ভালোবাসার আলোয় আলোকিত হোক আগামীর বাংলাদেশ
পরিবর্তনই জগতের একমাত্র অমোঘ নিয়ম। আজ যে শিখরে আসীন, কাল তাকেই হয়তো পাদদেশে নামতে হয়। মানবজীবনের এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে লেখক ও ফিচার কলামিস্ট এস এম শিমুল এক প্রজ্ঞাপূর্ণ জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন। তার একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বুদ্ধিজীবী মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে: “পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে, জীবনে কাউকে কষ্ট দিও না; আজ হয়তো তুমি শক্তিশালী কিন্তু সময় তোমার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।
”শক্তির দম্ভ বনাম ভালোবাসার দীপ্তি: আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ক্ষমতা ও পদের মোহে অন্ধ হয়ে অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর নেশা অনেক সময় তাদের মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে লেখক এস এম শিমুল একটি মহৎ শিক্ষা প্রদান করেছেন—শক্তি প্রয়োগ করে কিংবা ক্ষমতার দাম্ভিকতা দেখিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জ্ঞানের দীপ্তি শিখা জ্বালিয়ে দিতে হবে। প্রকৃত নেতা বা জ্ঞানী তিনি নন, যিনি ভীতি প্রদর্শন করে প্রভাব বিস্তার করেন; বরং তিনিই শ্রেষ্ঠ, যিনি মমত্ববোধ দিয়ে অন্যের জীবনকে আলোকিত করেন। পেশিশক্তি বা অর্থের দাপট সাময়িক, কিন্তু ভালোবাসার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া জ্ঞানের আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে টিকে থাকে।
শিক্ষিত প্রজন্মের প্রতি আহ্বান- একটি জাতির মেরুদণ্ড তার শিক্ষিত তরুণ সমাজ। কিন্তু শিক্ষা যদি কেবল সার্টিফিকেটে সীমাবদ্ধ থাকে আর আচরণে নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায়, তবে সেই শিক্ষা মূল্যহীন। আজকের শক্তিশালী অবস্থান আগামীকালের অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা পড়তে পারে। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, প্রবল প্রতাপশালী শাসকরাও সময়ের নিষ্ঠুর পরিহাসে ধূলিসাৎ হয়ে গেছেন। তাই দম্ভ নয়, বরং সহমর্মিতাই হোক আগামীর চালিকাশক্তি। কাউকে কষ্ট দিয়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত সাফল্য কখনো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সম্মান বয়ে আনে না। সময়ের চাকায় যখন ভাগ্য পরিবর্তিত হয়, তখন অতীতের ঔদ্ধত্য মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এস এম শিমুলের এই প্রজ্ঞা আমাদের আত্মোপলব্ধির সুযোগ করে দেয়। সময় মানুষের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী—এই সত্যটি হৃদয়ে ধারণ করলে মানুষ বিনয়ী হতে শেখে। আর এই বিনয় ও ভালোবাসার সংমিশ্রণেই একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক জাতি গঠন সম্ভব। আসুন, আমরা ক্ষমতার দাপট পরিহার করি। জ্ঞানের শিখাকে ভালোবাসার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে এক শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে ব্রতী হই।











