রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২

আলিঙ্গনে বাড়ে মানসিক প্রশান্তি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম | 61 বার পড়া হয়েছে
আলিঙ্গনে বাড়ে মানসিক প্রশান্তি

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আনন্দে বা দুঃসময়ে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরার প্রবণতা আমাদের আদিম পূর্বপুরুষ থেকে আসা এক সহজাত প্রবৃত্তি। বন্য প্রাণীরাও যেমন একে অপরের গায়ের লোম পরিষ্কার করে বা মমতা দিয়ে গা ঘষে সামাজিক বন্ধন তৈরি করে, মানুষের ক্ষেত্রেও স্পর্শ তেমনি নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের প্রতীক। আমাদের ত্বকের ভেতরে থাকা ‘সি-ট্যাকটাইল’ নামক বিশেষ স্নায়ু গ্রাহকগুলো হালকা স্পর্শে উদ্দীপিত হয়। এটি সরাসরি মস্তিষ্ককে শান্ত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। যখন কেউ কাউকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে তখন শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ বা ‘বন্ডিং হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মুহূর্তেই ভীতি ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে মনে গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।

আলিঙ্গনের স্থায়িত্ব ও স্বাস্থ্য়ের ওপর এর প্রভাব

স্পর্শের ধরন এবং স্থায়িত্বের ওপর এর শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা নির্ভর করে। ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির গবেষণায় দেখা গেছে:

১০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন আপনাকে মানসিকভাবে সচেতন ও সতর্ক করে তোলে। এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমায়।

২০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য়ের জন্য বিস্ময়করভাবে কার্যকর। দীর্ঘ আলিঙ্গন শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং হৃৎপিণ্ড শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আলিঙ্গনের উপকারিতা

স্পর্শের উপকারিতা শুরু হয় জন্মের একদম প্রথম মুহূর্ত থেকেই। নবজাতকের সঙ্গে মা-বাবার ‘স্কিন-টু-স্কিন’ কন্টাক্ট বা ত্বকের স্পর্শ শিশুর হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এটি শিশুর কান্না কমাতেও সহায়ক। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে কার্যকর। ২০০৬ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা যখন প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তখন কেবল সঙ্গীর হাত ধরলেই তাঁরা তাৎক্ষণিক মানসিক শান্তি অনুভব করেন। এমনকি অপরিচিত কারও সহানুভূতিশীল হালকা স্পর্শও মানুষের সামাজিক একাকিত্ব বা বর্জনের কষ্ট কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রোগপ্রতিরোধে আলিঙ্গনের ভূমিকা

নিয়মিত আলিঙ্গন আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত প্রিয়জনদের জড়িয়ে ধরেন, তাঁদের সাধারণ সর্দি-জ্বর হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। এমনকি তাঁরা অসুস্থ হলেও খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রিয়জনের নিয়মিত স্নেহপূর্ণ স্পর্শ শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে, যা বার্ধক্যের অনেক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

ডিজিটাল যুগে ‘স্পর্শের আকাল’ ও স্কিন হাঙ্গার

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে আমরা দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাই অনলাইন বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। ফলে মানুষের সঙ্গে মানুষের সরাসরি দেখা করা বা স্পর্শের অভাব প্রকট হচ্ছে। করোনা মহামারির লকডাউনের সময় বিশ্বজুড়ে মানুষ ‘স্কিন হাঙ্গার’ বা স্পর্শের তীব্র ক্ষুধার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। জাপানে তো এখন টাকা দিয়ে জড়িয়ে ধরা বা পাশে ঘুমানোর জন্য ‘কাডল ক্যাফে’ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। এটি প্রমাণ করে, হাজার হাজার ডিজিটাল সংযোগ কখনোই মানুষের সরাসরি একটি উষ্ণ স্পর্শের বিকল্প হতে পারে না।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও অন্যান্য

বিরোধ আর মামলার জালে বন্দী এক নাম—বিনো বালা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিরোধ আর মামলার জালে বন্দী এক নাম—বিনো বালা

 

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী (হাজীগঞ্জ ভাটিটারী) এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী বিনো বালা (৭০), পিতা টয়রা বর্মন, দীর্ঘদিন ধরে মন্টু রাম বর্মনের সঙ্গে জমি নিয়ে মামলায় জড়িয়ে আছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল, ১০-০৪-২৬ আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে

লালমনিরহাট জলা জজ কোর্ট সংশ্লিষ্ট স্টাফ গণেশ চন্দ্র বর্মন ও তার বিয়াই মন্টু রাম বর্মন সহ সহোযোগীদের
নিয়ে বিনো বালার বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা মামলা আপোষ-মীমাংসার কথা বলে জোরপূর্বক চারটি স্ট্যাম্পে বিনো বালার টিপসই (স্বাক্ষর) নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় বিনো বালার পুত্রবধূ বিষয়টি টের পেয়ে ঘরে ঢুকে টিপ দেয়া স্টাম্প গুলো কৌসলে হাতে নেয় এবং চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিনো বালার বড় ছেলে সন্তোষ বর্মন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গণেশ চন্দ্র বর্মন প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানির শিকার করছেন। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার পরপরই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীকে।

কেশবপুরে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভ ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

কেশবপুর(যশোর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
কেশবপুরে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভ ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

কেশবপুর উপজেলার বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক -কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ২১তম বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার কেশবপুর উপজেলা বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক -কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে কেশবপুর পইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চত্বরে এটি অনুষ্ঠিত হয়। কেশবপুর উপজেলা বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক – কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কালিয়ারই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সুফলাকাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস. এম. মুনজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অত্র সমিতির সহ- সভাপতি সুপ্রভাত কুমার বসুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, যশোর -৬ কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহমেদ, কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর পৌর শাখার আমীর প্রভাষক জাকির হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক সাইদুর রহমান, উপজেলা বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক – কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সেন গুপ্ত,এনসিপি কেশবপুর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী সম্রাট হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে আগত প্রধান শিক্ষকগণ, শিক্ষক- শিক্ষিকাবৃন্দ ও কর্মচারীবৃন্দ।

নীলফামারীতে কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত—মেধা বিকাশে নতুন দিগন্তের সূচনা

মোঃ রাব্বি রহমান নীলফামারী প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
নীলফামারীতে কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত—মেধা বিকাশে নতুন দিগন্তের সূচনা

 

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সৃজনশীল চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করতে ১১ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার সকালে নীলফামারী শহরের শিল্পকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫’। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যা জেলার শিক্ষা অঙ্গনে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
বিভিন্ন কেন্দ্র একযোগে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়া পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে অংশগ্রহণ করে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোর আশপাশে ছিলো উৎসাহ ও আগ্রহের দৃশ্য।
আয়োজকরা জানান, মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান, নৈতিকতা ও সৃজনশীল দক্ষতা যাচাই করা হয়। এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও আত্মবিশ্বাসী ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ বাড়ায় এবং তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।
পরীক্ষা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। ফলাফল প্রকাশের পর কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
সামগ্রিকভাবে, ‘কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫’ নীলফামারীর শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

মোঃ রাব্বি রহমান নীলফামারী তারিখঃ ১১-০৪-২০২৬ মোবাইলঃ ০১৬১৪৬৫৩৮৩১

error: Content is protected !!