বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

দিপু ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ ১ (রূপগঞ্জ)আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ক্লিন ইমেজের প্রার্থী /হেলাল উদ্দিন সরকার 

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫, ৬:০৭ এএম | 429 বার পড়া হয়েছে
দিপু ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ ১ (রূপগঞ্জ)আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ক্লিন ইমেজের প্রার্থী /হেলাল উদ্দিন সরকার 

দাউদ পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও দাউদ পুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট হেলাল উদ্দিন সরকার বলেন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ১( রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ক্লিন ইমেজের প্রার্থী বাংলাদেশ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষের কাছেও তিনি একজন স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সু-পরিচিত।

দলীয় সূত্রে জানা যায়,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্লিন ইমেজধারী প্রার্থীদের প্রাধান্য দেবে বিএনপি। অপকর্মে জড়িত বা বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেবে না দলটি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এটা নিয়ে আসনভিত্তিক কাজ শুরু করেছেন। অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজধারীদের দিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার খসড়া তৈরি করা হবে।

তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ‘ গ্রিন সিগন্যাল না দিলেও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই।আছেন গণসংযোগের মধ্যে। দলের নির্দেশনা মেনে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনে ক্লিন ইমেজ প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত আদর্শে বিশ্বাসী রাজ পথ থেকে বেডে ওঠা মেধাবী নেতৃত্ব,বিগত ১৭ বছর বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী, সরাসরি সহযোগিতার মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া রাজপথের লড়াকু সৈনিক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।

রূপগঞ্জ ১ আসনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এবং পাড়া-মহল্লায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে ও তারেক রহমানের ৩১ দফা নিয়ে গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভাসহ বিভিন্ন কৌশলে আগাম প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন দিপু ভূইয়া। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন সার্বক্ষণিক।দিপু দলের সকল কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কর্মসূচী পালনে অংশ গ্রহণ করেন।তার সুযোগ্য নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের কঠোর শাসনামলেও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে সু-সংগঠিত ও শক্তিশালী করে রেখেছিলেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নিবেদিত এক নেতা জানান ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে সারাদেশের ন্যায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা নির্যাতন ও নিপীড়নমূলক মামলা হয়েছে। এসময় নেতা-কর্মীদের মামলার সকল প্রকার তদারকি সহ নেতাকর্মীরা জেল হাজতে থাকাকালীন সময়ে তাদের পরিবারের সার্বিক দেখভাল করেছেন দিপু ভূইয়া। আমরা এমন নেতাই চাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে। তাকে যদি দল দলীয় মনোনয়ন দেয় তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।

বিএনপির একাধিক নেতাকর্মিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ক্লিন ইমেজের স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ দিপু ভূইয়া কেই দেখতে চান দলের নেতাকর্মিরা। তিনি তার কার্যক্রম দিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় ও একজন নির্ভরযোগ্য প্রার্থী হিসেবে আস্থা অর্জন করেছেন। এছাড়াও নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মকাণ্ড, অসহায় দুঃস্থদের সহযোগিতা, জেলা ও উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। তাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলে এ আসনে কেউ তার বিজয় ঠেকাতে পারবে না।

স্হানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বলেন,নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনে বিএনপি দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সকল সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি। যার কোন দুর্নীতি , চাঁদাবাজি , টেন্ডারবাজি ,ভূমি দখল, অবৈধ পুকুর খননের কোন প্রকারের অভিযোগ নেই। এমনকি তার নাম ভাঙ্গিয়ে কোন অন্যায় কাজ কেউ করেনি, তিনি একজন স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। বিএনপির আস্থা ও ভরসার প্রতীক তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ১ আসনে যদি দল (বিএনপি) আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে তাহলে সকলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে এই আসনে বিএনপির বিজয় সু-নিশ্চিত করব এবং দেশ গড়তে তারুণ্যের অহংকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ্।

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি হয়েছে।

‎সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকার তিনতলা বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

‎মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়া হয়। বাহিনী প্রধানের বাড়িতে চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ। চোর শনাক্ত করতে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বাগেরহাট শহরের একজন ভাঙ্গারি দোকানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাই তার কোনও ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করা হতে পারে।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বাগেরহাটে ঝোড়ো বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোর চক্র বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ক্যামেরার নজর এড়িয়ে দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে মিটার পর্যন্ত প্রায় দুই কয়েল তামার তার কেটে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া এই তারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

‎বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। কারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত, তা উদঘাটনের জন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

মানিকগঞ্জের শিবালয় আরিচা ঘাটে যমুনা নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই স্নানে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ভারতের কলকাতা থেকেও অনেকে স্নানে অংশ নিতে আসেন।

এদিকে বারুণী স্নানকে ঘিরে আরিচা ঘাট-সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে বসেছে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা। সাধারণত এই মেলা তিন দিন স্থায়ী হলেও অনুকূল আবহাওয়া ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় তা সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত গড়ায়। এ বছর ঈদকে সামনে রেখে মেলার সময় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলায় নদীর তীরবর্তী চরে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট। হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জাসামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্য, বেতের জিনিস, মাটির পাত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খই, বাতাসা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারের সমাহার রয়েছে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন রাইডসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন। এ ছাড়া বেলুন, খেলনা ও নানা আকর্ষণীয় সামগ্রীর দোকান শিশুদের কাছে বাড়তি আনন্দ যোগ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে এই মেলা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

জানতে চাইলে তেওতা জমিদারবাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মহাবারুণী স্নান। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে যমুনার জলে অবগাহন করলে মানুষের পাপমোচন হয়। গঙ্গা যেমন সবার পাপ বহন করতে সক্ষম, তেমনি গঙ্গার রূপিণী বারুণী মহাদেবীর কৃপায় ভক্তদের পাপ থেকে মুক্তিলাভের বিশ্বাস রয়েছে। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও মিলনের এক অনন্য বন্ধনে মানুষকে আবদ্ধ করে। স্নান শেষে ভক্তদের পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি হয়, যা বারুণী স্নানের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য বহন করে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানান, বারুণী স্নানে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার জানান, বারুণী স্নানকে ঘিরে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্নানার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।

সাধারণত সংকটকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকে সোনা কিংবা মার্কিন ডলার। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রথাগত এই সম্পদগুলোকে পেছনে ফেলে অন্য একটি সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে এর দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। সেটি হলো বিটকয়েন।

ইনভেস্টোপিডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিটকয়েনের (BTC USD) দাম ৭২ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। তেল ও শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামার মধ্যেই বিটকয়েনের এ উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিটকয়েনের এই উত্থান একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কারণ, এতদিন বিটকয়েনে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ধরা হতো এবং এর আগে কোনো সংকটে এটি ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে পারফর্ম করেনি।

এ বিষয়ে ‘আইএনআরগ্রিড স্টেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরী বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি সোনা ও মার্কিন ডলার—দুটোকেই ছাড়িয়ে গেছে, যা সংকটকালে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রচলিত নিরাপদ সম্পদের মতো বিটকয়েন শুধু ধরে রাখার বিষয় নয়; এটি ব্যাংক বা সরকারি অবকাঠামো ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায়। যখন পুঁজি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন এই গতিশীলতাই এর বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।’

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ না কমায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিটকয়েন সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ বা ঝুঁকি মোকাবিলার হাতিয়ার হতে পারে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা বলছে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

ইনভেস্টোপিডিয়া ও ফারসাইড ইনভেস্টরসের তথ্যমতে, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে আইশেয়ার্স বিটকয়েন ট্রাস্ট এবং ফিডেলিটি ওয়াইজ অরিজিন বিটকয়েন ফান্ডের মতো বিটকয়েন সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোতে ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জমা হয়েছে।

অনুজ চৌধুরী আরও যোগ করেন, ‘বিটকয়েনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (সেলফ-কাস্টডি) আর্থিক নিরাপত্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। সোনা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে, মুদ্রা জব্দ করা যেতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা বিটকয়েন মালিকের কাছেই থেকে যায়, তার অবস্থান বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। এই সার্বভৌমত্ব, সীমান্তহীন স্থানান্তরযোগ্যতা এবং স্থিতিস্থাপকতাই বিটকয়েনকে বর্তমানের খণ্ডিত বিশ্বে একটি নতুন যুগের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।’

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কিংবা কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় সংকটের সময়ও বিটকয়েনের লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিক বাজারে বিটকয়েনকে একটি নমনীয় অবস্থানে দেখছেন। এর ভূমিকা মূলত বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বিটকয়েনকে এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিটকয়েন কেনে না, তাই রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে এর ভূমিকা সীমিত। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছরে তাদের সোনার মজুত বাড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতের সময় সোনার দাম অন্য সব সম্পদকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় সোনার দামে তেমন বড় উত্থান দেখা যায়নি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৩২৭.৪২ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলারের মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা কমে যায়। এ ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়। আর সুদের হার বেশি থাকার পূর্বাভাস থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

error: Content is protected !!