয়েকটি সূরাতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে:
​সূরা ইউনুস: (আয়াত: ৯৮)
​সূরা আম্বিয়া: (আয়াত: ৮৭-৮৮)
​সূরা আস-সাফফাত: (আয়াত: ১৩৯-১৪৮)
​তাফসীরে ইবনে কাসীর: সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা।

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম

অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর মাটিয়াল আদর্শ বাজার এলাকার বাসিন্দা হৃদরোগে আক্রান্ত আঁখি আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার মানবিক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর হৃদরোগে ভুগছেন শিশু আঁখি আক্তার -১০। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ৩০ মার্চ ২০২৬ ইং সোমবার বিকেলে উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও মাহামুদুল হাসান শিশু আঁখি আক্তারের চিকিৎসার জন্য তার মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন,
“মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে আঁখি আক্তারের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!