শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

ট্রাম্পের আলটিমেটাম, মোজতবার সবুজসংকেত

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম | 30 বার পড়া হয়েছে
ট্রাম্পের আলটিমেটাম, মোজতবার সবুজসংকেত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গত সোমবার এক কৌতূহলী ঘটনার কথা জানতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের সময় যখন ঘনিয়ে আসছিল, ঠিক তখনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো তিনি এমন নির্দেশনা দিলেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।

ট্রাম্প যখন প্রকাশ্যেই ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন, পর্দার আড়ালে তখন চলছিল জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের সদস্যরাও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত জানতেন না আসলে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করার পাশাপাশি ইরানের অবকাঠামোতে ব্যাপক বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জানতাম না ঠিক কী হতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি ছিল একদম বন্য।’

আঞ্চলিক মিত্ররা ইরানের নজিরবিহীন পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ছিল। ইরানের ভেতরেও কিছু বেসামরিক মানুষ সম্ভাব্য হামলার হাত থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছিলেন। এগারোটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির শান্ত হওয়ার নেপথ্য কাহিনি সাজানো হয়েছে।

গত সোমবার সকালে হোয়াইট হাউসে যখন ইস্টার সানডের উদযাপন চলছিল, তখন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি মধ্যস্থতাকারীদের জানান, ইরানের পক্ষ থেকে আসা ১০ দফার প্রস্তাবটি ছিল ‘বিপর্যয় ও মহাবিপদ।’ এরপর শুরু হয় সংশোধনের এক বিশৃঙ্খল দিন। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে খসড়া চালাচালি করছিলেন। মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও চেষ্টা করছিলেন দুই পক্ষের দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে।

সোমবার রাত নাগাদ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির একটি নতুন প্রস্তাবে মার্কিন অনুমোদন পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি খামেনির সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে ছিল, যিনি সোমবার ও মঙ্গলবার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত গোপনীয় ও শ্রমসাধ্য। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে গুপ্তহত্যার হুমকি থাকায় খামেনি মূলত বার্তাবাহকদের মাধ্যমে চিরকুট পাঠিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন।

দুটি সূত্র জানিয়েছে, খামেনির পক্ষ থেকে চুক্তি করার অনুমতি দেওয়াটা ছিল একটি বড় ধরনের ‘ব্রেকথ্রু’ বা অগ্রগতি। আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, আরাগচি শুধু আলোচনার টেবিলেই নয়, বরং রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডারদেরও চুক্তিতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চীনও ইরানকে এই সংঘাত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিচ্ছিল।

তবে দিনের শেষে সোম ও মঙ্গলবারের সব বড় সিদ্ধান্ত খামেনির হাত দিয়েই এসেছে। ওই আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, ‘তাঁর সবুজ সংকেত ছাড়া এই চুক্তি সম্ভব হতো না।’ মঙ্গলবার সকাল নাগাদ অগ্রগতির লক্ষণ স্পষ্ট হলেও ট্রাম্প তাঁর সবচেয়ে ভয়ানক হুমকিটি দেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা মারা যাবে।’

কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যম খবর দেয় যে ইরান আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তবে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি তেমন ছিল না বরং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স হাঙ্গেরি থেকে মূলত পাকিস্তানিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্প ও তাঁর দলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে ছিলেন, যদিও ইসরায়েলিরা শঙ্কিত ছিল যে তারা পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে।

মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়। এর তিন ঘণ্টা পর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্স হ্যান্ডেলে চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশ করেন এবং উভয় পক্ষকে তা গ্রহণের আহ্বান জানান। এর পরপরই ট্রাম্পের কট্টরপন্থী মিত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে ফোন ও মেসেজ দিয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে চাপ দিতে থাকেন। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরাও বিভ্রান্ত ছিলেন। ট্রাম্প পোস্ট করার এক-দুই ঘণ্টা আগেও অনেকে বিশ্বাস করতেন যে তিনি যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করবেন।

অবশেষে পোস্ট করার কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি নেন। এরপর তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে কথা বলে চুক্তিটি চূড়ান্ত করেন। ট্রাম্পের পোস্টের ১৫ মিনিট পর মার্কিন বাহিনীকে অভিযান বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরাগচি পরে জানান, ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেবে।

ইরান আসলে কতটুকু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে বা নেতানিয়াহু কতদিন এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবেন, তা এখনো দেখার বিষয়। এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহুকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে—শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র চাপ দেবে যেন ইরান পারমাণবিক উপাদান ত্যাগ করে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি থেকে সরে আসে।

আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে হতে যাওয়া আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সম্ভবত ভ্যান্স। এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হতে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে এখনো বড় ফাঁক রয়ে গেছে, যার ফলে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে তাঁরা ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক হুমকির যারা সমালোচনা করেছিলেন, তাদের একহাত নেবেন। তাদের যুক্তি হবে, ট্রাম্পের হুমকির কারণেই এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ঠিক এর উল্টো যুক্তি দিচ্ছে, তবে তারা হয়তো ভাবছে ট্রাম্পের হুমকি সত্যিই শেষ হয়েছে কি না।

তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় কলেজছাত্রী নিহত

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৭ পিএম
চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় কলেজছাত্রী নিহত

চট্টগ্রামের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া। ৯ এপ্রিল(বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা দিতে কলেজে গিয়েছিলেন সামিয়া, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হল সামিয়ার, পরিবার বলছে ‘পরিকল্পিত হত্যা’।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা–লালখান বাজারমুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান তানিশা (২২) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রামের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের বারিক বিল্ডিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা দিলে গাড়ির সামনের সিটে বসা সামিয়া ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, সামিয়া জাহান তানিশা গতকাল পরীক্ষা দিতে কলেজে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে তিনি বন্ধু সাইদুল আলমের সাথে পতেঙ্গা বেড়াতে যান। ফেরার পথে সাইদুল আলম চালিত চট্টমেট্রো-গ-১১-৪০৩৪ নম্বরের একটি পুরানো প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় সামিয়া ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং চালক সাইদুল আলমও সামান্য আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সামিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাইদুল আলমও সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বন্দর থানার এসআই এরশাদ মিয়া জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান নিহত হয়েছেন। আহত চালককে পুলিশি হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
নিহত সামিয়ার বাসা নগরের রাহাত্তারপুল এলাকার ফুলতলীর শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটিতে। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তালেব পাটোয়ারী এবং মা নাসিমা সুলতানা। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করছেন।
নিহতের মামা গিয়াস উদ্দিন শিকদার জানান, সামিয়া তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তার বড় ভাই মাহমুদ সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত। আগামী ৩০ এপ্রিল তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে সামিয়ার অনেক পরিকল্পনা ছিল। মাত্র পাঁচদিন আগে ৪ এপ্রিল পরিবারের সাথে জন্মদিনও উদযাপন করেছিলেন তিনি।
তবে সামিয়ার পরিবার এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত সাইদুল আলম সামিয়াকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর পুলিশ সাইদুল আলমকে হেফাজতে নিয়েছে। তিনি নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকার বারৈপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং কাতার প্রবাসী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, সাইদুল আলম বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায়ই বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু প্রাইভেট কার নয়, বাইক থেকে শুরু করে, থ্রি-হুইলার সিএনজি এমন কি অনেক ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর শহর এলাকার পাবলিক বাসও ফ্লাইওভার অতিক্রম করার সময় সর্বোচ্ছ পিক়আপে বেপরোয়া গতিতে চলার ফলে যাত্রিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী হয়। ফ্লাইওভারের উপরে এসব দেখার বা নিয়ন্ত্রন করার কেউ নেই। ফ্লাইওভারে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার লোকজন।

গোসলের টিপস

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৬ পিএম
গোসলের টিপস

তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন এক বালতি শীতল পানিতে গোসল বা শাওয়ারের নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়ানোটাই যেন বড় স্বস্তির বিষয়। তবে আপনি কি জানেন, ভুল পদ্ধতিতে গোসল করলে তা আপনার ত্বক ও চুলের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে? গ্রীষ্মের তাপে শুধু যে আমাদের শরীর ঘামে, তা-ই নয়; বরং আমাদের বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা পানিতে খনিজ উপাদান ও লবণের মাত্রাও বেড়ে যায়। ফলে শীত বা বর্ষার গোসলের নিয়ম গরমে অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই এই তীব্র গরমে ত্বক ও চুল থেকে সতেজ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে আপনার গোসলের রুটিনে আনা চাই কিছু পরিবর্তন।

স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানিতে গোসল

অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই গরমকালে শীতল বা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। শীতল পানি ত্বকের চুলকানি কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে আপনি দীর্ঘক্ষণ সতেজ অনুভব করবেন এবং এটি আপনার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করবে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

রাতে ঘুমানোর আগে গোসল করুন

সারা দিনের ঘাম, ধুলাবালি আর ময়লা মিলে আমাদের ত্বকের রোমকূপগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে ভারী, আঠালো ও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। রাতে ঘুমানোর আগে একবার গোসল করে নিলে রোমকূপগুলো উন্মুক্ত হয় এবং মাংসপেশি শিথিল হয়। এ ছাড়া হালকা স্ক্রাবিং ত্বকের মরা কোষ দূর করে আপনাকে সতেজ অনুভব করাবে, যা সারা দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমে দারুণ সাহায্য করবে।

গোসলের পানিতে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করুন

সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে অ্যারোমাথেরাপি বা সুগন্ধি তেলের ব্যবহার খুবই চমৎকার কাজ করে। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা রোজমেরি অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। এই সুগন্ধি আপনার মন শান্ত করার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে শরীর চাঙা করে তুলবে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

বারবার গোসল এড়িয়ে চলুন

প্রচণ্ড গরমে বারবার গোসলের ইচ্ছা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে বারবার গোসল করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দিনে একবার ভালো করে গোসল করাই যথেষ্ট। যদি খুব বেশি গরম লাগে, তবে বারবার সাবান ব্যবহার না করে শুধু সাধারণ পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নিতে পারেন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

পানির গুণমান নিশ্চিত করুন

গ্রীষ্মকালে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানিতে লবণ ও খনিজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই হার্ড ওয়াটার বা খড় পানি চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এটি ত্বকও খসখসে করে দেয় এবং শ্যাম্পু ও সাবানের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাই সম্ভব হলে শাওয়ার ফিল্টার বা ওয়াটার সফটনার ব্যবহার করুন। পরিষ্কার পানি ত্বক ও চুলের অকালে ক্ষতি রোধে বেশি কার্যকর।

ত্বকের স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন

গরমকালে ত্বকের ওপর মৃত কোষের স্তর জমে যায়, যা থেকে ব্রণ ও র‍্যাশ হতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার বা দুবার স্ক্রাব করে ত্বক পরিষ্কার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন অতিরিক্ত স্ক্রাবিং না হয়। কারণ, এতে ত্বক জ্বালাপোড়া করতে পারে। গোসলের আগে মাথার ত্বক হালকা করে ব্রাশ করে নিলে খুশকির সমস্যা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। গোসল শুধু শরীর পরিষ্কার করার মাধ্যম নয়, এটি নিজেকে সতেজ রাখার প্রক্রিয়াও বটে। সঠিক নিয়মে গোসল করলে আপনি যেমন তপ্ত গরমে আরাম পাবেন, তেমনি আপনার ত্বক ও চুল সুন্দর হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন, ভালো ত্বক ও চুলের শুরুটা হয় সঠিক পানির ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর গোসলের অভ্যাস থেকে। তাই এই গরমে গোসলের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। তাতে সতেজ থাকতে পারবেন দিনভর।

সূত্র: ওয়াটার সায়েন্স ও অন্যান্য

ছুটির দিনে সন্তোষপুর

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
ছুটির দিনে সন্তোষপুর

ঢাকা থেকে বেশি দূরে নয় সন্তোষপুর। হাজার হাজার রাবারগাছ আছে এখানে। সেই বনে আছে বন্য বানরের লুকোচুরি। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নওগাঁও ইউনিয়ন সন্তোষপুরে এই রাবার বন। এক সাংবাদিক বন্ধুর পাঠানো ছবি দেখে উৎসাহী হয়ে উঠি যাওয়ার জন্য। ঝটপট বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। ছুটির দিনে আপনারাও কিন্তু চলে যেতে পারেন।

যানজটের ভয়ে ভোর চারটায় গাড়ি ছাড়ি। তারপরও কপাল মন্দ হলে যা হয়। জটেই পড়ে রইলাম। মাওনা পার হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি মিলল। এক টানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুলবাড়িয়ার কান্দানিয়া গ্রামে পৌঁছাতে পেরেছি। স্থানীয় সেই সাংবাদিক বন্ধু জানালেন, এখানে বানর দেখার মোক্ষম সময় বিকেলবেলা। তাই অনুমতি নিয়ে ঢুঁ মারি দুলমা গ্রামের দীপ্তি অর্কিডস বাগানে।

প্রধান ফটক পেরিয়ে বাগানে ঢুকতেই চোখ জুড়িয়ে যায়। শক্ত পাতার আবরণে লাল, হলুদ, সাদা, বেগুনি ইত্যাদি রঙের নানান ফুল ফুটে আছে। প্রায় ২৬ একর জায়গাজুড়ে এই অর্কিড বাগান। এ ছাড়া আরও আছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গাছপালা। বাগানজুড়ে পাখির কলতান। বেশ ভালো লাগা সময় পার হলো।
নামাজ শেষে হেঁটে চলে গেলাম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গুপ্ত বৃন্দাবন গ্রামে। জায়গাটা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল জেলার সীমানায় পড়েছে। সেখানে রয়েছে একটি প্রাচীন তমালগাছ। এর সঠিক বয়স কেউই ‘সঠিক’ভাবে বলতে পারেন না। তবে শতাধিক বছর যে পেরিয়েছে, সেটা নিশ্চিত। স্থানীয় এক পুরোহিত জানালেন, তমালগাছটি নাকি একবার মারা যাওয়ার প্রায় ১২ বছর পর নতুন করে ডাল-পালা-পাতা গজিয়েছে! গাছটি দেখতেও বেশ অদ্ভুত। অনেকখানি জায়গাজুড়ে এর বিস্তৃতি। প্রকৃতি ও বৃক্ষপ্রেমী মির্জা রাসেল জানালেন, এটা তমাল নয়। তবে বিরল প্রজাতির কোনো বৃক্ষ। গাছের নাম যা-ই হোক না কেন, বর্তমানে একে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনা চলে। দর্শনার্থীদের জন্যও এটি বেশ আকর্ষণীয়। গাছ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে করতে ছুটি সন্তোষপুর রাবারবাগানের পথে।
ছবি: দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

সুনসান নিরিবিলি গ্রাম্য পথে গাড়ি চলছে বেশ দ্রুতগতিতে। দুই পাশে স্বপ্নময় নিসর্গ, পাকা ধানের সুগন্ধ, সিজনের পাকা আনারসের ঘ্রাণ নিতে নিতে কখন যে সন্তোষপুর পৌঁছে গিয়েছিলাম, টের পাইনি। গাড়ি থামে বনের ভেতর রাবার প্রক্রিয়াকরণ কারখানার দরজায়। ভেতরে ঢুকে রাবার তৈরির প্রক্রিয়া দেখে বনের পথ ধরে বিট অফিসের দিকে হাঁটতে থাকি।

নয়নাভিরাম সন্তোষপুর বনাঞ্চল ১০৬ একর জমি নিয়ে বিস্তৃত। এই বনে রয়েছে শাল-গজারিসহ নানান জাতের গাছ। এ ছাড়া আরও আছে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রাবারবাগান। বুনো ঘ্রাণ আর শেষ বিকেলে ঘরে ফেরা বিভিন্ন পাখির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে পৌঁছে যাই বন বিট অফিসের সামনে। এই পাশটায় যেন বানরের সভা বসেছে! নানান বয়স আর আকারের বানর। দোকানিদের কাছ থেকে কলা, বাদাম কিনে আমরাও বানরের বাঁদরামিতে অংশ নিই। আশ্চর্য বিষয়, বানরগুলো আমাদের কোলে, কাঁধে একেবারে নির্ভয়ে এসে উঠে বসল! আমরা যেন ওদের কত চেনা-পরিচিত।

ছবি: দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সন্তোষপুরের এই বনে বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় ৫০০ বানর রয়েছে। আগে আরও অনেক ধরনের প্রাণীর দেখা মিলত। কিন্তু প্রাকৃতিক বনের বুকে আশির দশকে রাবারবাগান সৃজন আর মানুষের উৎপাতে এখন শুধু বানরকুলই কোনোরকমে টিকে আছে। বন বিভাগ থেকে বানরের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকলেও তা অপ্রতুল। তাই বনে ঘুরতে আসা মানুষদের দেওয়া খাবারই এখন তাদের ভরসা। স্থানীয়রা এদের সামাজিক বানর হিসেবেই আখ্যায়িত করে। কারণ, এরা সাধারণত উৎপাত করে না। তবে বনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কেউ যদি খাবার না দেয়, তাহলে খুব অসহায়ভাবে তার কাঁধে বা কোলে বসে থাকবে। অগত্যা হাড়কিপ্টে মানুষও বানরের জন্য কিছু টাকা খরচে বাধ্য হয়। ভ্রমণপিয়াসি মানুষ আর বানরের অভূতপূর্ব মিলনের মাঝেই দিনের আলো মিলিয়ে গেল। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও ফিরতি পথ ধরতে হলো।

যাবেন যেভাবে

নিজস্ব বা ভাড়ার গাড়ি নিয়ে গেলে ঘুরতে সুবিধা বেশি। তবে ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বিভিন্ন পরিবহনের বাসে উঠে নামতে হবে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অর্কিড বাগান। ইচ্ছা করলে সারা দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে একেবারে সন্তোষপুর রাবারবাগানসহ আরও আশপাশ ঘুরে আসা যায়। যাঁরা শুধু সন্তোষপুর বানরপল্লি যেতে চান, তাঁরা ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে অটোরিকশায় সরাসরি চলে যেতে পারেন।

error: Content is protected !!