সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

দরপত্র উপেক্ষা করে মেকাডম ও বালিতে অনিয়মের অভিযোগ

সোনাগাজীতে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ

Master Mohammad Hanif
Master Mohammad Hanif - Feni District Correspondent, Feni District প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম | 24 বার পড়া হয়েছে
সোনাগাজীতে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব মীর্জাপুর গ্রামের চাঁন মিয়া ভূঞা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলিত চাঁন মিয়া ভূঞা সড়কটি পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ৮৮০ মিটার সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ফেনীর সেঞ্চুরি ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার কাজী সাইফুর রহমান স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দরপত্র অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার না করে নিন্মমানের মেকাডম ও বালি-ইটের কনার মিশ্রণে অনিয়ম করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে কনার তুলনায় ভিটি বালির পরিমাণ বেশি ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা সড়কের স্থায়িত্ব ও মানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিষয়টি চোখে পড়লে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কাজ বন্ধ করে দেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সার্ভেয়ার রাশেদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “নির্মাণ কাজে কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে এবং মেকাডমের মিশ্রণেও নিন্মমানের সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। তিনি রোববার সকালে সরেজমিনে তদন্ত করবেন।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, আবু তালেব ভূঞা, আবদুস সালাম, নুরনবী ভূঞা, আবু তাহের ভূঞা, আবু ইউছুপ ভূঞা, ফজলুল হকসহ বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী।

তারা জানান, বহুদিন ধরে অবহেলিত এই জনপদের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বরাদ্দ এলেও নিন্মমানের কাজ হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা দরপত্র অনুযায়ী শতভাগ মানসম্মত কাজের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার কাজী সাইফুর রহমান স্বপন বলেন, “আমি ভালো মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসীর অভিযোগের কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছি। উপজেলা প্রকৌশলী তদন্ত করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুনরায় মানসম্মত সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় তারা পুনরায় আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!