রাজধানীর বাজারে মাছের দাম চড়া
দেশজুড়ে তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজার বেশ চড়া থাকলেও সরজি- ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ মিলছে না; অন্যদিকে সবজি ও ডিম দাম কমলেও তা এখনো পুরোপুরি নাগালের মধ্যে আসেনি। তবে দীর্ঘদিন পর সবজির দামে স্বস্তি ফিরে পাওয়ায় খুশি সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মুগদা, মালিবাগ, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দরের এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে সবজির দাম ওঠানামা করলেও মাছের দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই, এর দাম সব সময় বাড়তিই থেকে যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না। বাজারে প্রতি কেজি কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা ও আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম কিছুটা কমে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমেছে।

এছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আকারে বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, ‘শীতে নদীতে মাছ কম ধরা পড়ায় আড়তে দাম বাড়তি, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।’
রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, ‘মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। গত সপ্তাহে যে রুই ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ তা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মুরগি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি আছে।’

মুগদা বাজারের ক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘মাছের দাম কমার লক্ষণ নেই। মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।’
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, টমেটো, পালংশাক, লালশাকসহ প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজি সহজলভ্য। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। কিছু শাকসবজি তো আরও কম দামে মিলছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমাানে ফুলকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শিম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ও মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পালংশাক ও লালশাক প্রতি আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় অনেকটাই কম।
মালিবাগ বাজারের ক্রেতারা বলছেন, সারা বছর ধরে সবজির বাড়তি দাম তাদের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করেছিল। শীত আসার ফলে সেই চাপ কিছুটা হলেও কমেছে। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা গৃহিণী মাজেদা বেগম বলেন, আগে ২০০–৩০০ টাকায় অল্প কয়েকটা সবজি নিতে হতো। এখন একই টাকায় ব্যাগ ভরে সবজি পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের খাবারের মেনুতেও বৈচিত্র্য আসছে।
তবে বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় মিলছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল।

এদিকে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খামারিরা শীতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত মুরগি বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। তারা বলেন, ‘শীতে খামার থেকে দ্রুত মুরগি চলে আসে, চাহিদাও কিছুটা কম থাকে; তাই দাম কিছুটা কম রাখা যায়।’
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো বাধা না এলে শীতকালজুড়ে সবজির এই সহনীয় দাম বজায় থাকতে পারে।
তারা বলছেন, শীতের আগমনে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির ভরপুর সরবরাহ ও তুলনামূলক কম দাম সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। নিত্যপণ্যের বাজারে এই ইতিবাচক ধারা কিছুদিন হলেও স্থায়ী থাকবে— এমনটাই প্রত্যাশা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের।














