রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২
রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

গরিব ভ্যানচালক ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়

দিনাজপুরে জমি বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম | 39 বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরে জমি বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ

দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের দিঘন গ্রামের এক গরিব ভ্যানচালক জমি বিক্রির নামে প্রতারণার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শহির উদ্দীন (পিতা: মোঃ কাফিলদ্দীন) পেশায় একজন ভ্যানচালক। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানান,

প্রথমে ১২ শতক জমি বন্ধক রাখার কথা বলে বিবাদী তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কয়েকদিন পর বিবাদী তার বাবার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জমিটি বিক্রি করার প্রস্তাব দেন এবং তখন জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

পরবর্তীতে জমির দলিল সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, যে জমিটি বিক্রির কথা বলা হয়েছে তা আগেই বিবাদীর ছেলের নামে দলিল করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে বিবাদী ও তার পিতা অন্য একটি জমি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো জমি দলিল করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শহির উদ্দীন।

ভুক্তভোগীর দাবি, বারবার জমির দলিল চাওয়ায় তাকে শুধু সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। বর্তমানে তার কাছে লেনদেনের প্রমাণস্বরূপ বিবাদীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি ব্যাংক চেক ও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প রয়েছে, যা তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

এই ঘটনায় প্রতারিত হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় শহির উদ্দীন গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪নং শেখপুরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দাখিলের পর প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো লিখিত প্রতিবেদন পাননি বলে জানান, যা তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভুক্তভোগী শহির উদ্দীন বলেন,
“আমি একজন গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে যে টাকা উপার্জন করেছি, সেই টাকাগুলো দিয়েই জমি কেনার স্বপ্ন দেখেছিলাম।

আমি কোনো অন্যায় দাবি করছি না—শুধু ন্যায্য বিচার চাই এবং আমার কষ্টার্জিত, হালাল উপার্জনের টাকাগুলো ফেরত পেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের লিখিত প্রতিবেদন পেলে তিনি আইনানুগভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

একজন অসহায় ও দরিদ্র নাগরিক হিসেবে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মত, এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি হলে সাধারণ মানুষের ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

ঐতিহ্যের কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো দক্ষিণ বাংলার সবচেয়ে বড় দীঘি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীরে ‘সুন্দরী কমলা রানীর দীঘি’।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চন্দ্রদ্বীপ রাজার শৌর্যবীর্যের স্মৃতি এই কমলা রানীর দীঘি। কথিত আছে, রাজা জয়দেবের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। কমলা সুন্দরী ও বিদ্যাসুন্দরী নামে দুই মেয়ে ছিল। কমলা ছিলেন বুদ্ধিমতি। পিতার নির্দেশে তিনি রাজ্য পরিচালনা ও অস্ত্র চালনা শেখেন। পরিণত বয়সে রাজা কমলাকে বাবুগঞ্জ থানার দেহেরগতি গ্রামের উষাপতির পুত্র বলভদ্র বসুর সঙ্গে বিয়ে দেন।

বলভদ্র বসু ছিলেন বিদ্যোৎশায়ী ও বিভিন্ন শাসে্ত্র পণ্ডিত এবং যুদ্ধ বিদ্যায় অতুলনীয়। বলভদ্র বসু অবশ্য দেখতে কালো ছিলেন, তাই প্রজারা তাকে কালো রাজা বলতেন। বিয়ের পর কমলা স্বামীসহ কচুয়াতেই বসবাস করতেন। রাজা জয়দেব তার মৃত্যুর সময় কমলাকে পরবর্তী রাজা নিযুক্ত করেছিলেন।১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে কমলা সিংহাসনে আরোহণ করেন।

কমলা রানীর দীঘির পাড়ের উচ্চতা প্রায় ৪০-৫০ ফুট। এতবড় এবং উঁচু পাড় বিশিষ্ট দীঘি তখন এ বঙ্গে ছিল প্রথম। দীঘি খননে তখনকার দিনে মোট ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। কথিত আছে, দীঘি খনন হলেও দীঘিতে পানি উঠছিল না। অথচ দীঘির চার পাশে ছিল পুকুর, ডোবা-নালা, খাল-বিল পানিতে ভর্তি। পানি উঠাতে পূজা দেওয়া হয়, কাঙালি ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তারপরেও পানি ওঠেনি। এ জন্য কমলা রানীসহ সভাসদ ও প্রজাদের চোখে ঘুম ছিল না। একদিন রাতে কমলা রানী পালংকে ঘুমাচ্ছিলেন। তখন কে যেন ফিস ফিস করে তার কানে কানে সাবধান করে দিয়ে যায়- যদি না সে পুকুরের ভিতর খালি পায়ে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হেঁটে না আসেন- তাহলে কিছুতেই এক ফোঁটা পানিও ওঠবে না। তখন কমলা রানী পূজা অর্চনা সেরে খালি পায়ে দীঘিতে হাঁটা শুরু করেন। তিনি দীঘির মাঝে পৌঁছাতেই পানি ওঠা শুরু করে। চোখের নিমিষে কমলার হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। কমলা অবশ্য জিদ ধরে ছিলেন। পানি কোমর পর্যন্ত না ওঠা অবধি তিনি পাড়ে উঠবেন না। এই কাজ করতে গিয়ে পানি এতটাই উঠে যায় যে কমলা আর সেই পানি থেকে তীরে উঠতে পারেননি। তিনি ওই পানিতে ডুবে হারিয়ে যান। সেই কমলা সুন্দরী দীঘির উত্তর পাড় দিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে চলে গেল। ৫২৬ বছর আগের সেই খাল ও দীঘিটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে নানা স্মৃতি বহন করছে।

অপহৃত ট্রাক ও চালক উদ্ধার

নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

মর্তুজা শাহাদত সাধন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৮ পিএম
নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নওগাঁর টানা অভিযানে আন্তঃজেলা কুখ্যাত ডাকাত চক্রের ৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাক, অপহৃত ট্রাকচালক ও হেলপার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরেকটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।

ডাকাতির ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকচালক মারুফ ও তার হেলপার শামীম একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-০১৩৮) করে প্রায় ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান বোঝাই করে নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পরদিন রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে নওগাঁ সদর থানার শেষ সীমানার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের নির্জন সড়কে পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পিছন দিক থেকে আরেকটি ট্রাক দিয়ে ওভারটেক করে সামনে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ডাকাতরা ট্রাকের কাচ ভেঙে চালক ও হেলপারকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ধানসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা, বদলগাছি থানা ও সদর সার্কেলের পুলিশ সদস্যরা মাঠে নামেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পাওয়া তথ্যে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি নওগাঁর একটি টিম সেখানে পৌঁছে আটক ব্যক্তি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০) কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, সে ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরপর আরিফুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর থানায় অভিযান চালিয়ে মো. গোলাপ (২৪), লাভলু (২৮) কে আরও দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় ডাকাত দলের সর্দার মো. সামিউল ইসলাম (৩০) কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে গেলেও তার ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া, সাভার ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোঃ তুহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

রহনপুরে পুনর্ভবা নদীর তীর থেকে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

মোঃ তুহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩২ পিএম
রহনপুরে পুনর্ভবা নদীর তীর থেকে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় পুনর্ভবা নদীর তীর থেকে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রহনপুর বেলিব্রিজ সংলগ্ন পুনর্ভবা নদীর পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি পলিব্যাগে থাকা ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়

উদ্ধারকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন গোমস্তাপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান তারেক, গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিকসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, পুনর্ভবা নদীর তীর থেকে কয়েকটি ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো প্রকৃতপক্ষে ককটেল কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।