মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

হুমকির মুখে ভারতের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আউটসোর্সিং শিল্প

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:২১ পিএম | 5 বার পড়া হয়েছে
হুমকির মুখে ভারতের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আউটসোর্সিং শিল্প

বিশ্বজুড়ে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) রাজত্ব। এ অবস্থায় উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছে ভারতের প্রযুক্তি খাতের। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যাক-অফিস বা আউটসোর্সিং শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে পারে এআই—এমন আশঙ্কায় গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। প্রচলিত সফটওয়্যার ও আইটি খাতের শেয়ারের বিশ্বব্যাপী দরপতনের অংশ হিসেবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও ভারতের জন্য এর গুরুত্ব অনেক বেশি।

গত সাড়ে তিন দশকে ভারতের সফটওয়্যার শিল্প লাখ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এর ওপর ভর করেই দেশটিতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন এক বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে। এই খাতের আয় গত ৩০ বছর ধরে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও গুরগাঁওয়ের মতো বড় শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্ট, গাড়ি ও রেস্তোরাঁর চাহিদাকে চাঙা রেখেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ভারতের ১০টি শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানির সূচক ‘নিফটি আইটি’ এ বছর প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের কয়েক হাজার কোটি ডলারের মূলধন উবে গেছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে এনথ্রোপিক-এর ‘ক্লদ’ এজেন্ট একটি নতুন টুল বাজারে আনার ঘোষণা দিলে এই আতঙ্ক শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই টুল আইনি জটিলতা ও ডেটা প্রসেসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে সক্ষম। এটি মূলত ভারতের শ্রমনির্ভর আইটি শিল্পের ব্যবসায়িক মডেলে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন কিছু উদ্যোক্তা সতর্ক করেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে আইটি সেবা খাতের অনেক কাজ বিলুপ্ত হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এমনও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এআই এন্ট্রি-লেভেলের হোয়াইট-কলার চাকরির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

এই উদ্বেগের মধ্যে ভারতের আইটি জায়ান্টগুলো পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, এই আতঙ্ক অতিরঞ্জিত। এআই নতুন সুযোগ তৈরি করবে, যদিও এতে কাজের ধরনে কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক জেফারিস এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজের ধরন এখন পরামর্শ (অ্যাডভাইজরি) ও বাস্তবায়নের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এতে অ্যাপ্লিকেশন ম্যানেজড সার্ভিসেস বা প্রথাগত সেবা খাত থেকে আয় ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে।’

সহজভাবে বললে, ব্যাংক বা তেল কোম্পানির মতো গ্রাহকদের সফটওয়্যার চালানো, বাগ ঠিক করা ও আপডেট ব্যবস্থাপনার জন্য যে ফি পেত ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলো, তা কমে যাবে। পরিবর্তে পরামর্শভিত্তিক উচ্চমূল্যের কিন্তু কম নিয়মিত কাজ বাড়বে।

জেফারিসের মতে, এটি আয়ের প্রবৃদ্ধি ও কর্মীদের চাহিদার ওপর মৌলিক প্রভাব ফেলবে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর আইটি কোম্পানিগুলোর আয় ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং ২০৩১ সালের পর প্রবৃদ্ধি পুরোপুরি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সব মতামত নেতিবাচক নয়। জেপি মরগান চেজ আইটি ফার্মগুলোকে ‘প্রযুক্তি বিশ্বের প্লাম্বার’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এআই জটিল কাজ দ্রুত করতে পারলেও সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো গ্রাহককে যেভাবে কাস্টমাইজড সেবা দেয়, সেটি এআইয়ের পক্ষে একা দেওয়া সম্ভব নয়। বরং তারা মনে করে, এআই টুল নির্মাতা ও আইটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়বে, যা কাজের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে।

ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইটি প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের সিইও সলিল পারেখও একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, এআই বরং সুযোগ বাড়াচ্ছে। বুদ্ধিমান টুল ব্যবহারের মাধ্যমে পুরোনো সিস্টেমগুলোকে আধুনিক করতে গ্রাহকদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিষ্ঠানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোই সবচেয়ে উপযুক্ত অবস্থানে আছে।

ইনফোসিসের হিসাব অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপার ও টেস্টারদের মতো ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ কাজ হারালেও ডেটা অ্যানোটেটর এবং এআই ইঞ্জিনিয়ারদের মতো নতুন ১৭ কোটি পদের সৃষ্টি হবে।

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ এখন এই মতের সঙ্গেই একমত হচ্ছেন। এইচএসবিসি তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে এআই বিস্তারের প্রধান মাধ্যম হবে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোই।

এআই প্রশিক্ষণ: বিশ্বের অর্ধেক শ্রমশক্তি ভারতের ছোট শহর ও গ্রামেএআই প্রশিক্ষণ: বিশ্বের অর্ধেক শ্রমশক্তি ভারতের ছোট শহর ও গ্রামে
‘সফটওয়্যার উইল ইট এআই’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহৎ এআই সিস্টেমে মৌলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই এগুলো দিয়ে বড় বড় এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সরাসরি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। যদিও ছবি তৈরির মতো কিছু ক্ষেত্রে এগুলো কার্যকর হতে পারে।

এইচএসবিসি আরও যোগ করেছে, বহু দশক ধরে তৈরি এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার প্রায় ত্রুটিমুক্ত, উচ্চ গতিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য। এসব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত মেধাস্বত্ব (আইপি) উন্মুক্ত ইন্টারনেটের তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে জটিল সফটওয়্যার আর্কিটেকচার তৈরিতে এআই এখনো অনেক পিছিয়ে।

তবুও, এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ধাক্কা থেকে আইটি খাত পুরোপুরি রেহাই পাবে না। জেপি মরগান বলছে, এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব এখনই পরিমাপ করা কঠিন হলেও শিল্পের বিভিন্ন স্তরে এর কম্পন অনুভূত হচ্ছে।

এআই কেড়ে নিয়েছে অফিসের ৭৫ শতাংশ কাজ, কিন্তু কর্মীদের খাটুনি বেড়েছে ৫ গুণএআই কেড়ে নিয়েছে অফিসের ৭৫ শতাংশ কাজ, কিন্তু কর্মীদের খাটুনি বেড়েছে ৫ গুণ
ভারতের সফটওয়্যার খাতের সংগঠন ন্যাসকমের মতে, শিল্পটি ইতিমধ্যে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে শুরু করেছে। ২০২৫ সাল হবে এই খাতের একটি বাঁক বদলের বছর, যখন প্রযুক্তি শিল্প এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে সরাসরি এটি বাস্তবায়নের পথে হাঁটা শুরু করেছে।

তবে ২০২৫ সালে মোট ৩১৫ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে এআই–সম্পর্কিত প্রকল্প থেকে আয় মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরে খাতটির সামগ্রিক আয় প্রায় ৬ শতাংশ বাড়তে পারে, যা আগের সময়ের তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে, কর্মী নিয়োগের হারও থাকবে মন্থর। ২০২৬ সাল নাগাদ নতুন কর্মী নিয়োগের হার মাত্র ২.৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এআইয়ের ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায়ের ধরনও বদলাচ্ছে। কাজের ঘণ্টা নয়, বরং ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণের প্রবণতা বাড়ছে বলে জানিয়েছে ন্যাসকম।

ঈদের কেনাকাটা: ক্যাশলেস লেনদেন কতটা নিরাপদঈদের কেনাকাটা: ক্যাশলেস লেনদেন কতটা নিরাপদ
স্বল্পমেয়াদে এই খাতের জন্য চাপ এড়ানো কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। নুভামা ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজের মতে, আইটি ফার্মগুলোর আয় প্রাথমিকভাবে কমবে এবং এআইয়ের সুফল কেবল মধ্যমেয়াদে দৃশ্যমান হবে।

প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছাড়াও অন্যান্য চাপ রয়েছে। ভারতের জন্য শুল্ক–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বিধিনিষেধ বেড়েছে। মুডিস অ্যানালিটিকসের মতে, নতুন ভিসা ফির কারণে ভারতের শীর্ষ আইটি কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় ১০ থেকে ২৫ কোটি ডলার বাড়তে পারে, যা তাদের আয়ের প্রায় ১ শতাংশ। ভারতের সামগ্রিক সেবা রপ্তানির ৮০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে, তাই বর্তমান পরিস্থিতি এই শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি হয়েছে।

‎সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকার তিনতলা বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

‎মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়া হয়। বাহিনী প্রধানের বাড়িতে চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ। চোর শনাক্ত করতে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বাগেরহাট শহরের একজন ভাঙ্গারি দোকানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাই তার কোনও ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করা হতে পারে।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বাগেরহাটে ঝোড়ো বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোর চক্র বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ক্যামেরার নজর এড়িয়ে দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে মিটার পর্যন্ত প্রায় দুই কয়েল তামার তার কেটে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া এই তারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

‎বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। কারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত, তা উদঘাটনের জন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

মানিকগঞ্জের শিবালয় আরিচা ঘাটে যমুনা নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই স্নানে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ভারতের কলকাতা থেকেও অনেকে স্নানে অংশ নিতে আসেন।

এদিকে বারুণী স্নানকে ঘিরে আরিচা ঘাট-সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে বসেছে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা। সাধারণত এই মেলা তিন দিন স্থায়ী হলেও অনুকূল আবহাওয়া ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় তা সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত গড়ায়। এ বছর ঈদকে সামনে রেখে মেলার সময় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলায় নদীর তীরবর্তী চরে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট। হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জাসামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্য, বেতের জিনিস, মাটির পাত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খই, বাতাসা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারের সমাহার রয়েছে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন রাইডসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন। এ ছাড়া বেলুন, খেলনা ও নানা আকর্ষণীয় সামগ্রীর দোকান শিশুদের কাছে বাড়তি আনন্দ যোগ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে এই মেলা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

জানতে চাইলে তেওতা জমিদারবাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মহাবারুণী স্নান। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে যমুনার জলে অবগাহন করলে মানুষের পাপমোচন হয়। গঙ্গা যেমন সবার পাপ বহন করতে সক্ষম, তেমনি গঙ্গার রূপিণী বারুণী মহাদেবীর কৃপায় ভক্তদের পাপ থেকে মুক্তিলাভের বিশ্বাস রয়েছে। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও মিলনের এক অনন্য বন্ধনে মানুষকে আবদ্ধ করে। স্নান শেষে ভক্তদের পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি হয়, যা বারুণী স্নানের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য বহন করে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানান, বারুণী স্নানে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার জানান, বারুণী স্নানকে ঘিরে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্নানার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।

সাধারণত সংকটকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকে সোনা কিংবা মার্কিন ডলার। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রথাগত এই সম্পদগুলোকে পেছনে ফেলে অন্য একটি সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে এর দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। সেটি হলো বিটকয়েন।

ইনভেস্টোপিডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিটকয়েনের (BTC USD) দাম ৭২ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। তেল ও শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামার মধ্যেই বিটকয়েনের এ উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিটকয়েনের এই উত্থান একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কারণ, এতদিন বিটকয়েনে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ধরা হতো এবং এর আগে কোনো সংকটে এটি ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে পারফর্ম করেনি।

এ বিষয়ে ‘আইএনআরগ্রিড স্টেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরী বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি সোনা ও মার্কিন ডলার—দুটোকেই ছাড়িয়ে গেছে, যা সংকটকালে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রচলিত নিরাপদ সম্পদের মতো বিটকয়েন শুধু ধরে রাখার বিষয় নয়; এটি ব্যাংক বা সরকারি অবকাঠামো ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায়। যখন পুঁজি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন এই গতিশীলতাই এর বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।’

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ না কমায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিটকয়েন সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ বা ঝুঁকি মোকাবিলার হাতিয়ার হতে পারে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা বলছে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

ইনভেস্টোপিডিয়া ও ফারসাইড ইনভেস্টরসের তথ্যমতে, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে আইশেয়ার্স বিটকয়েন ট্রাস্ট এবং ফিডেলিটি ওয়াইজ অরিজিন বিটকয়েন ফান্ডের মতো বিটকয়েন সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোতে ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জমা হয়েছে।

অনুজ চৌধুরী আরও যোগ করেন, ‘বিটকয়েনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (সেলফ-কাস্টডি) আর্থিক নিরাপত্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। সোনা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে, মুদ্রা জব্দ করা যেতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা বিটকয়েন মালিকের কাছেই থেকে যায়, তার অবস্থান বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। এই সার্বভৌমত্ব, সীমান্তহীন স্থানান্তরযোগ্যতা এবং স্থিতিস্থাপকতাই বিটকয়েনকে বর্তমানের খণ্ডিত বিশ্বে একটি নতুন যুগের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।’

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কিংবা কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় সংকটের সময়ও বিটকয়েনের লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিক বাজারে বিটকয়েনকে একটি নমনীয় অবস্থানে দেখছেন। এর ভূমিকা মূলত বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বিটকয়েনকে এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিটকয়েন কেনে না, তাই রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে এর ভূমিকা সীমিত। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছরে তাদের সোনার মজুত বাড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতের সময় সোনার দাম অন্য সব সম্পদকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় সোনার দামে তেমন বড় উত্থান দেখা যায়নি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৩২৭.৪২ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলারের মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা কমে যায়। এ ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়। আর সুদের হার বেশি থাকার পূর্বাভাস থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

error: Content is protected !!