তাড়াশে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৮ পুকুরে জরিমানা ৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় উর্বর কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আটটি পুকুরের ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোট ৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
রোববার সারাদিন ও সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিচালিত এ অভিযানে পুকুর খননে ব্যবহৃত ভেক্যু (এক্সাভেটর) মেশিনের ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে নাজনীন নিশাত ও এহসান আহমেদ খাঁন।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী পুকুরের ঠিকাদারদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের আদেশ থাকলেও ভবিষ্যতে পুকুর খনন না করার অঙ্গীকারে মুচলেকা দিয়ে তারা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
জরিমানাপ্রাপ্ত ঠিকাদাররা হলেন— গোলাম মোস্তফা (১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা), মো. মামুন (৭০ হাজার টাকা), মো. নাঈম হোসেন (৯০ হাজার টাকা), মো. রুহুল আমিন (৯০ হাজার টাকা), মো. মিসকান (১ লাখ টাকা), রুহুল আমিন (১ লাখ টাকা) ও মো. শাহ আলম সরকার (২ লাখ টাকা)।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পরিকল্পনাহীন ও অবৈধ পুকুর খননের ফলে কৃষিজমি নষ্ট ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে—এমন অভিযোগে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে নাগরিক সমাজ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন,
“কৃষিজমি ধ্বংস করে কোনোভাবেই অবৈধ পুকুর খনন করতে দেওয়া হবে না। এতে ফসলহানি বাড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ। কোথাও অবৈধ পুকুর খননের খবর পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











