মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, আরব আমিরাত

শারজাহ্ এয়ারপোর্ট আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম | 90 বার পড়া হয়েছে
শারজাহ্ এয়ারপোর্ট আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, শারজাহ্ আজ থেকে শারজাহ্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সীমিত আকারে ফ্লাইট পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

শারজাহ্ মিডিয়া ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপটি একটি নির্ধারিত কর্মসূচীর অধীনে এবং বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।

যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে তাদের বিমান সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগ করে প্রস্থানের সময় নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর প্রশাসন যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসাবে বজায় রেখে, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে, মসৃণ কার্যক্রম এবং দক্ষ পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে।

কবি ও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর

শরিফ ওসমান হাদি : এক অদম্য উচ্চারণ

কবি ও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম
শরিফ ওসমান হাদি : এক অদম্য উচ্চারণ

নলছিটির ভোরের আলোয় যে শিশুর প্রথম কান্না,
কে জানত সেই কণ্ঠ একদিন হয়ে উঠবে জনতার ডাক।
ঝালকাঠির নদী-হাওয়ায় বড় হওয়া সেই তরুণ
বুকের ভেতর লালন করত এক অদম্য স্বপ্নের আগুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে
তিনি শুধু পাঠ নেননি—
রাষ্ট্র, ন্যায় আর মানুষের অধিকারের মানে
নিজের ভেতর গেঁথে নিয়েছিলেন শপথের মতো।
শ্রেণিকক্ষে ছিলেন শান্ত, যুক্তির দীপ্তিতে উজ্জ্বল,
কিন্তু রাজপথে ছিলেন বজ্রকণ্ঠ—
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করার
এক দৃপ্ত প্রতিজ্ঞা।
জুলাইয়ের উত্তাল দুপুরে
যখন শহর জেগে উঠেছিল প্রতিবাদের ঢেউয়ে,
তিনি দাঁড়িয়েছিলেন সামনের সারিতে—
চোখে আগুন, কণ্ঠে অদম্য সাহস।
তিনি বলেছিলেন,
মানুষের অধিকার কোনো দয়া নয়,
এটা জন্মগত—
এটা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
ইনকিলাবের পতাকা উড়িয়ে
তরুণদের ডেকেছিলেন জাগরণের পথে,
বৈষম্যের দেয়ালে লিখেছিলেন প্রশ্ন—
“কেন নয় সমতা, কেন নয় ন্যায়?”
তারপর একদিন—
পল্টনের ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ গুলির শব্দ।
রক্তে ভিজে গেল স্বপ্নের শার্ট,
নীরব হয়ে গেল এক জাগ্রত কণ্ঠ।
দূরদেশের হাসপাতালের শীতল কক্ষে
১৮ ডিসেম্বর থেমে গেল হৃদস্পন্দন,
কিন্তু থামেনি উচ্চারণ—
শহরের বাতাসে আজও তা প্রতিধ্বনি তোলে।
শাহবাগের পথে, মিছিলের ভিড়ে,
বিচারের দাবিতে কাঁপা স্লোগানে
তিনি ফিরে আসেন বারবার—
রক্তমাখা জুলাইয়ের প্রতিটি স্মৃতিতে।
মৃত্যু তাঁকে নিভিয়ে দিতে পারেনি,
বরং ছড়িয়ে দিয়েছে অগণিত হৃদয়ে।
তিনি এখন এক প্রজন্মের সাহস,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নাম।
শরিফ ওসমান হাদি—
তুমি কেবল একজন মানুষ নও,
তুমি এক সময়ের জ্বালা,
একটি জাতির বিবেকের রক্তাক্ত উচ্চারণ।

জেমস আব্দুর রহিম রানা কবি ও সাংবাদিক, মণিরামপুর, যশোর

ভবদহের কথকতা

জেমস আব্দুর রহিম রানা কবি ও সাংবাদিক, মণিরামপুর, যশোর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
ভবদহের কথকতা

রাস্তা দিয়ে নৌকা চলে
নদীতে নাই জল,
খেলার মাঠে মাছ ধরে সব
ভাসে শেওলা দল।
বলতে পার গল্প এসব
কেমন করে হয় ?
নদীর বুকে গরু চরে
পথে নৌকা বায় !
হ্যা-রে ভাই ! সত্যি এসব
দেখতে যদি চাও-
বাংলাদেশে যশোর জেলার
ছিয়ানব্বই যাও।
দেখবে সেথায় মানুষগুলো
আধেক মরে গেছে
সব হারিয়ে শুন্যপ্রাণে
কেবল বেঁচে আছে।
স্রোতের ভাঙন, বন্যা প্লাবন
সেসব কিছু নয়
বৃষ্টির জল জমে জমে
ঘটছে বিপর্যয়।
পলিমাটির উজান স্রোতে
ভবদহের বুক
ভরাট হয়ে নিলো কেড়ে
ছিয়ানব্ব‌ই এর সুখ।
নদীতে তাই সবুজ ডাঙা
গরু বাছুর চরে,
বর্ষা এলে কোমর জল হয়
চলার পথের পরে।
জল সরেনা সাতাশ বিলের
মাঠের ফসল নাই
গাছ গাছালি উজাড় হলো
দেনার দায়ে তাই।
গবাদিসব পশুগুলো
হাড় চামড়া সার
জলের দামে বেচতে হলো
রাখবে কোথায় আর ?
দুমুঠো ভাত, গরুর খাবার
পানের শুদ্ধ জল
অভাব সবি, নাইকো জাগি
একটি টিউবয়েল।
বুকটা সমান ডুবে আছে
কোথাও পানির নীচে,
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে হয়
তুলসী পিড়ি সেঁচে।
শিশুর মুখে বাড়তি খাবার
একটু গরুর দুধ
কে জোগাবে, কোথায় পাবে?
নেই সে সুযোগটুক।
কেউ বেচে খায় শাপলা শালুক
কেউবা শামুক খোটে-
বস্তা টেনে কেউ খেটে খায়
নওয়াপাড়ার ঘাটে।
মাছ ধরা এক কমোন পেশা
বউ বেটাতে মিলে
সারাটা রাত বশা ফেলে
কাটাতে হয় বিলে।
পুষ্টিহীনা মায়ের কোলে
রুগ্ন ছেলে কাঁদে
পেটে যে তার রয়ে গেছে
আজন্মের খিদে।
মেটেনা তার পেটের ক্ষুধা
শুকনো বক্ষ চুষে,
ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে
মায়ের বক্ষদেশে।
চালের গুড়ো গুলে তাহার
হতভাগ্য মা
বুকের দুধের অভাব মিটায়,
তৃষ্ণা মিটেনা।
পাখীর কুজন যায়না শোনা
বাড়ির আঙিনায়
এ যেন কোন বিরান ভূমি
শ্যামল শোভা নাই।
স্বাস্থ্যহীন ঐ কুকুরগুলো
দল বাধিয়া চলে
ক্ষুধার লাগি মাছ ধরে খায়
ঝাপ মারিয়া জলে।
বাশের সাঁকো প্রতিবাড়ি
খাটের পায়া জলে
মাচা বেধে কেউবা থাকে
পলিথিনের তলে।
তালের ডোঙা আছে বাধা
ঘরের খুটির সাথে
যোগাযোগের একটা বাহন
দিবস, মধ্য রাতে।
শিশুর মাজায় আঁচল বেধে
ঘুমায় রাতে মা,
চমকে উঠে থেকে থেকে
ঘুমতো আসে না।
এই বুঝি তার কোলের ছেলে
পড়লো না কি জলে
থেকে থেকে চমকে উঠে
মাছে পাখাল দিলে।
বৃদ্ধ, শিশু এক বিছানায়
কাটায় রাত্রিদিন
জন্ম -মৃত্যু খাটের পরে
দুঃখ সীমাহীন।
প্রসব ব্যথায় কাতর মাতা
সেইসে খাটের পরে,
বৃদ্ধ শ্বশুর শুয়ে আছে
যাহার একটি ধারে।
রান্না বান্না এক খাটেতে
পূঁজা-ভেলার পর,
শ্রাদ্ধ -বিয়ে স্কুল ছাদে
উপায় কি বা আর।
খেজুরভাঙা হয়না হেথায়,
রথযাত্রার মেলা
পোষ পাবনে পিঠা-পুলি
সখের যাত্রাপালা।
বিদ্যাদেবীর মন উচাটন
লক্ষ্মী তাহার সাথে,
বাস্তদেবীর চোখ ভরা জল-
উঠতে হবে পথে।
সাপের কামড়, পোকা মাকড়
করোনার নেই ভয়,
মরণ দিয়ে মরনভীতি
করছে এরা জয়।
শুন্য গোয়াল, দেবমন্দির
দেবতা সেই সাথে-
নিত্যপূঁজার কাঁসর ঘন্টা
নিথর হয়ে গেছে।
শ্মশান ঘাটে উঠেছে জল
বিদ্যালয়ের দ্বার
আধেক বছর বন্ধ থাকে
দেখবে কেবা আর?
পদ্মা নদীর উপর দিয়ে
রেলগাড়ি যায় চলে,
আমরা কি সব ভাসবো জলে
ছিয়ানব্বই বলে ?
এই পরিবেশ আর ক’বছর
থাকলে বহমান,
কালের খাতায় রইবে শুধু
ছিয়ানব্ব‌ই এর নাম।
স্তব্ধ হবে এই জনপদ
উজাড় হবে গাঁ
পেটের দায়ে ছাড়তে হবে
জন্মভূমির মায়া।
এরই মধ্যে কয়েক হাজার
গিয়েছে দেশ ছেড়ে
বাকীরা সেই পথ ধরেছে
যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
কতরাজা এলো গেলো
প্রতিশ্রুতি সার-
ভবদহ তেমনি আছে
হয়নি সংস্কার।
…. ….

(ছিয়ানব্বই, এক বর্ধিষ্ণু জনপদের নাম।বাংলাদেশের যশোর- খুলনা জেলার সীমান্তবর্তী পাশাপাশি ৯৬ টি হিন্দু অধ‍্যুষিত গ্রাম মিলে এই জনপদের ধারণা প্রতিষ্ঠিত । শিক্ষা সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য দেশ বিদেশের অনেকের কাছেও ছিয়ানব্বই নামটি খুবই পরিচিত। বিগত১৯৮৮ সাল থেকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় এই বিস্তৃত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করে যাচ্ছে। )

লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা
সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর

ভবদহে জলাবদ্ধতায় আবারও থমকে বোরো আবাদ: ৭ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম
ভবদহে জলাবদ্ধতায় আবারও থমকে বোরো আবাদ: ৭ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না ভবদহ অঞ্চলে। গত বর্ষার অতিবৃষ্টি ও নদ-নদীর নাব্যতা সংকটের প্রভাবে এবারও বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলে বোরো ধানের আবাদ সম্ভব হয়নি। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মনিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে মোট ৭ হাজার ২৪৩ হেক্টর জমি এবার অনাবাদি রয়ে গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় কিছু বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে, তবে বাস্তবে বিলের বড় অংশ এখনো পানির নিচে।
ভবদহ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত যশোরের মনিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে বিস্তৃত এ জলাভূমি। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৫২টি বিল রয়েছে। এসব বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী নদী, টেকা নদী, শ্রী নদী ও হরি নদী–এর জোয়ার-ভাটার সঙ্গে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না এবং বিল উপচে আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়।
গত বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাতে মনিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার বিলসংলগ্ন বহু গ্রাম পানির নিচে চলে যায়। বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, রাস্তাঘাট ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়। স্থানীয়দের হিসাবে, দুই লাখেরও বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় পানিবন্দী অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রী ও হরি নদীতে পরীক্ষামূলক চ্যানেল কেটে পানি নামানোর উদ্যোগ নেয়। এতে গ্রামাঞ্চলের পানি কিছুটা নেমে গেলেও অধিকাংশ বিল এখনো জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভবদহ অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার কৃষক রয়েছেন এবং স্বাভাবিক বছরে তিন উপজেলায় মোট ২৪ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে মনিরামপুরে ১২ হাজার ১০৪ হেক্টর, অভয়নগরে ৭ হাজার ৪০০ হেক্টর এবং কেশবপুরে ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি রয়েছে। এবার মোট ১৭ হাজার ৬৬১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৪ হেক্টর বেশি। তবে জলাবদ্ধতার কারণে ৭ হাজার ২৪৩ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্ভব হয়নি। উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে অভয়নগরে ১ হাজার ২৯০ হেক্টর, কেশবপুরে ২ হাজার ১৩০ হেক্টর এবং মনিরামপুরে ৩ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমি অনাবাদি রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিল বোকড়, বিল কেদারিয়া, বিল কপালিয়া, বিল ডুমুর, বিল ঝিকরা, বিল গান্ধীমারি, বিল গজালমারি ও বিল পায়রা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোমরসমান আবার কোথাও বুকসমান পানি জমে আছে। কোনো কোনো স্থানে পাঁচ থেকে সাত ফুট গভীর জল রয়েছে। কিছু উঁচু জমিতে কৃষকেরা অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে সেচযন্ত্রের সাহায্যে পানি সরিয়ে সীমিত আকারে বোরো চাষ করেছেন, তবে অধিকাংশ নিচু জমি এখনো অনাবাদি। পানির ওপর ভাসছে আগাছা, কচুরিপানা ও শাপলা।
মনিরামপুর উপজেলার একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, বিলের উঁচু অংশে কিছুটা চাষ করা গেলেও নিচু জমিতে এখনো পানি নামেনি। ফলে জমি পড়ে থাকছে এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ব্যক্তিগত খরচে সেচযন্ত্র ব্যবহার করে পানি সরানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু গভীর জলাবদ্ধতায় তা পর্যাপ্ত নয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকেরা ছোট বিলগুলো সেচের মাধ্যমে আবাদে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছেন। তবে পুনঃখননের জন্য নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়ায় শেষ সময়ে পানি নিষ্কাশন বিলম্বিত হয়েছে। অন্যদিকে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা দাবি করছেন, কৃষি বিভাগের উপস্থাপিত অনাবাদি জমির পরিমাণ বাস্তবতার চেয়ে কম দেখানো হয়েছে এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদী পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে এবং স্লুইসগেটের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিকাংশ পানি নামানো সম্ভব হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিমত, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত। নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, কার্যকর ড্রেজিং, সঠিক স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত পানি নিষ্কাশন পরিকল্পনা ছাড়া প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। এতে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও হাজারো কৃষক পরিবারের জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

error: Content is protected !!