ক্ষমতার দৌড় মৃত্যু পর্যন্ত, পরিবারের মায়া কবর পর্যন্ত, নেক আমল আর সৎ ইনকামের উপহার জান্নাত পর্যন্ত
মানুষের জীবনের প্রকৃত বাস্তবতাকে তিনটি সরল পঙক্তি খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে দেয়— ক্ষমতার দৌড় মৃত্যু পর্যন্ত ,পরিবারের মায়া কবর পর্যন্ত,নেক আমল আর সৎ ইনকামের উপহার জান্নাত পর্যন্ত
মানুষ জন্ম থেকেই স্বপ্ন দেখে বড় হওয়ার, প্রভাবশালী হওয়ার, ক্ষমতার আসনে বসার। রাজনীতি, ব্যবসা কিংবা সামাজিক মর্যাদা—সব জায়গাতেই প্রতিযোগিতা অবিরাম। কিন্তু এক সময় এসে সব শেষ হয়ে যায় মৃত্যুর সীমানায়। ক্ষমতা, পদ-পদবি, প্রভাব—সবকিছুই মৃত্যুর পর শূন্য হয়ে যায়। কবরের অন্ধকার গহ্বরে কোনো পদমর্যাদা থাকে না। তখন সবাই সমান, সবাই অসহায়। তাই ক্ষমতার দৌড় যত দীর্ঘ হোক, শেষ গন্তব্য মৃত্যু।
পিতা-মাতা, সন্তান, স্ত্রী, ভাই-বোন—পরিবার আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। তাদের ভালোবাসা, মায়া, যত্ন আমাদের বেঁচে থাকার শক্তি দেয়। কিন্তু মৃত্যুর পর সেই মায়া কেবল কবরের মাটির মুখ পর্যন্তই টিকে থাকে। দাফন শেষ হলে প্রিয়জনেরাও ধীরে ধীরে ফিরে যায় আপন আপন জীবনে। প্রিয় পরিবারের মানুষগুলো চাইলেও আমাদের সঙ্গে কবরের অন্ধকারে নামতে পারে না। তখন একাকীত্বই হয় একমাত্র সঙ্গী।
মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, সমাজের প্রতি দায়িত্ব, দোয়া, সৎ কাজ এবং হালাল উপার্জনই একমাত্র সম্পদ যা মৃত্যুর পরও আমাদের সঙ্গে থাকে। এ সম্পদই আখিরাতে জান্নাতের দরজা খুলে দিতে পারে। কবর অন্ধকার হলেও নেক আমলের আলো সেটি আলোকিত করে। পৃথিবীতে ক্ষমতা বা পরিবারের ভালোবাসা যতটুকুই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত জান্নাতের পথ খুলবে শুধু সৎ আমল আর হালাল উপার্জনের কারণে।
জীবনের এ তিনটি সত্যকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারলেই মানুষের পথচলা হবে সহজ ও শান্তির। ক্ষমতার লোভ থেকে মুক্ত হয়ে, পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে, আর হালাল রোজগার ও নেক আমলের চর্চা করেই মানুষ সত্যিকারের সফলতা পেতে পারে।














