শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

পিতার ভালোবাসা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫, ১:৪৯ পিএম | 387 বার পড়া হয়েছে
পিতার ভালোবাসা

রোজকার মতো সেদিনও রাতের খাবার শেষে বাবার কাছে গিয়েছিলাম। বাবা এখন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন, তাই আমি প্রতিদিনই তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কাটাতে যাই। আমরা দুই পিতা-পুত্রের রোজকার আড্ডা হয়।

সেদিনও বাবা তাঁদের ওয়ানপ্লাস স্মার্ট টিভিতে সানি দেওলের ‘নারসিম্মা’ সিনেমা দেখছিলেন। এই টিভিটা আমি জোর করে তাঁদের জন্য CSD ক্যান্টিন থেকে কিনে দিয়েছিলাম। বাবা সানি দেওলের বড় ভক্ত—তাঁর প্রায় সব সিনেমাই দেখেছেন, শুধু ‘মহল্লা ৮০’ বাদে। সেটা ভালো লাগেনি, তাই প্রথম ১৫ মিনিটেই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

আমি বললাম, “আজ আপনাকে ‘গদর ২’ দেখাবো।”
আমার OTT সাবস্ক্রিপশনে বাবার টিভিতে ‘গদর ২’ চালিয়ে দিলাম।

বাবা জিজ্ঞেস করলেন, “অফিস কেমন চলছে? স্টাফরা কষ্ট দিচ্ছে না তো?”

আমি হেসে বললাম, “না বাবা, স্টাফদের কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, আর কিভাবে আদর আর শাসনের ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়, সেটা তো আপনার থেকেই শিখেছি।”

এই সময় আমাদের প্রতিদিনকার চায়ের কাপ চলে আসে—একটা ফিকে চা বাবার জন্য (বাবার ডায়াবেটিস আছে), আর একটা আমার জন্য মিষ্টি চা। আমরা প্রতিদিন ঠিক এই সময় একসাথে বসে চা খাই।

চা শেষ করে বাবা বিছানায় শুয়ে পড়লেন আর আমি প্রতিদিনের মতো তাঁর পা কোলের ওপর তুলে নিয়ে মালিশ করতে লাগলাম।

হঠাৎ তিনি বললেন, “কোনো সমস্যা আছে?”

আমি বললাম, “না না, কিছু না।”

তিনি গম্ভীর মুখে বললেন, “আমি তোর বাবা। তোর মন বুঝি। আজ অফিসে অটোতে গেছিস, গাড়ি নি‌য়ে কেন গেলি না?”

আমি একটু হেসে বললাম, “এমনিই…”

তিনি আবার বললেন, “ঠিক করে বল, কি হয়েছে?”

আমি ধীরে ধীরে বললাম, “এইবার মেয়ের MBBS ভর্তি হওয়ার জন্য অনেক খরচ হয়ে গেছে। তাই গাড়ির ইন্স্যুরেন্স করাতে পারিনি। চারদিন পর বেতন পেলেই করাবো।”

“কত টাকা লাগে ইন্স্যুরেন্সে?”

“এই ধরুন, নয় হাজার চারশো টাকার মতো।”

বাবা সঙ্গে সঙ্গে মা’কে ডাকলেন, “সাবিত্রী! আমার ছোট ব্যাগটা এনে দে।”

মা এসে ব্যাগটা দিলেন আর দালানে গিয়ে বসে পড়লেন।

বাবা ব্যাগ খুলে দশ হাজার টাকা বের করে আমার হাতে দিলেন। বললেন,
“তোর বাবা এখনো বেঁচে আছে… তুই একজন অফিসার, অটো করে অফিসে যাবি না… কাল থেকে গাড়ি নিয়ে যাবি।”

আমি বললাম, “থাক বাবা, আর চারদিনের তো কথা।”

বাবা কিছুটা রেগে গিয়ে বললেন, “এত বড় হয়ে গেছিস যে এখন তোর বাবার কথা মানবি না? চুপচাপ রাখ আর পা টিপ।”

আমি আবার পা টিপতে লাগলাম।

একটু পরে বাবা বললেন, “এখন থেমে যা, আমার কাছে এসে শুয়ে পড়।”

বাবা তাঁর হাতের তালু মাথার নিচে রেখে শুয়ে ছিলেন—এটাই ছিল তাঁর ঘুমানোর ভঙ্গি। এতে তাঁর হাত ও কনুই একটা ত্রিভুজাকৃতি বালিশের মতো হয়ে যেত। আমি সবসময় সেই হাতে মাথা রেখে তাঁর পাশে শুয়ে পড়তাম। আজও ঠিক তাই করলাম।

টিভিতে তখন ‘গদর ২’ চলছিল। সেই দৃশ্য—যেখানে তারা সিং (সানি দেওল) তাঁর ছেলেকে একটি বুলেট মোটরবাইক কিনে দেয়। এই দৃশ্য দেখে বাবা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন।

তিনি বললেন, “সঞ্জু! আমারও ইচ্ছা ছিল, যখন তুই কলেজে পড়তি, তখন তোকে একটা বাইক কিনে দিই… কিন্তু পারিনি। পরিস্থিতি এমন ছিল যে তোমাদের শুধু লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়াটাই ছিল বড় সাফল্য… আমি বোধহয় ভালো বাবা হতে পারিনি।”

আমি চোখ ভিজে যেতে যেতে বললাম,
“না বাবা, এমন কথা বলবেন না। আপনি আমাদের সবকিছুই দিয়েছেন। আপনি কখনো ঘুষ খাননি, সৎ উপায়ে আমাদের মানুষ করেছেন। আজ আমরা যা কিছু, সব আপনার কারণেই। বাবা, আমি আপনাকে ভালোবাসি।”

বাবাও আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “আই লভ ইউ সঞ্জু।”

আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম…

… হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। বুকের কাছে একটা বালিশ চেপে ধরা ছিল।

চোখ খুলতেই মনে পড়ল—বাবা তো ২০১১ তেই আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন।

রাত তখন চারটা। মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল… চোখ বেয়ে জল পড়তে লাগল…

বাবাকে খুব মনে পড়ছে। ফোন খুলে বাবার একটা ছবি বের করে বুকের উপর রাখলাম। চোখ বন্ধ করে তাঁকে অনুভব করছি… মনে মনে বারবার শুধু একটা কথাই বলে যাচ্ছি—

“বাবা, আমি আপনাকে ভালোবাসি… বাবা, আমি খুব মিস করি আপনাকে।”

ইউএনও ছাতক ডিপ্লোম্যাসি চাকমা

কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে সাম্প্রতিক গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির সাথে জড়িতদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এ সময় ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। একজন জেল হাজতে। তবে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি মনোযোগ সহকারে গ্রামবাসীর বক্তব্য শোনেন এবং গত ২৫ মার্চ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন,অপরাধী যে-ই হোক, আইনের মাধ্যমেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন ইউএনও।এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবারের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ি সেবুল রেজা বলেন, এ পরিস্থিতি উত্তরণে গ্রামের ছাত্র-যুবক ও প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি “চোর নির্মূল কমিটি” গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুরির উপদ্রপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এলাকার চোরদের সম্প্রতি ডেকে এনে শাসানো হয়। কিন্তু এরপরও চুরি বন্ধ হয়নি। তার দাবি, ২৫ মার্চের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না; বরং তা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনায় ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ বাজারে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে আসায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।স্থানীয়রা বলেন, তারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং মাদক, চুরি ও সকল ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। সার্বিকভাবে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত পরিবার-সবার অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় এলাকার সর্বস্হরের শতশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও সংকট মোকাবিলায় ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নির্দেশনাটি বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ডিলাররা বেলা ১১টা থেকে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারতেন। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে দৈনিক তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশনাটি দাপ্তরিক ওয়েবসাইট কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তবে আজ শনিবার আজকের পত্রিকা থেকে যোগাযোগ করা হলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য নয়। এটি সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা।

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

জয়ের পথে ইরান

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
জয়ের পথে ইরান

গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশে অনবরত বোমাবর্ষণ করে চলেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ইসলামিক রিপাবলিককে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এত কিছুর পরও আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্য যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সামনে এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী’ হওয়ার একটি স্পষ্ট পথরেখা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারিতা এবং রণকৌশলের ভুলগুলোই মূলত ইরানের এই জয়ের পথকে প্রশস্ত করেছে, যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে টিকে থাকাই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আসল বিজয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানিদের ‘মুক্তির সময় এসেছে’ বলে অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ কমান্ডার ও মন্ত্রী নিহত হয়েছেন। কিন্তু শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন কার্যত দেশটির ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ না লাখো মার্কিন সেনা ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণবিপ্লব ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প এখন ইসলামিক রিপাবলিকের পতনের চেয়ে পর্দার আড়ালে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তির পথ খুঁজছেন। কেননা ইরান টিকে গেলে সেটি হবে তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয়।

দ্বিতীয়ত, ইরানের দ্বিতীয় বড় শক্তি হলো বিশ্বের অর্থনীতির অন্যতম ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হচ্ছে, যেই দেশটিকে তিনি কিছুদিন আগেও ‘নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে এক বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এক নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাবে আর কোনটি যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিরাপদে প্রতিটি তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে ২০ লাখ ডলার করে ফি দিচ্ছে। এমনকি তেলের বাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রে থাকা ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এটি ইরানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে; যে প্রণালি দিয়ে আগে জাহাজ চলাচলে ইরান এক পয়সাও পেত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত এক বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে যায় এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে তারা সেই অর্থ দিয়ে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তাঁরা ইরানের অস্ত্রশিল্পের ভিত্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও সময় পেলে ইরান আবারও সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম। হয়তো এই সক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন না, কিন্তু তাঁরা তাদের উত্তরসূরিদের জন্য এক চরম শক্তিশালী ইরানকে রেখে যাবেন।

পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ ইরানকে হয়তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। জনগণের তীব্র ক্ষোভ হয়তো ভবিষ্যতে এই শাসনের পতন ঘটাতে পারে, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টিকে থাকাটাই ইরানের কাছে এক বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

error: Content is protected !!