বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় নেতাদের দৃঢ় অবস্থান

বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:২৭ পিএম | 193 বার পড়া হয়েছে
বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থীরা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই আসনে আলোচনায় রয়েছেন চারজন অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় নেতা — আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ ফজলে রাব্বি তোহা, আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন মিজান এবং অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম। প্রত্যেকে ত্যাগ, নেতৃত্ব ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্য সুপরিচিত।

আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ ফজলে রাব্বি তোহা এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ছাত্রদল খুদে কর্মী হিসেবে পথচলা শুরু করেন। ৩৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বগুড়া-৪ আসনে তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি বর্তমানে সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদল, কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়াও তিনি ছিলেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদল, কেন্দ্রীয় কমিটি, সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বগুড়া জেলা শাখা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদল, বগুড়া জেলা শাখা, সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখা, সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখা, বগুড়া, সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদল, কেন্দ্রীয় কমিটি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদল, বগুড়া জেলা শাখা, এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখা, বগুড়া।

ফজলে রাব্বি তোহা ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন। অন্যান্য বঞ্চিত প্রার্থীরা তখন মাঠ ছেড়ে চলে যান, কিন্তু তিনি একমাত্র বঞ্চিত ব্যক্তি যিনি মনোনীতদের সাথে থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই সাহসিকতা ও দলপ্রতি অঙ্গীকারের কারণে তিনি জনগণের কাছে একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ঝুঁকি ও বিপদের অভাব নেই। ১/১১-এর সময় তিনি তৃণমূলের সঙ্গে ছিলেন এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সাহসী নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। তিনি অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছেন, বিশটিরও বেশি মামলা মোকাবিলা করেছেন, পাঁচ-ছয়বার কারাবরণ করেছেন এবং প্রায় উনিশ মাস কারাগারে কাটিয়েছেন। বাড়ির মালামাল ক্রোক হয়েছে, জীবনের হুমকি ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। এসব নির্যাতন তাঁকে কখনো দমিয়ে রাখতে পারেনি, বরং তার রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে।

আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য। বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাহালু-নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের দুঃসময় কিংবা বিপদের মুহূর্তে তিনি সবসময় কর্মীদের পাশে ছিলেন। কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা তাঁকে তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোশারফ হোসেন পুনরায় মনোনয়ন পেলে বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান নিশ্চিত হবে।

মোয়াজ্জেম হোসেন মিজান একজন সংগ্রামী ও ত্যাগী নেতা। ২০০৬ সালে আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে তাঁর মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। ২০০৭ সালের ১/১১ সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি ছাত্রদলের নেতা হিসেবে রাজপথে নেতৃত্ব দেন। তখন আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী তাঁকে লক্ষ্য করে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়, এতে তাঁর একটি পা ভেঙে যায়। ২০১৩ সালের শেখ হাসিনা সরকার হটাও আন্দোলনের সময় বগুড়া সদর থানার সামনে পুলিশের গুলিতে তাঁর এক চোখে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে তিনি আবারও রাজপথে ফিরে আসেন। তার নির্ভীক নেতৃত্ব, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মীদের পাশে থাকার মানসিকতা তাঁকে তৃণমূল বিএনপির কাছে সংগ্রামের প্রতীক করে তুলেছে।

অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি কাহালু উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, সাবেক সদস্য সচিব, এবং সাবেক আহ্বায়ক, কাহালু উপজেলা যুবদল। এছাড়াও তিনি কৈচড় টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, বগুড়া সদর-এর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কারিগরি) পুরস্কার অর্জন করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব এবং রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে স্থানীয় জনগণের কাছে প্রিয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ফজলে রাব্বি তোহা, মোশারফ হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন মিজান এবং অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম—এই চারজন নেতাই তাঁদের নিজ নিজ ত্যাগ, নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা দিয়ে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের রাজনীতিকে গতিশীল করেছেন। তারা প্রত্যেকে জনগণের কল্যাণ, দলের শক্তিশালী অবস্থান এবং দেশের গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, এই চারজনই বগুড়া-৪ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাহস, দৃঢ়তা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক।

মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, আরব আমিরাত

শারজাহ্ এয়ারপোর্ট আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা

মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, আরব আমিরাত প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
শারজাহ্ এয়ারপোর্ট আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, শারজাহ্ আজ থেকে শারজাহ্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সীমিত আকারে ফ্লাইট পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

শারজাহ্ মিডিয়া ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপটি একটি নির্ধারিত কর্মসূচীর অধীনে এবং বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।

যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে তাদের বিমান সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগ করে প্রস্থানের সময় নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর প্রশাসন যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসাবে বজায় রেখে, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে, মসৃণ কার্যক্রম এবং দক্ষ পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে।

কবি ও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর

শরিফ ওসমান হাদি : এক অদম্য উচ্চারণ

কবি ও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম
শরিফ ওসমান হাদি : এক অদম্য উচ্চারণ

নলছিটির ভোরের আলোয় যে শিশুর প্রথম কান্না,
কে জানত সেই কণ্ঠ একদিন হয়ে উঠবে জনতার ডাক।
ঝালকাঠির নদী-হাওয়ায় বড় হওয়া সেই তরুণ
বুকের ভেতর লালন করত এক অদম্য স্বপ্নের আগুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে
তিনি শুধু পাঠ নেননি—
রাষ্ট্র, ন্যায় আর মানুষের অধিকারের মানে
নিজের ভেতর গেঁথে নিয়েছিলেন শপথের মতো।
শ্রেণিকক্ষে ছিলেন শান্ত, যুক্তির দীপ্তিতে উজ্জ্বল,
কিন্তু রাজপথে ছিলেন বজ্রকণ্ঠ—
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করার
এক দৃপ্ত প্রতিজ্ঞা।
জুলাইয়ের উত্তাল দুপুরে
যখন শহর জেগে উঠেছিল প্রতিবাদের ঢেউয়ে,
তিনি দাঁড়িয়েছিলেন সামনের সারিতে—
চোখে আগুন, কণ্ঠে অদম্য সাহস।
তিনি বলেছিলেন,
মানুষের অধিকার কোনো দয়া নয়,
এটা জন্মগত—
এটা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
ইনকিলাবের পতাকা উড়িয়ে
তরুণদের ডেকেছিলেন জাগরণের পথে,
বৈষম্যের দেয়ালে লিখেছিলেন প্রশ্ন—
“কেন নয় সমতা, কেন নয় ন্যায়?”
তারপর একদিন—
পল্টনের ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ গুলির শব্দ।
রক্তে ভিজে গেল স্বপ্নের শার্ট,
নীরব হয়ে গেল এক জাগ্রত কণ্ঠ।
দূরদেশের হাসপাতালের শীতল কক্ষে
১৮ ডিসেম্বর থেমে গেল হৃদস্পন্দন,
কিন্তু থামেনি উচ্চারণ—
শহরের বাতাসে আজও তা প্রতিধ্বনি তোলে।
শাহবাগের পথে, মিছিলের ভিড়ে,
বিচারের দাবিতে কাঁপা স্লোগানে
তিনি ফিরে আসেন বারবার—
রক্তমাখা জুলাইয়ের প্রতিটি স্মৃতিতে।
মৃত্যু তাঁকে নিভিয়ে দিতে পারেনি,
বরং ছড়িয়ে দিয়েছে অগণিত হৃদয়ে।
তিনি এখন এক প্রজন্মের সাহস,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নাম।
শরিফ ওসমান হাদি—
তুমি কেবল একজন মানুষ নও,
তুমি এক সময়ের জ্বালা,
একটি জাতির বিবেকের রক্তাক্ত উচ্চারণ।

জেমস আব্দুর রহিম রানা কবি ও সাংবাদিক, মণিরামপুর, যশোর

ভবদহের কথকতা

জেমস আব্দুর রহিম রানা কবি ও সাংবাদিক, মণিরামপুর, যশোর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
ভবদহের কথকতা

রাস্তা দিয়ে নৌকা চলে
নদীতে নাই জল,
খেলার মাঠে মাছ ধরে সব
ভাসে শেওলা দল।
বলতে পার গল্প এসব
কেমন করে হয় ?
নদীর বুকে গরু চরে
পথে নৌকা বায় !
হ্যা-রে ভাই ! সত্যি এসব
দেখতে যদি চাও-
বাংলাদেশে যশোর জেলার
ছিয়ানব্বই যাও।
দেখবে সেথায় মানুষগুলো
আধেক মরে গেছে
সব হারিয়ে শুন্যপ্রাণে
কেবল বেঁচে আছে।
স্রোতের ভাঙন, বন্যা প্লাবন
সেসব কিছু নয়
বৃষ্টির জল জমে জমে
ঘটছে বিপর্যয়।
পলিমাটির উজান স্রোতে
ভবদহের বুক
ভরাট হয়ে নিলো কেড়ে
ছিয়ানব্ব‌ই এর সুখ।
নদীতে তাই সবুজ ডাঙা
গরু বাছুর চরে,
বর্ষা এলে কোমর জল হয়
চলার পথের পরে।
জল সরেনা সাতাশ বিলের
মাঠের ফসল নাই
গাছ গাছালি উজাড় হলো
দেনার দায়ে তাই।
গবাদিসব পশুগুলো
হাড় চামড়া সার
জলের দামে বেচতে হলো
রাখবে কোথায় আর ?
দুমুঠো ভাত, গরুর খাবার
পানের শুদ্ধ জল
অভাব সবি, নাইকো জাগি
একটি টিউবয়েল।
বুকটা সমান ডুবে আছে
কোথাও পানির নীচে,
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে হয়
তুলসী পিড়ি সেঁচে।
শিশুর মুখে বাড়তি খাবার
একটু গরুর দুধ
কে জোগাবে, কোথায় পাবে?
নেই সে সুযোগটুক।
কেউ বেচে খায় শাপলা শালুক
কেউবা শামুক খোটে-
বস্তা টেনে কেউ খেটে খায়
নওয়াপাড়ার ঘাটে।
মাছ ধরা এক কমোন পেশা
বউ বেটাতে মিলে
সারাটা রাত বশা ফেলে
কাটাতে হয় বিলে।
পুষ্টিহীনা মায়ের কোলে
রুগ্ন ছেলে কাঁদে
পেটে যে তার রয়ে গেছে
আজন্মের খিদে।
মেটেনা তার পেটের ক্ষুধা
শুকনো বক্ষ চুষে,
ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে
মায়ের বক্ষদেশে।
চালের গুড়ো গুলে তাহার
হতভাগ্য মা
বুকের দুধের অভাব মিটায়,
তৃষ্ণা মিটেনা।
পাখীর কুজন যায়না শোনা
বাড়ির আঙিনায়
এ যেন কোন বিরান ভূমি
শ্যামল শোভা নাই।
স্বাস্থ্যহীন ঐ কুকুরগুলো
দল বাধিয়া চলে
ক্ষুধার লাগি মাছ ধরে খায়
ঝাপ মারিয়া জলে।
বাশের সাঁকো প্রতিবাড়ি
খাটের পায়া জলে
মাচা বেধে কেউবা থাকে
পলিথিনের তলে।
তালের ডোঙা আছে বাধা
ঘরের খুটির সাথে
যোগাযোগের একটা বাহন
দিবস, মধ্য রাতে।
শিশুর মাজায় আঁচল বেধে
ঘুমায় রাতে মা,
চমকে উঠে থেকে থেকে
ঘুমতো আসে না।
এই বুঝি তার কোলের ছেলে
পড়লো না কি জলে
থেকে থেকে চমকে উঠে
মাছে পাখাল দিলে।
বৃদ্ধ, শিশু এক বিছানায়
কাটায় রাত্রিদিন
জন্ম -মৃত্যু খাটের পরে
দুঃখ সীমাহীন।
প্রসব ব্যথায় কাতর মাতা
সেইসে খাটের পরে,
বৃদ্ধ শ্বশুর শুয়ে আছে
যাহার একটি ধারে।
রান্না বান্না এক খাটেতে
পূঁজা-ভেলার পর,
শ্রাদ্ধ -বিয়ে স্কুল ছাদে
উপায় কি বা আর।
খেজুরভাঙা হয়না হেথায়,
রথযাত্রার মেলা
পোষ পাবনে পিঠা-পুলি
সখের যাত্রাপালা।
বিদ্যাদেবীর মন উচাটন
লক্ষ্মী তাহার সাথে,
বাস্তদেবীর চোখ ভরা জল-
উঠতে হবে পথে।
সাপের কামড়, পোকা মাকড়
করোনার নেই ভয়,
মরণ দিয়ে মরনভীতি
করছে এরা জয়।
শুন্য গোয়াল, দেবমন্দির
দেবতা সেই সাথে-
নিত্যপূঁজার কাঁসর ঘন্টা
নিথর হয়ে গেছে।
শ্মশান ঘাটে উঠেছে জল
বিদ্যালয়ের দ্বার
আধেক বছর বন্ধ থাকে
দেখবে কেবা আর?
পদ্মা নদীর উপর দিয়ে
রেলগাড়ি যায় চলে,
আমরা কি সব ভাসবো জলে
ছিয়ানব্বই বলে ?
এই পরিবেশ আর ক’বছর
থাকলে বহমান,
কালের খাতায় রইবে শুধু
ছিয়ানব্ব‌ই এর নাম।
স্তব্ধ হবে এই জনপদ
উজাড় হবে গাঁ
পেটের দায়ে ছাড়তে হবে
জন্মভূমির মায়া।
এরই মধ্যে কয়েক হাজার
গিয়েছে দেশ ছেড়ে
বাকীরা সেই পথ ধরেছে
যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
কতরাজা এলো গেলো
প্রতিশ্রুতি সার-
ভবদহ তেমনি আছে
হয়নি সংস্কার।
…. ….

(ছিয়ানব্বই, এক বর্ধিষ্ণু জনপদের নাম।বাংলাদেশের যশোর- খুলনা জেলার সীমান্তবর্তী পাশাপাশি ৯৬ টি হিন্দু অধ‍্যুষিত গ্রাম মিলে এই জনপদের ধারণা প্রতিষ্ঠিত । শিক্ষা সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য দেশ বিদেশের অনেকের কাছেও ছিয়ানব্বই নামটি খুবই পরিচিত। বিগত১৯৮৮ সাল থেকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় এই বিস্তৃত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করে যাচ্ছে। )

লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা
সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।

error: Content is protected !!