অক্লান্ত পরিশ্রম
শিউলির (ছদ্মনাম) দিন শুরু হতো সূর্য ওঠার অনেক আগেই। লোনা ধরা মাটির দেয়াল আর জরাজীর্ণ টিনের চালের নিচে দারিদ্র্য ছিল তার নিত্যসঙ্গী। স্বামী দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে বিছানায় পড়ার পর সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। দু’মুঠো ভাতের জন্য তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে, শুনতে হয়েছে প্রতিবেশীদের আড়ালে-আবডালে বলা কটুকথা। গ্রামের অনেকেই বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলেছে, “মেয়েমানুষের আবার রোজগার! এ সংসার টিকবে না।”
কিন্তু শিউলি দমে যাওয়ার পাত্রী ছিল না। বিয়ের সময় বাবার দেওয়া পুরোনো সেলাই মেশিনটাই ছিল তার একমাত্র সম্বল। সারাদিন সংসারের হাড়ভাঙা খাটুনি আর অসুস্থ স্বামীর সেবা করে, রাতে যখন গোটা গ্রাম ঘুমে অচেতন, তখন কুপির নিভু নিভু আলোয় চলত শিউলির জীবনযুদ্ধ। চোখের নিচে কালি পড়ল, সুঁইয়ের খোঁচায় আঙ্গুল ক্ষতবিক্ষত হলো, তবু সে থামল না। প্রথমে গ্রামের ছোটখাটো কাজ, পরে তার হাতের নিপুণ নকশার কথা পৌঁছাল পাশের শহরের এক বুটিক হাউসে।
দীর্ঘ দুই বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ শিউলি স্বাবলম্বী। মহাজনের সব ঋণ শোধ করে বাড়ির উঠোনেই সে এখন ছোট একটি টেইলারিং দোকান দিয়েছে, যেখানে গ্রামের আরও দুই অসহায় নারী কাজ করে। যে মানুষগুলো তাকে নিয়ে একসময় হাসাহাসি করত, তারাই আজ তাকে সমীহ করে। শিউলি প্রমাণ করেছে, অদম্য ইচ্ছা আর ধৈর্য থাকলে মাটির ঘর থেকেও আকাশ ছোঁয়া যায়। তার মুখে এখন আর হতাশার ছায়া নেই, আছে হার না মানা বিজয়ের তৃপ্ত হাসি।














