চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে সরকারী জলাশয় বৈধভাবে লিজ নিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের চক্রান্তে লাখ লাখ টাকার দেশী প্রজাতির মাছ পুকুরে চেতনা নাষক মিশিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ, প্রেক্ষিতে থানায় মামলায় অভিযোগ পাওয়া গেছে!
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ভোলাহাট উপজেলার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল বিলভাতিয়ার “তিয়োরবান” বিলে দূর্গাপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ৬ বছর মেয়াদে ১৪৩১ হতে ১৪৩৬ বাংলা পর্যন্ত ৬ বছর মেয়াদে জলাশয় বৈধভাবে লিজ নেয়। লিজ নেয়ার মেয়াদে জলমহালটিতে প্রকৃতির নানা দুর্যোগ আর প্রখর খড়া, বৃষ্টি বর্ষায় মাছ চাষাবাদে নানা প্রতিকুলতার মধ্যদিয়ে বাঁধাগ্রস্ত হয়। এরই মধ্যে গত (১৮ মার্চ ২০২৬) গভীর রাত প্রায় ১টা ১০ মিনিটে ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের সুরানপুর ও তিলোকী গ্রামের ১টি দুষ্কৃতিকারী চক্রের দল হিংসার বশবর্তী হয়ে ঐ পুকুরের জোগানদার আব্দুর রাকিবকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে পুকুরে থাকা মাছগুলিকে চেতনানাশক টেবলেট ব্যবহার করে ৪টি পুকুরের মাছ ধরে এবং বাকী পুকুরে থাকা মাছগুলি মারা যায় বলে প্রত্যক্ষ করা গেছে।
এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুকুরগুলিতে থাকা চাষাবাদকৃত দেশী প্রজাতির মাছের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানান মূল ইজারাদারের সহকারী মোঃ টনি খান। ঘটনার পরের দিন (১৯ মার্চ ২০২৬) সকাল প্রায় ৬টা ২০ মিনিটে বিলে কাজে আসা কৃষকগণ পুকুর জোগানদার আব্দুর রাকিবকে উদ্ধার করে। পরে ইজারাদারের সহকারীসহ অন্যান্যদের খবর দিলে ঘটনাস্থল স্থানীয় সাংবাদিকগণ প্রত্যক্ষ করেন।
মৎস্যজীবি জিন্নাত রহমান বলেন, আমরা সরকারের কাছে টাকা দিয়ে বৈধভাবে জলমহাল লিজ নিয়ে দুষ্কৃতিকারী চক্রের লোকেরা এ ধরণের ক্ষতিসাধন করলো এর আমরা সঠিক ক্ষতিপূরণসহ ন্যায্য বিচারের জোর দাবী জানাচ্ছি সরকার বাহাদুর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রশাসনের কাছে। নইলে ইজারাদারসহ আমরা মৎস্যজীবিরা এই মাছের উপরই রুটিরুজি। আমাদের ক্ষতিপূরণ না হলে নির্ঘাৎ মাঠে মারা মরবো বলে জানান।
আরো জানা যায়, পুকুর জোগানদার আব্দুর রাকিব এ প্রতিবেদককে জানান, ঘটনার দিন (১৮ মার্চ ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে দুষ্কৃতিকারী চক্রের ১টি দল আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে ৪টি পুকুরে চেতনানাশক টেবলেট মিশিয়ে সব পুকুরের মাছ মেরে নেয় এবং পুকুরে থাকা বাকীসব মাছগুলি মারা যায়।
৬ বছর মেয়াদী সরকারী নিয়মনীতি মেনে বৈধভাবে লিজ নিয়ে একটি দুষ্কৃতকারী চক্র হিংসার বশবর্তী হয়ে ৪টি পুকুরের দেশী প্রজাতির মাছ মেরে ফেলেছে একই এলাকার ১টি দুষ্কৃতিকারী। তাদের মধ্যে ৬ জন উল্লেখযোগ্য-১। মোঃ রিপন (২৫), পিতা-মোঃ মোহবুল, ২। মোঃ মোহবুল, পিতা-মৃত আমজাদ হোসেন, উভয়ের গ্রাম-তিলোকী, ৩। মোঃ মিলন (২২), পিতা-মোঃ কালাম, ৪। মোঃ কালাম (৪৫), পিতা-মৃত লোকমান, ৫। মোঃ আব্দুল আওয়াল (৫০), পিতা-মৃত লোকমান, ৬। মোঃ শরিফুল (২৮), পিতা-মোঃ মুর্শেদ কানা, সর্বগ্রাম- সুরানপুর (নয়াপুকুর)।
এ ঘটনায় ভোলাহাট থানায় দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আইও এস.আই মোঃ শফিক বলেন, ঘটনার মামলার প্রেক্ষিতে ২১ মার্চ বিবাদীদের সাথে কথা হয়েছে, তারা এই ঘটনায় জলাশয়ের আবাদকৃত মেরে ফেলা মাছগুলির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিলে সমঝোতা হবে নতুবা মামলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।