ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিহাস
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিহাস হলো যাঁরা মহানবী (সাঃ) এর জানাজা ফেলে ক্ষমতার ভাগবাঁটোয়ারায় মত্ত ছিল, আজ তারাই অনেকের কাছে ‘মডেল’। কিন্তু সত্যের আয়না বড় নির্মম। মা ফাতেমার (সাঃ আঃ) এর জীবনের সেই শেষ দিনগুলোর দিকে তাকালে তথাকথিত বীরত্ব আর নেতৃত্বের মুখোশ চুরমার হয়ে যায়।
যে ঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে জিবরাঈল (আঃ) অনুমতি প্রার্থনা করতেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে সেই পবিত্র ঘরেই যারা আগুন দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল, তারা কি কোনোদিন মোমিন হতে পারে? দরজার আঘাতে যখন নবীনন্দিনীর পাজরের হাড় ভেঙেছিল, তখন কোথায় ছিল তাদের সেই কথিত ‘বীরত্ব’?
বাবার বিচ্ছেদে মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) যেখানে বসে একটু ডুকরে কাঁদতেন, সেই ‘বায়তুল হুজন’ (শোকের ঘর) কেন গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো? এমনকি যে গাছের ছায়ায় বসে তিনি অশ্রু বিসর্জন দিতেন, সেই গাছটি পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছিল কোন আক্রোশে? নবীর কন্যা কি তবে একটু কাঁদার অধিকারও হারিয়েছিলেন?
যারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক দাবি করত, তাদের সেই প্রতাপ কি কেবল মহানবী (সাঃ) এর এতিম কন্যার ওপরেই সীমাবদ্ধ ছিল? যারা তাঁর হক কেড়ে নিল, যারা তাঁকে ঘরহীন করল, তারাই আজ আপনাদের আদর্শ?
অবশেষে পৃথিবীর সব অবিচার যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল, মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) তাঁর বাবার রওজায় গিয়ে যে আর্তনাদ করেছিলেন, তা আজও আরশ কাঁপিয়ে দেয়। তিনি বলেছিলেন
বাবা! তুমি আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও, আমাকে মৃত্যু দাও; তোমার উম্মত আমাকে এত ‘সুখ’ দিয়েছে যে আমি আর সইতে পারছি না। মায়ের এই একটি বাক্যই যথেষ্ট সেই বিশ্বাসঘাতকদের আমলনামা স্পষ্ট করার জন্য। যারা মা ফাতেমার ঘর জ্বালিয়েছিল, তারা কোনোদিন ইসলামের আলো হতে পারে না। এই ইতিহাস কেবল শোকের নয়, এটি সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য চিনে নেওয়ার এক কঠিন মানদণ্ড। যারা আজ সাকিফাহর নায়কদের বন্দনা করে, তারা কি হাশরের ময়দানে মা ফাতেমার চোখের পানির মুখোমুখি হতে পারবে? নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন।

















