সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

গায়ে হলুদের রীতির প্রচলন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম | 126 বার পড়া হয়েছে
গায়ে হলুদের রীতির প্রচলন

বাঙালি বিয়েতে গায়ে হলুদের রীতিটি প্রাচীন, যা মূলত বর-কনের ত্বককে উজ্জ্বল করা, সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা এবং শুভ ও মঙ্গলময় সূচনাকে প্রতীকায়িত করে; এটি বৈদিক যুগ থেকেই প্রচলিত এবং পুরাণ অনুসারে পার্বতীকে প্রথম হলুদ মাখানো হয়েছিল, যা থেকে এর প্রচলন হয়, তবে এর আধুনিক রূপটি মুঘল আমল থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। এটি শুধু একটি প্রথা নয়, বরং পরিবার ও বন্ধুদের অংশগ্রহণে আনন্দ ও উল্লাসের একটি উৎসব, যা নবদম্পতির সুখ-শান্তি ও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন কামনা করে পালিত হয় এবং অপশক্তি দূর করতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত

 

ইতিহাস ও তাৎপর্য

প্রাচীন শিকড়: গায়ে হলুদের রীতি বৈদিক যুগ থেকেই ভারতীয় সমাজে প্রচলিত, যা “গাত্রহরিদ্রা” বা “অধিবাস” নামে পরিচিত ছিল।
পৌরাণিক উৎস: পুরাণ অনুযায়ী, বিয়ের আগে শিবরাত্রির আগে পার্বতীকে প্রথম হলুদ মাখানো হয়েছিল, যা এই প্রথার জন্ম দেয়।
বিশুদ্ধতা ও শুভতা: হলুদকে শুভ ও পবিত্র মনে করা হয়, যা বর-কনের নতুন জীবন শুরুর আগে তাদের শরীর ও মনকে শুদ্ধ করে।
সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য: হলুদ ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং সংক্রমণ থেকে বাঁচায়, যা বিয়ের আগে বর-কনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
অপশক্তি দূরীকরণ: এটি অশুভ শক্তি ও নজর থেকে নবদম্পতির দাম্পত্য জীবনকে রক্ষা করার একটি লোকাচার।
সাংস্কৃতিক বিবর্তন: মুঘল আমল থেকে এই রীতির কিছু পরিবর্তন এসেছে, এবং এখন এটি একটি আনন্দময় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে যেখানে সবাই অংশ নেয়।

ছবি: সংগৃহীত

বাঙালি বিয়ের আয়োজন মানেই মেহেন্দি, গায়েহলুদ, হলুদ গোসল, বিয়ে, বৌভাত। এসব রীতিনীতি আজকের নয়, হাজার হাজার বছর ধরে বিয়ের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে। বিভিন্ন অঞ্চল বা দেশ থেকে এসব রীতিনীতি বাংলায় এসেছে ব্রিটিশ, মিশর, পারস্যের মানুষদের হাত ধরে।

বিয়ের আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে গায়েহলুদ। নব্বই দশকে এই আয়োজন যেমন হতো তার থেকে এখন কিছুটা ভিন্ন। আগে বিয়েরদিন সকালেই বর-কনেকে যার যার বাড়িতে বাড়ির মা-চাচি, খালা, বোন, নানি-দাদিরা হলুদ গায়ে মেখে গোসল করাতেন। বিভিন্ন ধরনের গীত গাইতেন, নাচ-গান করতেন।

তবে এখন এই আয়োজন সাধারণত করা হয় সন্ধ্যার পর এবং বিয়ের এক বা দুদিন আগে। এখানে বর-কনেকে একসঙ্গে কিংবা আলাদাভাবে নিজ নিজ বাড়িতে হলুদ ছোঁয়ানো, খাওয়া-দাওয়া, নাচ-গান, ছবি তোলা, আড্ডা এসবের মধ্য দিয়ে আনন্দ করা হয়। এই যে নিয়ম বা আয়োজনের খানিকটা তফাত হলেও এর জনপ্রিয়তা এবং গুরুত্ব কোনোটিই কিন্তু এতটুকু কমেনি।

ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসে দেখা যায়, এই প্রথার মূল উৎস স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য সংক্রান্ত। প্রাচীনকাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সমাজে হলুদ বা হলুদ জাতীয় মসলা বিশেষ করে হালদি বা হলুদের ব্যবহার করা হতো ত্বক পরিষ্কার রাখা, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া রোধ করা, এবং রোদে ও বাতাসে বের হওয়া দূষণ থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য। তাই গায়েহলুদ কেবল আভিজাত্যপূর্ণ অনুষ্ঠান নয়, বরং কনের ত্বকের স্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য প্রাচীন প্রথাগত চিকিৎসা ভাবনার প্রতিফলন।

সামাজিক দিক থেকেও গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এটি কনের ও বর পক্ষের পরিবারের মধ্যে মিলন ও আনন্দ উদযাপনের মাধ্যম। অনুষ্ঠানটি সাধারণত গান, নাচ, হাসি-ঠাট্টা এবং রঙিন সাজ-সজ্জার সঙ্গে পালিত হয়। পল্লী অঞ্চলে দেখা যায়, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন সকলে মিলে কনের হাতে হলুদের প্যাকেট ব্যবহার করে মাখন ও হলুদ মিশিয়ে তার ত্বককে উজ্জ্বল করার কাজ করেন। এই প্রথা কেবল আনন্দই দেয় না, বরং সামাজিক বন্ধন শক্ত করার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের নেপথ্যে একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার প্রতিফলনও রয়েছে। হলুদের হলুদ রংকে সততা, উজ্জ্বলতা এবং শুভতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বিয়ের পূর্বে কনের শরীরে এই রঙের প্রয়োগ একরকম শুভ প্রেরণা ও সৌভাগ্যের আশ্বাস হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানটি কনের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত, যাতে সে নতুন জীবনের শুরুতে আত্মবিশ্বাসী ও আনন্দময় থাকে।

ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, গায়েহলুদ প্রথা মূলত মুসলিম, হিন্দু এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংমিশ্রিত সংস্কৃতির একটি ফলাফল। প্রাচীন হিন্দু বিয়ের প্রথায় হলুদ ব্যবহারের সূত্র ধরা যায়, যেখানে কনের ত্বক ও চেহারাকে শুভ রঙে আচ্ছাদিত করার রীতি ছিল। মুসলিম সমাজেও ধীরে ধীরে এই অনুষ্ঠান গ্রহণ করে, যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রথার সঙ্গে মিলিত হয়ে তা আধুনিক বাঙালি গায়ের অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।

বর্তমান কালে গায়েহলুদ শুধু স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য বা সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমই নয়; এটি বাঙালি বিয়ের একটি আবেগপূর্ণ ও ভিজ্যুয়াল আকর্ষণও। কনের রঙিন সাজ, হলুদ-কমলা পোশাক, ফুলের মালা, গান এবং পারিবারিক মিলন সব মিলিয়ে এটি বাঙালি বিয়ের স্মরণীয় ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে ফটোশুট ও সামাজিক মাধ্যমে গায়েহলুদকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গায়েহলুদ অনুষ্ঠান প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য, সামাজিক বন্ধন এবং শুভতার প্রতীক হিসেবে বাঙালি বিয়ের অভিন্ন অংশ। এটি কেবল কনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও জীবন্ত রাখে। প্রথাটি প্রমাণ করে যে, বাঙালি সমাজে বিয়ের আগের প্রস্তুতি শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, বরং একটি আনন্দময়, সুস্থ ও মিলনমুখর সামাজিক রীতি হিসেবে গড়ে উঠেছে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ

কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পৌরসভার আলমপুর এনএম উচ্চ বিদ্যালয় হতে কবিহার পর্যন্ত এক কিলোমিটার আরসিসি রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। ১ কোটি ২২ লক্ষ ৫৯ হাজার ২২ টাকা ব্যয় বরাদ্দে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জিন্না এন্টার প্রাইজ।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম লিটন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে পক্ষে সাইফুল ইসলাম।
ইউএনও বলেন, “ গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (বেড-এ-২) এর আওতায় এই রাস্তাটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার পৌরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কাজটি ড্রইং, ডিজাইন ও এস্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।” (ছবি আছে)

 

সৈয়দ আব্দুল মান্নান

বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার আয়োজনে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার সহযোগিতায় জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে এ ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর সভাপতিত্বে ওয়ার্কসপে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জের ডিজিএম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক শুভাশীষ পাল, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক বাহুবল শাখার ম্যানেজার হোসাইন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ বাহুবল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ আবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জালনোটের উপর ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।

error: Content is protected !!