হিলারী হিটলার আভী
প্রায়শ্চিত্ত
পরিস্কার,পরিচ্ছন্নতা সহ মশক নিধন নিয়ে ফরিদপুর বাসীর মধ্যে একটি চাপা কষ্ট লুকিয়ে ছিল। এই বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল জুড়ে ছিল রাগ অভিমানের ক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় পরিস্কার, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একের পর সংবাদ প্রকাশ করা হলেও কতৃপক্ষের ছিল কোন মাথা ব্যাথা। অবশেষে পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঝিলটুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মডেল স্কুল) মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা।
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে মশার উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে। ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার বংশ বিস্তারস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রাস্তাঘাট ও জনসাধারণের স্থান দখলমুক্ত রাখতে হবে। জনসাধারণের সুবিধা অসুবিধা দেখার জন্য পৌরসভা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি,জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফরিদপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান সহ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্ত।
অনুষ্ঠানের শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর পরিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
পঞ্চগড়ের রামের ডাঙ্গা এলাকায় সম্প্রতি সংঘটিত প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পঞ্চগড় শহর শাখা।
গত ২৭ মার্চ ২০২৬ রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এ সময় সহযোগিতা প্রদান করেন পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শহীদুল ইসলাম।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা জয়নাল আবেদীন, শহর সেক্রেটারি মাওলানা নাসিরউদ্দীন, কর্মপরিষদ সদস্য মাঈনুদ্দীন ও মাওলানা কিবরিয়া এবং ২ নং ওয়ার্ড সভাপতি হাসিবুল ইসলাম।
মানবিক এই উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বারৈগাতী এলাকার প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকার তালতলা বাজারে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন। তিনি প্রতিদিন দোকানেই রাত্রিযাপন করতেন। তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। আসামীরা ধারণা করেছিল তিনি দোকানের ভেতরেই আছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দোকানে পেট্রোল ও কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দোকানে থাকা টিভি, ফ্রিজ, চাল, ডাল, আটা, আলু, মরিচ, বিস্কুটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ ঝালকাঠির বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১) আঃ মতিন হাওলাদার (৪৫), ২) আলমগীর তালুকদার (৪৮), ৩) আঃ জলিল শেখ (৪৪) ও ৪) মনির হোসেন (৪০)-এর নাম উল্লেখ করে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন রুস্তম খন্দকার। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বাদী বারেক খন্দকার বলেন, “আমার দোকান পোড়ানোর ঘটনায় মামলা করায় আঃ মতিনসহ আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি দিচ্ছে। তারাই আমার দোকান পুড়িয়ে আমাকে স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাদের নামে মামলা দিতে বলে। নির্বাচনের আগে বিএনপির লোকজনই দোকান পুড়িয়েছে, অন্য কেউ নয়—এমন কথা বলতে আসামীরা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে। আমাকে বলা হয়, তাদের নামে মামলা দিলে মামলার সব খরচ তারা বহন করবে এবং নতুন দোকান তৈরি করে দেবে। কিন্তু তারা যাদের নামে মামলা দিতে বলছে, তারা সবাই নেছারাবাদ কায়েদ সাহেব হুজুরের মাজারে গিয়ে শপথ করেছে যে তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাহলে আমি কেন তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেবো।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আসামী আঃ জলিল শেখ পূর্বেও এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিল এবং ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে আঃ মতিন হাওলাদার বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি বাদীকে কোনো ধরনের হুমকি দেইনি। আমার শত্রুদের প্ররোচনায় বাদী আমাকে হয়রানি করছে।”
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বাদীকে হুমকির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ক্যাপশনঃ মুদি দোকানী প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকার