বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রবাসীর পাঠানো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫, ১১:৩৫ এএম | 132 বার পড়া হয়েছে
প্রবাসীর পাঠানো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে

পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় এবং বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাব চাওয়ায় প্রবাসী স্বামী আব্দুল জব্বারের নামে যৌতুক মামলার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী হিমায়ারা খাতুন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী জব্বার সৌদি আরবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পাঁচদিঘল গ্রামে। তাঁর স্ত্রী হিমায়ারা খাতুন পাবনার চাটমোহর উপজেলার মল্লিকপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের হেলালুর রহমানের মেয়ে।
ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার ও তার পরিবারের দেয়া তথ্য মতে জানা গেছে, তিন বছর সৌদি আরব থাকার পর দেশে ফিরে ২০২২ সালের ১ মে হিমায়ারা খাতুনকে বিয়ে করেন জব্বার। বিয়ের দেড় মাস পরই পুনরায় সৌদি আরব ফিরে যান তিনি। প্রবাসে থেকে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে হিমায়ারার নামে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান জব্বার। যার প্রমাণপত্র তার কাছে রয়েছে।
প্রবাসী আব্দুল জব্বারের দাবি, ২০২৪ সালে দেশে ফেরার পর শ্যালকের সুন্নতের অনুষ্ঠানের জন্য স্ত্রী হিমায়ারাকে এবং জমি কট নেয়ার জন্য শ্বশুড় হেলাল ও বড় চাচা শ্বশুড় বেলাল কে আরো ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে হিমায়ারা, তার বাবা ও বড় চাচাকে জমি কট নেয়ার জন্য মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেন জব্বার। পরে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক পরকীয়া প্রেমঘটিত বার্তা দেখে বিষয়টি শ্বাশুড়িকে জানান তিনি। কিন্তু শাশুড়ি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান।
পরিবারের শান্তি রক্ষায় আবারও সৌদি আরবে ফিরে যান আব্দুল জব্বার। তবে কিছুদিন পর এক ব্যক্তি ফোন করে জব্বারকে হুমকি দেন। যিনি নিজেকে হিমায়ারা’র প্রেমিক বলে দাবি করেন। ওই ব্যক্তি জব্বারকে জানিয়ে দেন, “তোমার হিমায়ারার ওপর কোনো অধিকার নেই। ফোনে কথা বলবে না, ফেসবুক থেকে ছবিও ছাড়বে না, সেই অধিকার হারিয়ে ফেলেছো।”
পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটলে জব্বার ও তাঁর পরিবার হিমায়ারা’র সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে এবং প্রবাস থেকে পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে উল্টো হুমকি দেয় হিমায়ারা, তার বাবা, মা ও বড় চাচা। অবস্থা বেগতিক দেখে নিজেদের বাঁচাতে হিমায়ারা খাতুন বাদি হয়ে জব্বার ও তার পরিবারের ৪ জনকে আসামি করে পাবনার আদালতে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে জব্বারের মোবাইল নাম্বার ব্লাকলিস্ট করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় হিমায়ারা ও তার পরিবার।
আর বিদেশ জীবনে কষ্টটার্জিত টাকার হিসাব না পেয়ে জব্বারের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মা বাদি হয়ে হিমায়ারার বাবা, মা, বড় চাচাকে আসামি করে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একটি মামলা দায়ের করেন।
জব্বারের মা বলেন, ‌’বিয়ের পর থেকে বউটা তাদের বাড়িতেই থাকতো। কখনও আমার বাড়িতে আসে নাই। হিমায়ারা ও তার মায়ের কাছে আমার ছেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতো। জমি কট রাখার জন্যও অনেকগুলো টাকা মেয়ের বাবা, চাচাকে দেয়া হয়েছে। পরে হিমায়ারা, তার বাবা-মায়ের নানারকম কীর্তিকালাপ দেখে আমার ছেলে যখন হিসাব চাইছে, টাকা চাইছে তখনই মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা নানাভাবে আমাদের হেনস্তা করছে, হুমকি দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমাদের নামে মিথ্যা মামলাও করছে। আমি ন্যায্য বিচার চাই।’
এ বিষয়ে জব্বারের স্ত্রী হিমায়ারা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি’ বলেন, সে আমাকে বউ দাবি করে, কিন্তু তার সে কোনো দায়িত্ব পালন করে না। কোনো ভরণ পোষণ দিবে না, আর হুট করে এসে বলবেন ১২ লাখ টাকা দিছি, এটা আমি মানবো নাকি। একটা বিবাহিত মেয়ে তার নিজের পরিবার, বন্ধু বান্ধব, ক্লাসমেটদের সাথে কথা বলবে না তো সে কি করবে। যেকোনো মানুষের জীবনে চলতে গেলে বন্ধু বান্ধব লাগবে, তাদের সাথে কথা বলতেই হবে। আর কথা বললেই যে তার সাথে খারাপ সম্পর্ক থাকবে তার কোনো মানে নাই। সে টাকা দেবার যে ডকুমেন্টস দিচ্ছে সেটা সত্যা নাকি মিথ্যা তা কোর্টে প্রমাণ হবে।’
এ বিষয়ে হিমায়ারা খাতুনের বাবা হেলালুর রহমান বলেন, ‌’আমরা যখন কোর্টে তার বিরুদ্ধে একটা মামলা দিছি, তখন সে আবার আমাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দিছে ১৪ লাখ টাকার। যে মামলার কোনো ভিত্তি নাই। আবার আমাদের সাথে প্রতারণা করছে সেটা হলো জব্বার আগে একটা বিয়ে করেছিল। সেই পক্ষের একটা বিয়ের উপযুক্ত মেয়েও অোছ। সেটা আমাদের কাছে লুকিয়েছিল। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের গ্রামে, ফাঁড়িতে, থানায় বসে কয়েকটা শালিস হয়েছে। সে কোনো শালিস ই মানে নাই। দুই পক্ষেরই কোর্টে মামলা চলমান। সেখানে যা হবার হবে।’
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। থানায় কোনো অভিযোগও আসেনি। যেহেতু বলছেন আদালতে মামলা করেছে উভয়পক্ষ তাহলে সেখানেই ফায়সালা হবে।’

মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, আরব আমিরাত

শারজাহ্ এয়ারপোর্ট আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা

মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, আরব আমিরাত প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
শারজাহ্ এয়ারপোর্ট আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, শারজাহ্ আজ থেকে শারজাহ্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সীমিত আকারে ফ্লাইট পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

শারজাহ্ মিডিয়া ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপটি একটি নির্ধারিত কর্মসূচীর অধীনে এবং বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।

যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে তাদের বিমান সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগ করে প্রস্থানের সময় নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর প্রশাসন যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসাবে বজায় রেখে, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে, মসৃণ কার্যক্রম এবং দক্ষ পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে।

কবি ও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর

শরিফ ওসমান হাদি : এক অদম্য উচ্চারণ

কবি ও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম
শরিফ ওসমান হাদি : এক অদম্য উচ্চারণ

নলছিটির ভোরের আলোয় যে শিশুর প্রথম কান্না,
কে জানত সেই কণ্ঠ একদিন হয়ে উঠবে জনতার ডাক।
ঝালকাঠির নদী-হাওয়ায় বড় হওয়া সেই তরুণ
বুকের ভেতর লালন করত এক অদম্য স্বপ্নের আগুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে
তিনি শুধু পাঠ নেননি—
রাষ্ট্র, ন্যায় আর মানুষের অধিকারের মানে
নিজের ভেতর গেঁথে নিয়েছিলেন শপথের মতো।
শ্রেণিকক্ষে ছিলেন শান্ত, যুক্তির দীপ্তিতে উজ্জ্বল,
কিন্তু রাজপথে ছিলেন বজ্রকণ্ঠ—
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করার
এক দৃপ্ত প্রতিজ্ঞা।
জুলাইয়ের উত্তাল দুপুরে
যখন শহর জেগে উঠেছিল প্রতিবাদের ঢেউয়ে,
তিনি দাঁড়িয়েছিলেন সামনের সারিতে—
চোখে আগুন, কণ্ঠে অদম্য সাহস।
তিনি বলেছিলেন,
মানুষের অধিকার কোনো দয়া নয়,
এটা জন্মগত—
এটা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
ইনকিলাবের পতাকা উড়িয়ে
তরুণদের ডেকেছিলেন জাগরণের পথে,
বৈষম্যের দেয়ালে লিখেছিলেন প্রশ্ন—
“কেন নয় সমতা, কেন নয় ন্যায়?”
তারপর একদিন—
পল্টনের ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ গুলির শব্দ।
রক্তে ভিজে গেল স্বপ্নের শার্ট,
নীরব হয়ে গেল এক জাগ্রত কণ্ঠ।
দূরদেশের হাসপাতালের শীতল কক্ষে
১৮ ডিসেম্বর থেমে গেল হৃদস্পন্দন,
কিন্তু থামেনি উচ্চারণ—
শহরের বাতাসে আজও তা প্রতিধ্বনি তোলে।
শাহবাগের পথে, মিছিলের ভিড়ে,
বিচারের দাবিতে কাঁপা স্লোগানে
তিনি ফিরে আসেন বারবার—
রক্তমাখা জুলাইয়ের প্রতিটি স্মৃতিতে।
মৃত্যু তাঁকে নিভিয়ে দিতে পারেনি,
বরং ছড়িয়ে দিয়েছে অগণিত হৃদয়ে।
তিনি এখন এক প্রজন্মের সাহস,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নাম।
শরিফ ওসমান হাদি—
তুমি কেবল একজন মানুষ নও,
তুমি এক সময়ের জ্বালা,
একটি জাতির বিবেকের রক্তাক্ত উচ্চারণ।

জেমস আব্দুর রহিম রানা কবি ও সাংবাদিক, মণিরামপুর, যশোর

ভবদহের কথকতা

জেমস আব্দুর রহিম রানা কবি ও সাংবাদিক, মণিরামপুর, যশোর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
ভবদহের কথকতা

রাস্তা দিয়ে নৌকা চলে
নদীতে নাই জল,
খেলার মাঠে মাছ ধরে সব
ভাসে শেওলা দল।
বলতে পার গল্প এসব
কেমন করে হয় ?
নদীর বুকে গরু চরে
পথে নৌকা বায় !
হ্যা-রে ভাই ! সত্যি এসব
দেখতে যদি চাও-
বাংলাদেশে যশোর জেলার
ছিয়ানব্বই যাও।
দেখবে সেথায় মানুষগুলো
আধেক মরে গেছে
সব হারিয়ে শুন্যপ্রাণে
কেবল বেঁচে আছে।
স্রোতের ভাঙন, বন্যা প্লাবন
সেসব কিছু নয়
বৃষ্টির জল জমে জমে
ঘটছে বিপর্যয়।
পলিমাটির উজান স্রোতে
ভবদহের বুক
ভরাট হয়ে নিলো কেড়ে
ছিয়ানব্ব‌ই এর সুখ।
নদীতে তাই সবুজ ডাঙা
গরু বাছুর চরে,
বর্ষা এলে কোমর জল হয়
চলার পথের পরে।
জল সরেনা সাতাশ বিলের
মাঠের ফসল নাই
গাছ গাছালি উজাড় হলো
দেনার দায়ে তাই।
গবাদিসব পশুগুলো
হাড় চামড়া সার
জলের দামে বেচতে হলো
রাখবে কোথায় আর ?
দুমুঠো ভাত, গরুর খাবার
পানের শুদ্ধ জল
অভাব সবি, নাইকো জাগি
একটি টিউবয়েল।
বুকটা সমান ডুবে আছে
কোথাও পানির নীচে,
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে হয়
তুলসী পিড়ি সেঁচে।
শিশুর মুখে বাড়তি খাবার
একটু গরুর দুধ
কে জোগাবে, কোথায় পাবে?
নেই সে সুযোগটুক।
কেউ বেচে খায় শাপলা শালুক
কেউবা শামুক খোটে-
বস্তা টেনে কেউ খেটে খায়
নওয়াপাড়ার ঘাটে।
মাছ ধরা এক কমোন পেশা
বউ বেটাতে মিলে
সারাটা রাত বশা ফেলে
কাটাতে হয় বিলে।
পুষ্টিহীনা মায়ের কোলে
রুগ্ন ছেলে কাঁদে
পেটে যে তার রয়ে গেছে
আজন্মের খিদে।
মেটেনা তার পেটের ক্ষুধা
শুকনো বক্ষ চুষে,
ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে
মায়ের বক্ষদেশে।
চালের গুড়ো গুলে তাহার
হতভাগ্য মা
বুকের দুধের অভাব মিটায়,
তৃষ্ণা মিটেনা।
পাখীর কুজন যায়না শোনা
বাড়ির আঙিনায়
এ যেন কোন বিরান ভূমি
শ্যামল শোভা নাই।
স্বাস্থ্যহীন ঐ কুকুরগুলো
দল বাধিয়া চলে
ক্ষুধার লাগি মাছ ধরে খায়
ঝাপ মারিয়া জলে।
বাশের সাঁকো প্রতিবাড়ি
খাটের পায়া জলে
মাচা বেধে কেউবা থাকে
পলিথিনের তলে।
তালের ডোঙা আছে বাধা
ঘরের খুটির সাথে
যোগাযোগের একটা বাহন
দিবস, মধ্য রাতে।
শিশুর মাজায় আঁচল বেধে
ঘুমায় রাতে মা,
চমকে উঠে থেকে থেকে
ঘুমতো আসে না।
এই বুঝি তার কোলের ছেলে
পড়লো না কি জলে
থেকে থেকে চমকে উঠে
মাছে পাখাল দিলে।
বৃদ্ধ, শিশু এক বিছানায়
কাটায় রাত্রিদিন
জন্ম -মৃত্যু খাটের পরে
দুঃখ সীমাহীন।
প্রসব ব্যথায় কাতর মাতা
সেইসে খাটের পরে,
বৃদ্ধ শ্বশুর শুয়ে আছে
যাহার একটি ধারে।
রান্না বান্না এক খাটেতে
পূঁজা-ভেলার পর,
শ্রাদ্ধ -বিয়ে স্কুল ছাদে
উপায় কি বা আর।
খেজুরভাঙা হয়না হেথায়,
রথযাত্রার মেলা
পোষ পাবনে পিঠা-পুলি
সখের যাত্রাপালা।
বিদ্যাদেবীর মন উচাটন
লক্ষ্মী তাহার সাথে,
বাস্তদেবীর চোখ ভরা জল-
উঠতে হবে পথে।
সাপের কামড়, পোকা মাকড়
করোনার নেই ভয়,
মরণ দিয়ে মরনভীতি
করছে এরা জয়।
শুন্য গোয়াল, দেবমন্দির
দেবতা সেই সাথে-
নিত্যপূঁজার কাঁসর ঘন্টা
নিথর হয়ে গেছে।
শ্মশান ঘাটে উঠেছে জল
বিদ্যালয়ের দ্বার
আধেক বছর বন্ধ থাকে
দেখবে কেবা আর?
পদ্মা নদীর উপর দিয়ে
রেলগাড়ি যায় চলে,
আমরা কি সব ভাসবো জলে
ছিয়ানব্বই বলে ?
এই পরিবেশ আর ক’বছর
থাকলে বহমান,
কালের খাতায় রইবে শুধু
ছিয়ানব্ব‌ই এর নাম।
স্তব্ধ হবে এই জনপদ
উজাড় হবে গাঁ
পেটের দায়ে ছাড়তে হবে
জন্মভূমির মায়া।
এরই মধ্যে কয়েক হাজার
গিয়েছে দেশ ছেড়ে
বাকীরা সেই পথ ধরেছে
যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
কতরাজা এলো গেলো
প্রতিশ্রুতি সার-
ভবদহ তেমনি আছে
হয়নি সংস্কার।
…. ….

(ছিয়ানব্বই, এক বর্ধিষ্ণু জনপদের নাম।বাংলাদেশের যশোর- খুলনা জেলার সীমান্তবর্তী পাশাপাশি ৯৬ টি হিন্দু অধ‍্যুষিত গ্রাম মিলে এই জনপদের ধারণা প্রতিষ্ঠিত । শিক্ষা সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য দেশ বিদেশের অনেকের কাছেও ছিয়ানব্বই নামটি খুবই পরিচিত। বিগত১৯৮৮ সাল থেকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় এই বিস্তৃত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করে যাচ্ছে। )

লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা
সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।

error: Content is protected !!