সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

দামুড়হুদায় পাওনা টাকা চাওয়ায় মা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম: থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৬ পিএম | 9 বার পড়া হয়েছে
দামুড়হুদায় পাওনা টাকা চাওয়ায় মা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম: থানায় অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক পৈশাচিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন মা ও ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ইউনুচ আলীর ছেলে শিপলু আলীর কাছ থেকে একই গ্রামের জীবন আলীর ছেলে শিহাব (২২) গত দুই মাস আগে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে ২৩ হাজার টাকা ধার (হাওলাদ) নেন। ঋণের মেয়াদ শেষ হলেও শিহাব টাকা ফেরত না দিয়ে দিনের পর দিন নানা টালবাহানা শুরু করেন।

ভুক্তভোগী শিপলু আলী জানান, গত ৩রা এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় অভিযুক্ত শিহাবসহ তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শিপলুর বাড়ির সামনে আসে। অভিযুক্তরা হলেন:
১. শিহাব (২২), পিতা- জীবন আলী
২. আকরাম (৫৫), পিতা- মৃত আজিবার মন্ডল
৩. কামাল (৫০), পিতা- মৃত আজিবার মন্ডল
৪. জিয়া (৪০), পিতা- জীগার মন্ডল

অভিযুক্ত জিয়া পরিচিত হওয়ার সুবাদে শিপলুকে বাড়ি থেকে ডেকে বের করেন। শিপলু সরল বিশ্বাসে বাইরে আসামাত্রই কোনো কথা ছাড়াই অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। গালি দিতে নিষেধ করায় অভিযুক্তরা ধারালো দা দিয়ে শিপলুর মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারে।

শিপলু হাত দিয়ে তা প্রতিহত করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দাটি মাটিতে পড়ে যায়।
এ সময় শিপলুর চিৎকারে তার বাবা, মা ও স্ত্রী ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়।

হামলাকারীদের মারধরে শিপলুর মায়ের হাত ভেঙে যায় এবং পায়ের পাতায় ধারালো অস্ত্রের কোপ লাগে। এ সময় শিপলুর স্ত্রীকেও শ্লীলতাহানি ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলা শেষে অভিযুক্তরা পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য এবং এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং পুরো পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে শিপলু আলী বাদী হয়ে উল্লিখিত চারজনের নাম উল্লেখ করে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এই বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান: “আমরা এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, পাওনা।
টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এভাবে নিরীহ পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মেজর জেনারেল মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে এনডিসি প্রতিনিধি দলের বেনাপোল সফর

মেহেদী হাসান রিপন, স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১০ এএম
মেজর জেনারেল মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে এনডিসি প্রতিনিধি দলের বেনাপোল সফর

ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি)-এর ২৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রোববার বেনাপোল স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট (আইসিপি) পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। মেজর জেনারেল মোঃ মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা ও বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।সফরকালে প্রতিনিধি দলটিকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন বিজিবির যশোর দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন সদর দপ্তরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাহমুদুল হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, যশোর এফআইজি গ্রুপ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসকে এম কফিল উদ্দিন, যশোর ব্যাটালিয়নের আর্টিলারি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এবং দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশরাফুল হক।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, এনডিসি সদস্যরা প্রথমে বেনাপোল সদর ক্যাম্পে আয়োজিত এক কনফারেন্সে অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্যবহুল ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এরপর তারা বন্দরের কার্গো ইয়ার্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের আকর্ষণীয় যৌথ রিট্রিট প্যারেড প্রত্যক্ষ করেন।

চান্দিনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মহাসড়ক অবরোধ, ঘটনাস্থলে এমপি আতিকুল আলম শাওন

ইমদাদুল ইসলাম রনি, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ এএম
চান্দিনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মহাসড়ক অবরোধ, ঘটনাস্থলে এমপি আতিকুল আলম শাওন

চান্দিনা, কুমিল্লা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এলাকা। আজ রোববার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) বেলা আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে চান্দিনা থানাধীন বড় গোবিন্দপুর স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রিয় সহপাঠীকে হারানোর শোক এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বড় গোবিন্দপুর স্কুলের এক শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি যানবাহনের চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বড় গোবিন্দপুর স্কুলসহ আশপাশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বরকামতা গ্রাম উন্নয়ন পরিষদ সংগঠন এবং চান্দিনা উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে সড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি একটাই— “নিরাপদ সড়ক চাই এবং অবিলম্বে এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।” তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের অবহেলার কারণেই বারবার এই স্থানে প্রাণ হারাতে হচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক এবং চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান। তারা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রাথমিক আশ্বাস দেন।

​এমপি শাওনের প্রতিশ্রুতি ও অবরোধ প্রত্যাহার

​উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কুমিল্লা-০৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা পোষণ করেন। এমপি শাওন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন:

​”শিক্ষার্থীদের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এখানে দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের সন্তানদের আর কোনো প্রাণ এভাবে অকালে ঝরতে দেওয়া হবে না।”

​সংসদ সদস্যের কাছ থেকে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট ও জোরালো প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় পর অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় এখনো পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সরকার এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি চালু হয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান, আরএমও ডা. আব্দুস সামাদ, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন অর রশীদ এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে হাম-রুবেলা প্রতিরোধ সম্ভব হবে। এতে দেশের শিশুরা সুস্থ ও নিরাপদ থাকবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, টিকার কোনো ঘাটতি হবে না এবং সবাইকে দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করতে হবে। জেলা সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। এ কার্যক্রম টানা ১৫ দিন চলবে।

উল্লেখ্য, সারা দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং এতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা সহযোগিতা করছে।

error: Content is protected !!