গরিব ভ্যানচালক ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়
দিনাজপুরে জমি বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ
দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের দিঘন গ্রামের এক গরিব ভ্যানচালক জমি বিক্রির নামে প্রতারণার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শহির উদ্দীন (পিতা: মোঃ কাফিলদ্দীন) পেশায় একজন ভ্যানচালক। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানান,
প্রথমে ১২ শতক জমি বন্ধক রাখার কথা বলে বিবাদী তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কয়েকদিন পর বিবাদী তার বাবার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জমিটি বিক্রি করার প্রস্তাব দেন এবং তখন জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পরবর্তীতে জমির দলিল সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, যে জমিটি বিক্রির কথা বলা হয়েছে তা আগেই বিবাদীর ছেলের নামে দলিল করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে বিবাদী ও তার পিতা অন্য একটি জমি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো জমি দলিল করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শহির উদ্দীন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বারবার জমির দলিল চাওয়ায় তাকে শুধু সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। বর্তমানে তার কাছে লেনদেনের প্রমাণস্বরূপ বিবাদীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি ব্যাংক চেক ও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প রয়েছে, যা তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
এই ঘটনায় প্রতারিত হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় শহির উদ্দীন গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪নং শেখপুরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ দাখিলের পর প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো লিখিত প্রতিবেদন পাননি বলে জানান, যা তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুক্তভোগী শহির উদ্দীন বলেন,
“আমি একজন গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে যে টাকা উপার্জন করেছি, সেই টাকাগুলো দিয়েই জমি কেনার স্বপ্ন দেখেছিলাম।
আমি কোনো অন্যায় দাবি করছি না—শুধু ন্যায্য বিচার চাই এবং আমার কষ্টার্জিত, হালাল উপার্জনের টাকাগুলো ফেরত পেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের লিখিত প্রতিবেদন পেলে তিনি আইনানুগভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
একজন অসহায় ও দরিদ্র নাগরিক হিসেবে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মত, এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি হলে সাধারণ মানুষের ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।











