সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

জীবনের না-বোঝা রহস্য

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৭ পিএম | 31 বার পড়া হয়েছে
জীবনের না-বোঝা রহস্য

হযরত মূসা (আঃ) ছিলেন আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী নবী। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে বোঝাতে চাইলেন, মহাবিশ্বের সব রহস্য কেবল বাহ্যিক দৃষ্টি দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। তাই তাঁকে পাঠানো হলো খিদির (আঃ)-এর কাছে। খিদির (আঃ) শুরুতেই একটি শর্ত দিলেন:
“তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না। কারণ, যে বিষয়ের পূর্ণ জ্ঞান তোমার কাছে নেই, তা দেখে তুমি স্থির থাকবে কেমন করে?”
১. দয়ার আড়ালে ভাঙা নৌকা 🚣‍♂️
তাঁরা যখন একটি নৌকায় উঠলেন, খিদির (আঃ) হঠাৎ করে নৌকাটির তক্তা খুলে ফুটো করে দিলেন। মূসা (আঃ) আঁতকে উঠলেন—গরীব জেলেদের একমাত্র উপার্জনের সম্বলটি কেন নষ্ট করা হলো?
গোপন রহস্য: খিদির (আঃ) জানতেন, সামনেই এক জলদস্যু রাজা অপেক্ষা করছে যে সব ভালো নৌকা কেড়ে নেয়। নৌকাটি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হওয়ায় রাজা সেটিকে স্পর্শও করল না। আপাতদৃষ্টিতে যা ছিল ক্ষতি, আসলে তা ছিল ওই গরীব পরিবারটির সুরক্ষা।
২. বিচ্ছেদের আড়ালে রহমত 🕊️
পথ চলতে চলতে খিদির (আঃ) একটি ছোট শিশুকে হত্যা করলেন। মূসা (আঃ) এবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। একটি নিষ্পাপ প্রাণ কেন কেড়ে নেওয়া হলো?
গোপন রহস্য: আল্লাহ জানতেন ওই শিশুটি বড় হয়ে চরম পাপিষ্ঠ হবে এবং তার নেককার বাবা-মাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। আল্লাহ চাইলেন এই দুঃখের বদলে ওই দম্পতিকে এমন এক সন্তান দিতে, যে হবে তাঁদের চোখের শীতলতা। আমরা অনেক সময় হারানো প্রিয়জনের জন্য কাঁদি, কিন্তু আল্লাহ হয়তো তাঁর চেয়েও ভয়ঙ্কর কোনো ফেতনা থেকে আমাদের রক্ষা করেন।
৩. অবহেলার আড়ালে গুপ্তধন 🧱
তাঁরা এমন এক গ্রামে গেলেন যেখানে কেউ তাঁদের এক গ্লাস পানিও দিল না। অথচ সেখানে খিদির (আঃ) বিনা পরিশ্রমে একটি জরাজীর্ণ দেয়াল মেরামত করে দিলেন। মূসা (আঃ) অবাক হলেন—যারা খেতে দিল না, তাদের উপকার কেন?
গোপন রহস্য: দেয়ালটির নিচে ছিল দুই এতিম শিশুর গুপ্তধন। তাদের বাবা ছিলেন একজন অতি নেককার মানুষ। আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দার (বাবা) সততার পুরস্কার হিসেবে তাঁর সন্তানদের সম্পদ রক্ষা করলেন। আমাদের পূর্বপুরুষদের ইবাদত ও সততা কীভাবে আমাদের জীবনকে ছায়ার মতো আগলে রাখে, এটি তার বড় প্রমাণ।
জীবনের বড় শিক্ষা: ‘পুরো ছবি’ দেখার ধৈর্য
শায়খ ইয়াসির কাদির যেমনটি বলেছেন, আমাদের জ্ঞান হলো সাগরের এক ফোঁটা পানির মতো। আমরা যখন কোনো বিপদে পড়ি, আমরা কেবল ‘ফুটো হওয়া নৌকা’ বা ‘ভাঙা দেয়াল’ দেখি। আমরা হতাশ হই, অভিযোগ করি। কিন্তু আমরা দেখি না সেই জলদস্যু রাজাকে কিংবা দেয়ালের নিচে লুকিয়ে থাকা সেই অসীম নেয়ামতকে।
গল্পের সারকথা: আপনার জীবনের কোনো একটি দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে এই নয় যে আল্লাহ আপনাকে ভুলে গেছেন। বরং এর মানে হলো, আল্লাহ আপনাকে এমন কোনো পথ থেকে সরিয়ে দিলেন যা আপনার জন্য ধ্বংসাত্মক ছিল, অথবা এমন কোনো পথের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন যা আপনার কল্পনার চেয়েও সুন্দর।
“হয়তো তোমরা যা অপছন্দ করছো, তা-ই তোমাদের জন্য পরম কল্যাণকর।” (সূরা বাকারা: ২১৬)

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!