বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

দেশনেত্রীর মৃত্যুতে চলছে রাষ্ট্রীয় শোক

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম | 62 বার পড়া হয়েছে
দেশনেত্রীর মৃত্যুতে চলছে রাষ্ট্রীয় শোক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গত বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হয়েছে।

শুক্রবার পর্যন্ত এই শোক পালন করা হবে। রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার রাষ্ট্রীয়ভাবে এক দিনের ছুটিও পালন করা হয়। তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সারাদেশে। নেতাকর্মীদের কান্না, মানুষের নীরবতা আর ভারী বাতাসে যেন স্তব্ধ হয়ে আছে দেশ। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গণপরিবহন সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটিই নাম, ‘বেগম খালেদা জিয়া’। স্মৃতিচারণ আর বেদনার কণ্ঠে আফসোস শোনা যাচ্ছে সর্বত্র।

 

ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দীর্ঘদিন যার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে ঐক্য ও গণতন্ত্রের কথা, তার বিদায়ে গণতন্ত্রকামী মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করছেন। বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আজ শুক্রবার দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক পালন করছে বিএনপি। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সব কার্যালয়ে সাত দিন কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ সময় দলের সব স্তরের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করছেন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, সরকারি ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা।

জিয়া-খালেদার সমাধিস্থল সবার জন্য উন্মুক্ত 
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকে ওই এলাকায় ভিড় করেন। উদ্যান বন্ধ থাকায় বিজয় স্মরণি মোড়ে উদ্যানের প্রবেশ মুখে ব্যারিকেডে অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। সমাধিস্থলে যেতে না পেরে অনেকে সড়কে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন।

জানা যায়, সংস্কার কাজ চলমান থাকায় বন্ধ রাখা হয় ভেতরে প্রবেশ। এখন তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পুরো উদ্যানের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে অন্য বাহিনীর সদস্যরাও। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আবদুল মালেকের ইমামতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল পৌনে ৫টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা যান।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ পুরোনো জটিলতা আরও বেড়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়, যেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সার্কের শোক প্রকাশ 
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)। সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার এক শোকবার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে বাংলাদেশ একজন আপসহীন গণতন্ত্রকামী নেত্রীকে হারালো। তার জীবন ও নেতৃত্ব দেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।

শোকবার্তায় বলা হয়, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনবার দায়িত্ব পালনকালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উদারীকরণ, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্তার, নারী ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষাখাতে। বিশেষ করে কন্যাশিশু শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়েছিল, তাকে বিশ্বব্যাংক ‘এশিয়ার পরবর্তী টাইগার অর্থনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছিল।

মহাসচিব আরও স্মরণ করেন, ১৯৯৩-৯৫ ও ২০০৫-০৭ মেয়াদে সার্কের চেয়ারপারসন হিসেবে তার প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা সংস্থার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বড় ভূমিকা রেখেছিল। একই সঙ্গে সার্ক প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার, বিএনপি নেতাকর্মী ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকবার্তায় তার রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দিতে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়। সার্ক মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ এ শোক কাটিয়ে গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে তার আদর্শ থেকে প্রেরণা পাবে।

জিয়া উদ্যান এলাকায় কড়া নিরাপত্তা 
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি এলাকায় দাফনের দ্বিতীয় দিনও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজধানীর জিয়া উদ্যানের মূল এলাকায় কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভেতরে পবিত্র কুরআনের খতম পাঠ করছেন বেশ কয়েকজন হাফেজ। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জিয়া উদ্যানের মূল ফটকের সামনে (বেইলি ব্রিজ) এমন দৃশ্য দেখা যায়। সংসদ ভবনের বিপরীতে শহীদ জিয়ার মাজারে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত মাজারে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ছাড়া কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাফেজরা মাজারে প্রবেশ করে কুরআনের খতম পাঠ শুরু করেন। মাজারের মূল ফটকসহ পুরো এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এর আগে সমাধি এলাকার সামনের সড়ক পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

প্যারিসে দোয়া মাহফিল 
আপসহীন রাষ্ট্রনায়ক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ফ্রান্স বিএনপির উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টায় প্যারিস সংলগ্ন কাত্র শেমাঁ অবেরভিলিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটি জাতীয় মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন, ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সিরাজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ তাহের। দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ঐক্যের প্রতীক।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি আমৃত্যু আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন। যতদিন এ দেশের ভূখণ্ডে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই অব্যাহত থাকবে, ততদিন মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক জনগণ তার জীবন থেকে সাহস ও প্রেরণা খুঁজে নেবে। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ দূতাবাস ফ্রান্সের মিশন উপপ্রধান এহসানুল হক, বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান ওয়ালিদ বিন কাশেম, দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কেএফএম শারহাদ শাকিল, ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম রাঙ্গা ও শাহ জামাল, সহ-সভাপতি রশিদ পাটোয়ারী, তসলিম আহমেদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন পাটোয়ারী, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ও জুনেদ আহম্মেদ, সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শিপার, যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এসএম মিল্টন সরকার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স যুবদলের সভাপতি আহমেদ মালেক, সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল কুদ্দুস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম সায়েম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এম আলী চৌধুরী, জাসাসের সদস্য সচিব মেহেদি হাসান রনিসহ ফ্রান্স বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং দলমত নির্বিশেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। মাহফিলে ফ্রান্স বিএনপির পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূস ও তার উপদেষ্টা পরিষদ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে খালেদা জিয়ার প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন, ফ্রান্স যুবদলের সভাপতি আহমেদ মালেক।

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি হয়েছে।

‎সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকার তিনতলা বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

‎মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়া হয়। বাহিনী প্রধানের বাড়িতে চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ। চোর শনাক্ত করতে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বাগেরহাট শহরের একজন ভাঙ্গারি দোকানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাই তার কোনও ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করা হতে পারে।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বাগেরহাটে ঝোড়ো বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোর চক্র বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ক্যামেরার নজর এড়িয়ে দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে মিটার পর্যন্ত প্রায় দুই কয়েল তামার তার কেটে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া এই তারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

‎বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। কারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত, তা উদঘাটনের জন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

মানিকগঞ্জের শিবালয় আরিচা ঘাটে যমুনা নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই স্নানে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ভারতের কলকাতা থেকেও অনেকে স্নানে অংশ নিতে আসেন।

এদিকে বারুণী স্নানকে ঘিরে আরিচা ঘাট-সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে বসেছে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা। সাধারণত এই মেলা তিন দিন স্থায়ী হলেও অনুকূল আবহাওয়া ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় তা সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত গড়ায়। এ বছর ঈদকে সামনে রেখে মেলার সময় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলায় নদীর তীরবর্তী চরে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট। হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জাসামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্য, বেতের জিনিস, মাটির পাত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খই, বাতাসা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারের সমাহার রয়েছে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন রাইডসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন। এ ছাড়া বেলুন, খেলনা ও নানা আকর্ষণীয় সামগ্রীর দোকান শিশুদের কাছে বাড়তি আনন্দ যোগ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে এই মেলা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

জানতে চাইলে তেওতা জমিদারবাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মহাবারুণী স্নান। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে যমুনার জলে অবগাহন করলে মানুষের পাপমোচন হয়। গঙ্গা যেমন সবার পাপ বহন করতে সক্ষম, তেমনি গঙ্গার রূপিণী বারুণী মহাদেবীর কৃপায় ভক্তদের পাপ থেকে মুক্তিলাভের বিশ্বাস রয়েছে। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও মিলনের এক অনন্য বন্ধনে মানুষকে আবদ্ধ করে। স্নান শেষে ভক্তদের পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি হয়, যা বারুণী স্নানের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য বহন করে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানান, বারুণী স্নানে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার জানান, বারুণী স্নানকে ঘিরে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্নানার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।

সাধারণত সংকটকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকে সোনা কিংবা মার্কিন ডলার। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রথাগত এই সম্পদগুলোকে পেছনে ফেলে অন্য একটি সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে এর দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। সেটি হলো বিটকয়েন।

ইনভেস্টোপিডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিটকয়েনের (BTC USD) দাম ৭২ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। তেল ও শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামার মধ্যেই বিটকয়েনের এ উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিটকয়েনের এই উত্থান একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কারণ, এতদিন বিটকয়েনে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ধরা হতো এবং এর আগে কোনো সংকটে এটি ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে পারফর্ম করেনি।

এ বিষয়ে ‘আইএনআরগ্রিড স্টেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরী বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি সোনা ও মার্কিন ডলার—দুটোকেই ছাড়িয়ে গেছে, যা সংকটকালে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রচলিত নিরাপদ সম্পদের মতো বিটকয়েন শুধু ধরে রাখার বিষয় নয়; এটি ব্যাংক বা সরকারি অবকাঠামো ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায়। যখন পুঁজি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন এই গতিশীলতাই এর বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।’

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ না কমায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিটকয়েন সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ বা ঝুঁকি মোকাবিলার হাতিয়ার হতে পারে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা বলছে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

ইনভেস্টোপিডিয়া ও ফারসাইড ইনভেস্টরসের তথ্যমতে, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে আইশেয়ার্স বিটকয়েন ট্রাস্ট এবং ফিডেলিটি ওয়াইজ অরিজিন বিটকয়েন ফান্ডের মতো বিটকয়েন সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোতে ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জমা হয়েছে।

অনুজ চৌধুরী আরও যোগ করেন, ‘বিটকয়েনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (সেলফ-কাস্টডি) আর্থিক নিরাপত্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। সোনা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে, মুদ্রা জব্দ করা যেতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা বিটকয়েন মালিকের কাছেই থেকে যায়, তার অবস্থান বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। এই সার্বভৌমত্ব, সীমান্তহীন স্থানান্তরযোগ্যতা এবং স্থিতিস্থাপকতাই বিটকয়েনকে বর্তমানের খণ্ডিত বিশ্বে একটি নতুন যুগের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।’

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কিংবা কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় সংকটের সময়ও বিটকয়েনের লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিক বাজারে বিটকয়েনকে একটি নমনীয় অবস্থানে দেখছেন। এর ভূমিকা মূলত বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বিটকয়েনকে এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিটকয়েন কেনে না, তাই রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে এর ভূমিকা সীমিত। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছরে তাদের সোনার মজুত বাড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতের সময় সোনার দাম অন্য সব সম্পদকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় সোনার দামে তেমন বড় উত্থান দেখা যায়নি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৩২৭.৪২ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলারের মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা কমে যায়। এ ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়। আর সুদের হার বেশি থাকার পূর্বাভাস থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

error: Content is protected !!