রমজানের সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়াতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা; দোয়া পরিচালনা করেন মোহতামিম মাওলানা জাফর আহমেদ
ফেনী জেলার লেমুয়া বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া এমদাদুল উলুম লেমুয়া মাদরাসার উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পবিত্র রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরতে এবং সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মাহফিলে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
রমজানের পবিত্র আবহে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলকে ঘিরে বিকেল থেকেই মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অতিথিদের বরণ করে নেন এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।
ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অতিথিরা রমজানের শিক্ষা, দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদরাসার সম্মানিত মোহতামিম মাওলানা জাফর আহমেদ। দোয়া মাহফিলে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করা হয়।
একই সঙ্গে মাদরাসার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং ভবিষ্যতে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন লেমুয়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক সংগঠন চম্পাকলির সাবেক সভাপতি শেখ ফরিদ, লেমুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কামরুল ইসলাম, দৈনিক প্রবাহন নিউ টিভির ফেনী জেলা স্টাফ রিপোর্টার আবু বক্কর ছিদ্দিক, দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ ফেনী জেলা প্রতিনিধি ও প্রবাহ নিউজ টিভির সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা জাফর আহমেদ বলেন, পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, “রমজান আমাদেরকে শুধু রোজা রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং এটি আমাদের আত্মিক উন্নয়ন ও নৈতিক চরিত্র গঠনের পথ দেখায়।
এই ধরনের ইফতার ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হওয়ার সুযোগ পায়। এতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হয়।”
তিনি আরও বলেন, মাদরাসাগুলো শুধু দ্বীনি শিক্ষাই প্রদান করে না, বরং সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
“আমরা চাই এই মাদরাসা থেকে শিক্ষার্থীরা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক,”—যোগ করেন তিনি।
লেমুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কামরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, রমজান মাস মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ত্যাগ ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, “এই মাস আমাদেরকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। সমাজে ন্যায়, শান্তি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
মাদরাসাগুলো আমাদের সমাজের নৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
সামাজিক সংগঠন চম্পাকলির সাবেক সভাপতি শেখ ফরিদ বলেন, সমাজের কল্যাণে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে।
জামেয়া এমদাদুল উলুম লেমুয়া মাদরাসা যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।” তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক আবু বক্কর ছিদ্দিক ও মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তারা বলেন, “দ্বীনি শিক্ষা মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়তা করে এবং সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।” তারা মাদরাসার উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। অনেকেই বলেন, রমজান মাসে এ ধরনের আয়োজন মানুষকে একত্রিত করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে মাদরাসার পক্ষ থেকে সকল অতিথি ও উপস্থিতিদের মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়।
ইফতার শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।